ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি নুরুল মোমিন খোকনের সুস্থতা কামনায় ১৮নং ওয়ার্ড বিএনপির দোয়া মাহফিল ট্রিপল মার্ডার: সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সরব ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বিএনপি নেতা নুরুল মোমিন চৌধুরী খোকন চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাচ্ছেন সিলেট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেল অপ্সরা আলতাফ চৌধুরী রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দকে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ও এটিএম তুরাব বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড প্রদান নারীদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় মাসুদুর রহমান সুমন দানবাক্সে লাখো টাকার দান, স্বচ্ছতায় নতুন দৃষ্টান্ত ২০ কোটি টাকার টেন্ডার থেকে গোপনীয় পরীক্ষা কার্যক্রম—সিলেট শিক্ষা বোর্ডে একের পর এক অভিযোগ, তদন্তের দাবি ! সিলেটে চিকিৎসকের কিশোর ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

গণপিটুনির নির্মমতা: চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে বৃদ্ধকে নির্যাতন, ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ১১:৩০:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ ৩৪৭ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন লতাচাপলী ইউনিয়নের তুলাতুলি গ্রামের বাসিন্দা মোতালেব আকন (৭০) চোর সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়ে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে যান মোতালেব আকন। এরপর থেকে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একদিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন তারা।

অভিযোগ রয়েছে, বরগুনার আমতলী উপজেলার ৪ নম্বর সারিকখালী ইউনিয়নের চাউলাপাড়া এলাকায় নিরব (২৭), জহির হাং (২৮), আল-আমিন (৩০)সহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জন তাকে চোর সন্দেহে গাছের সাথে বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশালে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোতালেব আকন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তারা জানান, একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে এভাবে নির্যাতন করে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এ বিষয়ে তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে। নিহতের বড় ছেলে মোয়াজ্জেম আকন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নম্বর-১২)। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গণপিটুনির নির্মমতা: চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে বৃদ্ধকে নির্যাতন, ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু

আপডেট সময় : ১১:৩০:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন লতাচাপলী ইউনিয়নের তুলাতুলি গ্রামের বাসিন্দা মোতালেব আকন (৭০) চোর সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়ে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে যান মোতালেব আকন। এরপর থেকে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একদিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন তারা।

অভিযোগ রয়েছে, বরগুনার আমতলী উপজেলার ৪ নম্বর সারিকখালী ইউনিয়নের চাউলাপাড়া এলাকায় নিরব (২৭), জহির হাং (২৮), আল-আমিন (৩০)সহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জন তাকে চোর সন্দেহে গাছের সাথে বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশালে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোতালেব আকন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তারা জানান, একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে এভাবে নির্যাতন করে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এ বিষয়ে তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে। নিহতের বড় ছেলে মোয়াজ্জেম আকন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নম্বর-১২)। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি উঠেছে।