ঢাকা ০৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সিলেটে চিকিৎসকের কিশোর ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার শতাব্দী রায়ের বাড়িতে বিদ্রোহীদের বৈঠক, পশ্চিমবঙ্গে তৃনমূলে ভাঙনের ইঙ্গিত !  বিএনপি নেতার ওপর হামলার ঘটনায় সিলেট মহানগর বিএনপির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ আবু তালহা চৌধুরী দ্বিতীয় বারের মত টাওয়ার হ‍্যামলেটস কাউন্সিলের কাউন্সিলার নির্বাচিত পাস কার্ড ইস্যুতে অনিয়ম ও গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে সমালোচনা সিলেটে ব্যাডমিন্টন তারকাদের সংবর্ধনা, সাফল্যের আড়ালে উঠে এলো অবহেলার গল্প ! আদর্শের ‘গায়েবি’ প্রত্যাবর্তন: ভোলবদলের নতুন বয়ানে সরগরম রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি: স্বাগত জানালো বাংলাদেশ সিলেটে শনিবার শুরু হচ্ছে আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা ও কৃষক বাজার “কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ!”—দিনাজপুরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ, গ্রেফতার

💔 সিলেটে সিনিয়র–জুনিয়র বিরোধে খুন, গ্রেপ্তার ৩ কিশোর

বন্ধুর ডাকে ঘর থেকে বেরিয়ে লাশ হয়ে ফিরল তপু !

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১৮০ বার পড়া হয়েছে

সিলেট নগরীর বাদামবাগিচার ইলাশকান্দি এলাকায় নৃশংস কিশোর হত্যার শিকার হয়েছে। খাসদবীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র মাহমুদুর রহমান তপু ( শাহ এনামুল হকের ছেলে) বন্ধুদের ডাকে ঘর থেকে বেরিয়ে আর জীবিত ফিরতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) রাত প্রায় ১২টার দিকে তপুকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

তপু হত্যার ঘটনায় ইতোমধ্যে তিন কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শেখ মো. মিজানুর রহমান জানান, অভিযান চালিয়ে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত জাহিদসহ তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—

জাহিদ (প্রধান অভিযুক্ত), নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন লোহারপাড়া এলাকার আব্দুল মনিরের ছেলে মো. অনিক মিয়া, ও একই এলাকার মো. বশিরুল ইসলামের ছেলে মো. জুনেদ আহমদ।

তপুর বাবা শাহ এনামুল হক বলেন,

> “ঘটনার রাতে তপুকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় জাহিদ ও তার সহযোগীরা। তারা এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করে। আমি আমার ছেলেকে ওসমানী মেডিকেলে নিয়ে যাই, কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার ছেলে মারা যায়। আমার ছেলে কোনো কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য নয়, সে খাসদবীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র। পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ সবচেয়ে ভারী—এ ভার বইবার ক্ষমতা আমার নেই।”

সিনিয়র–জুনিয়র বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) সাইফুল ইসলাম বলেন,

> “তপু ও জাহিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সিনিয়র–জুনিয়র বিরোধ ছিল। ওই বিরোধ মেটাতে এবং দুই গ্রুপ একসঙ্গে চলবে কি-না, এ নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার রাতে তপুর বাড়িতে যায় জাহিদসহ কয়েকজন। সেখানে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এই তর্ক-বিতর্ক থেকেই পরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং শেষ পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।”

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা কিশোর গ্যাং, ছুরি-সন্ত্রাস ও অরাজকতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

💔 সিলেটে সিনিয়র–জুনিয়র বিরোধে খুন, গ্রেপ্তার ৩ কিশোর

বন্ধুর ডাকে ঘর থেকে বেরিয়ে লাশ হয়ে ফিরল তপু !

আপডেট সময় : ১২:৪৪:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

সিলেট নগরীর বাদামবাগিচার ইলাশকান্দি এলাকায় নৃশংস কিশোর হত্যার শিকার হয়েছে। খাসদবীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র মাহমুদুর রহমান তপু ( শাহ এনামুল হকের ছেলে) বন্ধুদের ডাকে ঘর থেকে বেরিয়ে আর জীবিত ফিরতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) রাত প্রায় ১২টার দিকে তপুকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

তপু হত্যার ঘটনায় ইতোমধ্যে তিন কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শেখ মো. মিজানুর রহমান জানান, অভিযান চালিয়ে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত জাহিদসহ তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—

জাহিদ (প্রধান অভিযুক্ত), নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন লোহারপাড়া এলাকার আব্দুল মনিরের ছেলে মো. অনিক মিয়া, ও একই এলাকার মো. বশিরুল ইসলামের ছেলে মো. জুনেদ আহমদ।

তপুর বাবা শাহ এনামুল হক বলেন,

> “ঘটনার রাতে তপুকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় জাহিদ ও তার সহযোগীরা। তারা এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করে। আমি আমার ছেলেকে ওসমানী মেডিকেলে নিয়ে যাই, কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার ছেলে মারা যায়। আমার ছেলে কোনো কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য নয়, সে খাসদবীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র। পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ সবচেয়ে ভারী—এ ভার বইবার ক্ষমতা আমার নেই।”

সিনিয়র–জুনিয়র বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) সাইফুল ইসলাম বলেন,

> “তপু ও জাহিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সিনিয়র–জুনিয়র বিরোধ ছিল। ওই বিরোধ মেটাতে এবং দুই গ্রুপ একসঙ্গে চলবে কি-না, এ নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার রাতে তপুর বাড়িতে যায় জাহিদসহ কয়েকজন। সেখানে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এই তর্ক-বিতর্ক থেকেই পরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং শেষ পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।”

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা কিশোর গ্যাং, ছুরি-সন্ত্রাস ও অরাজকতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।