ঢাকা ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ট্রিপল মার্ডার: সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সরব ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বিএনপি নেতা নুরুল মোমিন চৌধুরী খোকন চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাচ্ছেন সিলেট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেল অপ্সরা আলতাফ চৌধুরী রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দকে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ও এটিএম তুরাব বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড প্রদান নারীদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় মাসুদুর রহমান সুমন দানবাক্সে লাখো টাকার দান, স্বচ্ছতায় নতুন দৃষ্টান্ত ২০ কোটি টাকার টেন্ডার থেকে গোপনীয় পরীক্ষা কার্যক্রম—সিলেট শিক্ষা বোর্ডে একের পর এক অভিযোগ, তদন্তের দাবি ! সিলেটে চিকিৎসকের কিশোর ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার শতাব্দী রায়ের বাড়িতে বিদ্রোহীদের বৈঠক, পশ্চিমবঙ্গে তৃনমূলে ভাঙনের ইঙ্গিত ! 

রিজার্ভের উত্থান-পতন ঘিরে তুমুল আলোচনা—ইউনূস সরকারের আসল সাফল্য কতটুকু !

ডেস্ক রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ১২:১০:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৬১ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব শেষে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর বিদায়ের মুহূর্তে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ঋণ পরিশোধ, ভর্তুকি নীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা—সবকিছু মিলিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

সমর্থকদের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের রিজার্ভ ছিল প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলার। দেড় বছরের ব্যবধানে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩ বিলিয়নে। অর্থাৎ ১৪ বিলিয়ন ডলারের প্রবৃদ্ধি—বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

তাদের ভাষ্য, অর্থনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত পরিস্থিতি থেকে রিজার্ভ টেনে তোলা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, যা ইউনূস সরকার আংশিকভাবে সফলভাবে সামাল দিয়েছে।

আরও দাবি করা হচ্ছে, আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক ঋণও এ সময় পরিশোধ করতে হয়েছে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে শত শত কোটি টাকার ভর্তুকি দিতে হয়েছে।

সমালোচকদের মতে, এসব তথ্যের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। তবে সমর্থকরা বলছেন—দেড় বছরে রিজার্ভ বৃদ্ধি ও ঋণ পরিশোধ একসঙ্গে করা সহজ কাজ না।

ইউনূস সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, তিনি শুরুতে দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহী ছিলেন। পরে ছাত্রদের অনুরোধে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাজি হন। তাঁর শর্ত ছিল—সংস্কার কার্যক্রমে পূর্ণ সহযোগিতা ও কাজের স্বাধীনতা।

কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক কোন্দল, আন্দোলন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চাপ এবং প্রশাসনিক জটিলতায় সরকার প্রত্যাশিত গতিতে কাজ করতে পারেনি—এমন অভিযোগও রয়েছে।

বিদায়ী ভাষণে ড. ইউনূস কারও প্রতি সরাসরি অভিযোগ তোলেননি। বরং নিজের সীমাবদ্ধতার দায় স্বীকার করে জনগণকে ধন্যবাদ জানান। উপস্থিতদের অনেকেই তাঁর চোখেমুখে ক্লান্তি ও আক্ষেপের ছাপ দেখেছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন।

একদিকে সমর্থকরা বলছেন—“অস্থিরতার ভেতরেও অর্থনীতিকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছেন।”

অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন—রিজার্ভ বৃদ্ধির প্রকৃত উৎস, বৈদেশিক দায় ও সামষ্টিক অর্থনীতির সামগ্রিক প্রভাব কী ছিল?

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই বিদায় তাই শুধু একটি প্রশাসনিক অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়; এটি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্কেরও নতুন সূচনা হয়ে থাকছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রিজার্ভের উত্থান-পতন ঘিরে তুমুল আলোচনা—ইউনূস সরকারের আসল সাফল্য কতটুকু !

আপডেট সময় : ১২:১০:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব শেষে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর বিদায়ের মুহূর্তে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ঋণ পরিশোধ, ভর্তুকি নীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা—সবকিছু মিলিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

সমর্থকদের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের রিজার্ভ ছিল প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলার। দেড় বছরের ব্যবধানে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩ বিলিয়নে। অর্থাৎ ১৪ বিলিয়ন ডলারের প্রবৃদ্ধি—বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

তাদের ভাষ্য, অর্থনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত পরিস্থিতি থেকে রিজার্ভ টেনে তোলা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, যা ইউনূস সরকার আংশিকভাবে সফলভাবে সামাল দিয়েছে।

আরও দাবি করা হচ্ছে, আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক ঋণও এ সময় পরিশোধ করতে হয়েছে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে শত শত কোটি টাকার ভর্তুকি দিতে হয়েছে।

সমালোচকদের মতে, এসব তথ্যের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। তবে সমর্থকরা বলছেন—দেড় বছরে রিজার্ভ বৃদ্ধি ও ঋণ পরিশোধ একসঙ্গে করা সহজ কাজ না।

ইউনূস সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, তিনি শুরুতে দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহী ছিলেন। পরে ছাত্রদের অনুরোধে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাজি হন। তাঁর শর্ত ছিল—সংস্কার কার্যক্রমে পূর্ণ সহযোগিতা ও কাজের স্বাধীনতা।

কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক কোন্দল, আন্দোলন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চাপ এবং প্রশাসনিক জটিলতায় সরকার প্রত্যাশিত গতিতে কাজ করতে পারেনি—এমন অভিযোগও রয়েছে।

বিদায়ী ভাষণে ড. ইউনূস কারও প্রতি সরাসরি অভিযোগ তোলেননি। বরং নিজের সীমাবদ্ধতার দায় স্বীকার করে জনগণকে ধন্যবাদ জানান। উপস্থিতদের অনেকেই তাঁর চোখেমুখে ক্লান্তি ও আক্ষেপের ছাপ দেখেছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন।

একদিকে সমর্থকরা বলছেন—“অস্থিরতার ভেতরেও অর্থনীতিকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছেন।”

অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন—রিজার্ভ বৃদ্ধির প্রকৃত উৎস, বৈদেশিক দায় ও সামষ্টিক অর্থনীতির সামগ্রিক প্রভাব কী ছিল?

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই বিদায় তাই শুধু একটি প্রশাসনিক অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়; এটি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্কেরও নতুন সূচনা হয়ে থাকছে।