ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ট্রিপল মার্ডার: সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সরব ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বিএনপি নেতা নুরুল মোমিন চৌধুরী খোকন চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাচ্ছেন সিলেট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেল অপ্সরা আলতাফ চৌধুরী রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দকে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ও এটিএম তুরাব বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড প্রদান নারীদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় মাসুদুর রহমান সুমন দানবাক্সে লাখো টাকার দান, স্বচ্ছতায় নতুন দৃষ্টান্ত ২০ কোটি টাকার টেন্ডার থেকে গোপনীয় পরীক্ষা কার্যক্রম—সিলেট শিক্ষা বোর্ডে একের পর এক অভিযোগ, তদন্তের দাবি ! সিলেটে চিকিৎসকের কিশোর ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার শতাব্দী রায়ের বাড়িতে বিদ্রোহীদের বৈঠক, পশ্চিমবঙ্গে তৃনমূলে ভাঙনের ইঙ্গিত ! 

রাজনীতির আড়ালে কোটি টাকার খেলা; নাহিদ ইসলামকে ঘিরে সুরভীর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ !

ডেস্ক রিপোর্ট | ঢাকা:
  • আপডেট সময় : ০৯:১৭:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৫৬ বার পড়া হয়েছে

৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার কথিত জুলাই যোদ্ধা সুরভী এবার প্রকাশ্যে এনেছেন বিস্ফোরক তথ্য। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেছেন, এই চাঁদাবাজির অর্থ থেকে নাহিদ ইসলাম তার কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা ভাগ হিসেবে নিয়েছেন।

সুরভীর ভাষ্য অনুযায়ী, জেল থেকে বের হওয়ার পর তাকে দেখতে যাওয়ার ঘটনাটি রাজনৈতিক সহানুভূতির চেয়ে বেশি ছিল প্রচারণা ও ভাইরাল হওয়ার কৌশল। তার অভিযোগ, নাহিদ ইসলামের এই সফরের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল চাঁদার অর্থের হিসাব ও নিয়ন্ত্রণ।
সুরভীর দাবি এখানেই থামেনি। তিনি আরও বলেন, গাজীপুরের ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক এবং এনএসপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা প্রত্যেকে ১০ কোটি টাকা করে ভাগ পেয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো ঘটনাটি ছিল ৫০ কোটি টাকার একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক, যেখানে আদর্শ বা আন্দোলনের চেয়ে মুখ্য ছিল আর্থিক লাভ।

এখনো পর্যন্ত যাদের নাম অভিযোগে উঠে এসেছে, তাদের অধিকাংশের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এতো বড় অঙ্কের অর্থের উৎস কী? সংগঠনের ভেতরে বিষয়টি অজানা ছিল, নাকি সবাই জেনেও নীরব থেকেছে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো ‘যোদ্ধা আন্দোলন’ ও ‘নিপীড়ন’ শব্দগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চাঁদার অর্থনীতি গড়ে তোলার দাবি। রাজনীতিতে দুর্নীতি নতুন নয়, তবে বিপ্লবী বয়ানের আড়ালে চাঁদাবাজির এমন অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্টদের বড় অংশের নীরবতা নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মিথ্যা অভিযোগ হলে দ্রুত প্রতিবাদ আসে, আর সত্যের ওজন থাকলে নীরবতা সময় কেনে।

এই মামলার চূড়ান্ত সত্য নির্ধারণ করবে আদালত। তবে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই নৈতিক বিচারে রাজনীতিতে বড় ধরনের ক্ষয়ের ইঙ্গিত মিলছে।

অভিযোগ সত্য হলে এটি কেবল একজন সুরভীর অপরাধ নয়, বরং চাঁদাবাজিনির্ভর একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির নগ্ন চিত্র। আর অভিযোগ মিথ্যা হলে প্রশ্ন থেকেই যায়—এত বড় নাম জড়িয়ে এমন দাবি তোলার সাহস সুরভী পেলেন কোথা থেকে?

যেদিকেই সত্য যাক, একটি বিষয় স্পষ্ট—রাজনীতির নামে কোটি টাকার এই খেলায় সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজনীতির আড়ালে কোটি টাকার খেলা; নাহিদ ইসলামকে ঘিরে সুরভীর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ !

আপডেট সময় : ০৯:১৭:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার কথিত জুলাই যোদ্ধা সুরভী এবার প্রকাশ্যে এনেছেন বিস্ফোরক তথ্য। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেছেন, এই চাঁদাবাজির অর্থ থেকে নাহিদ ইসলাম তার কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা ভাগ হিসেবে নিয়েছেন।

সুরভীর ভাষ্য অনুযায়ী, জেল থেকে বের হওয়ার পর তাকে দেখতে যাওয়ার ঘটনাটি রাজনৈতিক সহানুভূতির চেয়ে বেশি ছিল প্রচারণা ও ভাইরাল হওয়ার কৌশল। তার অভিযোগ, নাহিদ ইসলামের এই সফরের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল চাঁদার অর্থের হিসাব ও নিয়ন্ত্রণ।
সুরভীর দাবি এখানেই থামেনি। তিনি আরও বলেন, গাজীপুরের ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক এবং এনএসপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা প্রত্যেকে ১০ কোটি টাকা করে ভাগ পেয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো ঘটনাটি ছিল ৫০ কোটি টাকার একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক, যেখানে আদর্শ বা আন্দোলনের চেয়ে মুখ্য ছিল আর্থিক লাভ।

এখনো পর্যন্ত যাদের নাম অভিযোগে উঠে এসেছে, তাদের অধিকাংশের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এতো বড় অঙ্কের অর্থের উৎস কী? সংগঠনের ভেতরে বিষয়টি অজানা ছিল, নাকি সবাই জেনেও নীরব থেকেছে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো ‘যোদ্ধা আন্দোলন’ ও ‘নিপীড়ন’ শব্দগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চাঁদার অর্থনীতি গড়ে তোলার দাবি। রাজনীতিতে দুর্নীতি নতুন নয়, তবে বিপ্লবী বয়ানের আড়ালে চাঁদাবাজির এমন অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্টদের বড় অংশের নীরবতা নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মিথ্যা অভিযোগ হলে দ্রুত প্রতিবাদ আসে, আর সত্যের ওজন থাকলে নীরবতা সময় কেনে।

এই মামলার চূড়ান্ত সত্য নির্ধারণ করবে আদালত। তবে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই নৈতিক বিচারে রাজনীতিতে বড় ধরনের ক্ষয়ের ইঙ্গিত মিলছে।

অভিযোগ সত্য হলে এটি কেবল একজন সুরভীর অপরাধ নয়, বরং চাঁদাবাজিনির্ভর একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির নগ্ন চিত্র। আর অভিযোগ মিথ্যা হলে প্রশ্ন থেকেই যায়—এত বড় নাম জড়িয়ে এমন দাবি তোলার সাহস সুরভী পেলেন কোথা থেকে?

যেদিকেই সত্য যাক, একটি বিষয় স্পষ্ট—রাজনীতির নামে কোটি টাকার এই খেলায় সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস।