ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আদর্শের ‘গায়েবি’ প্রত্যাবর্তন: ভোলবদলের নতুন বয়ানে সরগরম রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি: স্বাগত জানালো বাংলাদেশ সিলেটে শনিবার শুরু হচ্ছে আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা ও কৃষক বাজার “কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ!”—দিনাজপুরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ, গ্রেফতার ভাইরাল ভিডিও থেকে নতুন জীবনের আলো—শিশু ফাইজা পেল পুনর্বাসনের হাতছানি ! ইমদাদ চৌধুরীর ক্ষোভ—প্রস্তুতি সভায় নিজের আসন সংরক্ষিত না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ! যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সাথে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর ‘নবীন ফ্যাশন’ বন্ধে ওসিকে তলব, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোকান খুলতে নির্দেশ রাব্বানী–সাদিকের পুরনো টেক্সট ভাইরাল, সামাজিক মাধ্যমে তুমুল আলোচনা

ফেসবুকে ‘জুলাই শহীদের স্ত্রী নির্যাতন’ দাবি: তদন্তে মিলেনি কোনো সত্যতা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৬:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্ট ঘিরে সিলেটে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। Bangladesh Live নামের একটি ফেসবুক পেইজে দাবি করা হয়, ‘নিলিমা বেগম’ নামের এক নারী—যাকে জুলাই বিপ্লবের শহীদ ‘আবুল কালাম’-এর পরিবারের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

তবে প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের অনুসন্ধানে এ দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

ভাইরাল পোস্টে বলা হয়, নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়। পোস্টটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

কিন্তু পোস্টে ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময়, স্থান, অভিযুক্তের পূর্ণ পরিচয়, মামলা নম্বর বা কোনো দাপ্তরিক তথ্য উল্লেখ করা হয়নি—যা শুরু থেকেই সন্দেহের জন্ম দেয়।

বিষয়টি সামনে আসার পরপরই তদন্তে নামে সিলেট মহানগর পুলিশ। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাঈনুল জাকির জানান, রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর ওসিসি (ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার)সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে খোঁজ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “এমন কোনো ভিকটিম বা ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি। থানায়ও কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।”

হাসপাতালের ওসিসির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, ২ মার্চ থেকে ৩ মার্চ রাত পর্যন্ত ‘নিলিমা বেগম’ নামে কোনো ভিকটিম ভর্তি হননি। হাসপাতালের রেজিস্টার ও ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার যাচাই করেও অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

১৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত সরকারি গেজেট অনুযায়ী, জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া ৮৩৪ জনের তালিকায় সিলেট অঞ্চলে ‘আবুল কালাম’ নামে কোনো ব্যক্তির নাম নেই।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিলেট অঞ্চলের নেতারাও জানান, সিলেটে গেজেটভুক্ত ৩২ শহীদের তালিকায়ও এই নামটি নেই। এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ বলেন, সিলেটের শহীদদের নিয়ে তাদের প্রতিনিধি দল নিয়মিত কাজ করে এবং এমন কোনো ঘটনার তথ্য তাদের কাছে নেই। বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোতোয়ালি থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলেও জানান।

ভিকটিমের নাম ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই তাছাড়া
অভিযুক্তের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় অনুপস্থিত। মেডিকেল রিপোর্ট বা মামলা নম্বর উল্লেখ নেই কিংবা প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য বা নির্ভরযোগ্য সূত্র নেই। এসব কারণেই প্রশাসন বিষয়টিকে ভিত্তিহীন ও গুজব হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাচাই ছাড়া কোনো স্পর্শকাতর সংবাদ সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার না করতে। একটি ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট সমাজে অস্থিরতা ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে। নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম ও সরকারি সূত্রের তথ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ফেসবুকে ‘জুলাই শহীদের স্ত্রী নির্যাতন’ দাবি: তদন্তে মিলেনি কোনো সত্যতা

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্ট ঘিরে সিলেটে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। Bangladesh Live নামের একটি ফেসবুক পেইজে দাবি করা হয়, ‘নিলিমা বেগম’ নামের এক নারী—যাকে জুলাই বিপ্লবের শহীদ ‘আবুল কালাম’-এর পরিবারের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

তবে প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের অনুসন্ধানে এ দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

ভাইরাল পোস্টে বলা হয়, নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়। পোস্টটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

কিন্তু পোস্টে ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময়, স্থান, অভিযুক্তের পূর্ণ পরিচয়, মামলা নম্বর বা কোনো দাপ্তরিক তথ্য উল্লেখ করা হয়নি—যা শুরু থেকেই সন্দেহের জন্ম দেয়।

বিষয়টি সামনে আসার পরপরই তদন্তে নামে সিলেট মহানগর পুলিশ। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাঈনুল জাকির জানান, রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর ওসিসি (ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার)সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে খোঁজ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “এমন কোনো ভিকটিম বা ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি। থানায়ও কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।”

হাসপাতালের ওসিসির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, ২ মার্চ থেকে ৩ মার্চ রাত পর্যন্ত ‘নিলিমা বেগম’ নামে কোনো ভিকটিম ভর্তি হননি। হাসপাতালের রেজিস্টার ও ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার যাচাই করেও অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

১৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত সরকারি গেজেট অনুযায়ী, জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া ৮৩৪ জনের তালিকায় সিলেট অঞ্চলে ‘আবুল কালাম’ নামে কোনো ব্যক্তির নাম নেই।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিলেট অঞ্চলের নেতারাও জানান, সিলেটে গেজেটভুক্ত ৩২ শহীদের তালিকায়ও এই নামটি নেই। এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ বলেন, সিলেটের শহীদদের নিয়ে তাদের প্রতিনিধি দল নিয়মিত কাজ করে এবং এমন কোনো ঘটনার তথ্য তাদের কাছে নেই। বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোতোয়ালি থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলেও জানান।

ভিকটিমের নাম ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই তাছাড়া
অভিযুক্তের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় অনুপস্থিত। মেডিকেল রিপোর্ট বা মামলা নম্বর উল্লেখ নেই কিংবা প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য বা নির্ভরযোগ্য সূত্র নেই। এসব কারণেই প্রশাসন বিষয়টিকে ভিত্তিহীন ও গুজব হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাচাই ছাড়া কোনো স্পর্শকাতর সংবাদ সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার না করতে। একটি ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট সমাজে অস্থিরতা ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে। নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম ও সরকারি সূত্রের তথ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।