সিলেটে ব্যাডমিন্টন তারকাদের সংবর্ধনা, সাফল্যের আড়ালে উঠে এলো অবহেলার গল্প !
- আপডেট সময় : ০১:০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
সাফল্যের ঝলকানি আর বঞ্চনার আক্ষেপ—দুইয়ের মিশেলে সিলেটে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী ক্রীড়া আয়োজন। জাতীয়তাবাদী উন্মুক্ত মঞ্চ সিলেটের উদ্যোগে স্থানীয় একটি হোটেলের হলরুমে সংবর্ধনা দেওয়া হয় সাউথ এশিয়ান অলিম্পিয়াড গেমসে ব্যাডমিন্টনে স্বর্ণজয়ী তানভীর ও গৌরবকে।
দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা এই দুই ক্রীড়াবিদ কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জাতীয় সম্মাননা গ্রহণ করেছেন। তবুও তাদের কণ্ঠে শোনা গেল এক ধরনের হতাশার সুর—যা ভাবিয়ে তুলেছে ক্রীড়াঙ্গনকে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী উন্মুক্ত মঞ্চ সিলেটের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজ খন্দকার পায়েল এবং সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান আরাফাত চৌধুরী জাকির। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আহমদ জুলকারনাইন।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর রোকসানা বেগম শাহনাজ, সাবেক কাউন্সিলর এবিএম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল, এভারগ্রীন ক্রীড়া ও সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী জুয়েল, উপশহর কল্যাণ সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশীদ লিটন, আব্দুস সাত্তার মামুন, কাজল ভট্টাচার্য, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, দপ্তর সম্পাদক তারেক আহমদ খান, প্রচার সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মোহন, তথ্য প্রযুক্তি ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ লোকমানুজ্জামান, সহ যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক জমজম বাদশা, মহানগর বিএনপির কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুল মুমিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তছির আলী, মিছবাহ আহমদ জেহিন, আব্দুল হক সুন্না, সিরাজ আহমদ, ইমু চৌধুরী, সিলেট ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ইমতিয়াজ চৌধুরী তান্নাসহ আরও অনেকে।
সংবর্ধিত অতিথি তানভীর ও গৌরব তাদের বক্তব্যে বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনলেও তারা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ সুবিধা পাচ্ছেন না। ক্রীড়া কমপ্লেক্স সেনাবাহিনীর ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় নিয়মিত অনুশীলন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তারা।
তারা আরও অভিযোগ করেন, ইনডোর কোর্টে ম্যাট ছাড়াই পাকা ফ্লোরে খেলতে বাধ্য হওয়ায় খেলোয়াড়দের ইনজুরির ঝুঁকি বাড়ছে। এ অবস্থায় দ্রুত কোর্টে মানসম্মত ম্যাট স্থাপনের দাবি জানান তারা। পাশাপাশি তারা বলেন, নিয়মিত অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের লোডও নিজেদের অর্থে নিতে হচ্ছে, যা প্রকৃতপক্ষে ক্রীড়া কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষেরই ব্যবস্থা করার কথা।
তাদের প্রশ্ন—“যেখানে রাষ্ট্র আমাদের সম্মান দিচ্ছে, সেখানে বাস্তবে কেন এই বৈষম্য?”
সভাপতির বক্তব্যে মোস্তাফিজ খন্দকার পায়েল ক্রীড়া অবকাঠামোর এমন ব্যবহারে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ক্রীড়া কমপ্লেক্স মূলত খেলোয়াড়দের জন্য, এটি অন্য কাজে ব্যবহৃত হওয়া উচিত নয়। এতে ক্রীড়ার স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রধান অতিথি আহমদ জুলকারনাইন বলেন, সিলেটের ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়রা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পর্যায়ে আধিপত্য ধরে রেখেছেন। তবে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, নিয়মিত লীগ ও স্থানীয় প্রতিযোগিতার অভাবে এই ধারাবাহিকতা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার প্রসার ঘটলে তরুণ সমাজকে মাদক ও অনলাইন জুয়ার মতো নেতিবাচক প্রবণতা থেকে দূরে রাখা সম্ভব—যা উন্নত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই আয়োজন শুধু সংবর্ধনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ক্রীড়াবিদদের বাস্তব চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণের এক শক্তিশালী বার্তা হয়ে উঠেছে।















