ঢাকা ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি নুরুল মোমিন খোকনের সুস্থতা কামনায় ১৮নং ওয়ার্ড বিএনপির দোয়া মাহফিল ট্রিপল মার্ডার: সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সরব ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বিএনপি নেতা নুরুল মোমিন চৌধুরী খোকন চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাচ্ছেন সিলেট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেল অপ্সরা আলতাফ চৌধুরী রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দকে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ও এটিএম তুরাব বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড প্রদান নারীদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় মাসুদুর রহমান সুমন দানবাক্সে লাখো টাকার দান, স্বচ্ছতায় নতুন দৃষ্টান্ত ২০ কোটি টাকার টেন্ডার থেকে গোপনীয় পরীক্ষা কার্যক্রম—সিলেট শিক্ষা বোর্ডে একের পর এক অভিযোগ, তদন্তের দাবি ! সিলেটে চিকিৎসকের কিশোর ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শপথ বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন ঢাকা-৩ এর এমপি

“মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেব না” — গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ১০:০১:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৯৩ বার পড়া হয়েছে

মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ভাইরাল হওয়া ভিডিও বিতর্কের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন, “মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেব না।”

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তিনি আগেই জানতেন যে মন্ত্রী হচ্ছেন না, তবুও অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। “আমি জানতাম, মন্ত্রী হব না। তবুও সেখানে গিয়েছিলাম। আপনারা বলছেন মন্ত্রী না হওয়ার জন্য রাগ করে আসছি। আর যাবো না,”—এভাবে জোর দিয়ে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বাগ্‌বিতণ্ডার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, একজন সিনিয়র নেতা হিসেবে তাকে সামনের সারিতে বসার আসন দেওয়া হয়েছিল। তবে এক কর্মকর্তা মন্ত্রী ছাড়া অন্যদের আসন ছাড়তে বলেন এবং না গেলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ডেকে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন।

তিনি দাবি করেন, এ পরিস্থিতিতে তিনি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। ফেরার সময় অনেকে থাকতে অনুরোধ করলে কিছুটা রাগ প্রকাশ করেন, যা পরবর্তীতে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “কারও চরিত্রহনন বা সম্মানে আঘাত করা সঠিক নয়।” একই সঙ্গে তিনি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান জানান।

গয়েশ্বর রায় বলেন, তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে জনগণের প্রতিনিধি। “শেষ পর্যন্ত মানুষের পক্ষে লড়াই করব, নিয়মের কথা বলব এবং নিয়ম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করব,”—যোগ করেন তিনি।

সভায় ঢাকা-৩ আসনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে স্থানীয় কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও সাধারণ মানুষের মতামত শোনেন তিনি। বক্তারা এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাস, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, সড়ক সংস্কার, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দখল বাণিজ্যের মতো বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, “১৭ বছরের জঞ্জাল একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। তবে পর্যায়ক্রমে সব সমস্যার সমাধান হবে। এজন্য সবার সহযোগিতা দরকার।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন মো. উমর ফারুক এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার বেগ। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শপথ বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন ঢাকা-৩ এর এমপি

“মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেব না” — গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

আপডেট সময় : ১০:০১:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ভাইরাল হওয়া ভিডিও বিতর্কের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন, “মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেব না।”

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তিনি আগেই জানতেন যে মন্ত্রী হচ্ছেন না, তবুও অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। “আমি জানতাম, মন্ত্রী হব না। তবুও সেখানে গিয়েছিলাম। আপনারা বলছেন মন্ত্রী না হওয়ার জন্য রাগ করে আসছি। আর যাবো না,”—এভাবে জোর দিয়ে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বাগ্‌বিতণ্ডার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, একজন সিনিয়র নেতা হিসেবে তাকে সামনের সারিতে বসার আসন দেওয়া হয়েছিল। তবে এক কর্মকর্তা মন্ত্রী ছাড়া অন্যদের আসন ছাড়তে বলেন এবং না গেলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ডেকে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন।

তিনি দাবি করেন, এ পরিস্থিতিতে তিনি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। ফেরার সময় অনেকে থাকতে অনুরোধ করলে কিছুটা রাগ প্রকাশ করেন, যা পরবর্তীতে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “কারও চরিত্রহনন বা সম্মানে আঘাত করা সঠিক নয়।” একই সঙ্গে তিনি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান জানান।

গয়েশ্বর রায় বলেন, তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে জনগণের প্রতিনিধি। “শেষ পর্যন্ত মানুষের পক্ষে লড়াই করব, নিয়মের কথা বলব এবং নিয়ম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করব,”—যোগ করেন তিনি।

সভায় ঢাকা-৩ আসনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে স্থানীয় কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও সাধারণ মানুষের মতামত শোনেন তিনি। বক্তারা এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাস, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, সড়ক সংস্কার, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দখল বাণিজ্যের মতো বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, “১৭ বছরের জঞ্জাল একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। তবে পর্যায়ক্রমে সব সমস্যার সমাধান হবে। এজন্য সবার সহযোগিতা দরকার।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন মো. উমর ফারুক এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার বেগ। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।