ঢাকা ০২:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পাস কার্ড ইস্যুতে অনিয়ম ও গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে সমালোচনা সিলেটে ব্যাডমিন্টন তারকাদের সংবর্ধনা, সাফল্যের আড়ালে উঠে এলো অবহেলার গল্প ! আদর্শের ‘গায়েবি’ প্রত্যাবর্তন: ভোলবদলের নতুন বয়ানে সরগরম রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি: স্বাগত জানালো বাংলাদেশ সিলেটে শনিবার শুরু হচ্ছে আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা ও কৃষক বাজার “কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ!”—দিনাজপুরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ, গ্রেফতার ভাইরাল ভিডিও থেকে নতুন জীবনের আলো—শিশু ফাইজা পেল পুনর্বাসনের হাতছানি ! ইমদাদ চৌধুরীর ক্ষোভ—প্রস্তুতি সভায় নিজের আসন সংরক্ষিত না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ! যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সাথে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মিলন’কে হত্যা করি- স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে যৌনকর্মী রোজিনা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০২:৫৪:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ২১১ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুর বাস টার্মিনাল থেকে লাগেজবন্দি অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার হওয়া যৌনকর্মী রোজিনা আক্তার কাজল (৩২)।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোর্শেদ আলম।

তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি পাবনা জেলার নতুন গোহাইলবাড়ি গ্রামের মিলন প্রামানিকের। তিনি রাজবাড়ি জেলার বিভিন্ন ইট ভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন। দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে যাতায়াতের সুবাদে রোজিনা আক্তার (৩০) নামে এক যৌনকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর টাকা পয়সার লেনদেন নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে মিলনকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন রোজিনা।

তবে স্বীকারোক্তিতে রোজিনা বলেন, মা তুলে বাজে ভাষায় গালি দেওয়ায় রাগের মাথায় আমি একাই তারে মারছি। তার কাছে টাকা পাইতাম। সেই টাকা ছাড়ানোর জন্য ঝগড়া হয়।

শনিবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে ফরিদপুর পৌর বাস টার্মিনালে ফেলে যাওয়া একটি লাগেজ থেকে অজ্ঞাতনামা মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর সিসি টিভি ফুটেজ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রোজিনা বেগমের পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং ঢাকার কদমতলীর জুরাইনের দেওয়ান বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় থানায় অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা রুজুর পর কোতোয়ালি থানার এসআই শামীম হাসানের নেতৃত্বে ঘটনা তদন্তে নামে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজার থেকে মাহেন্দ্র গাড়ি শনাক্ত করে ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে লাগেজ বহনকারী রিকশাচালককে আটক করার পর পাওয়া যায় রোজিনার সন্ধান।

তবে দৌলতদিয়ার যৌনপল্লির রুবেল মাতুব্বরের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় রোজিনার ঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রোজিনাকে জুরাইনের দেওয়ান বাড়ির ষষ্ঠতলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রোজিনাকে গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশকে জানান, নিহত মিলন তার ঘরে মাঝেমধ্যেই যেতেন। ঘটনার আগের দিন মিলন তার ঘরে যান। রাত ২টার দিকে তাদের মাঝে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে রোজিনার মা তুলে গালি দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে রোজিনা তার পরিহিত ওড়না গলায় প্যাঁচ দিয়ে তাকে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হলে খাট থেকে নামিয়ে মরদেহটি কম্বল, বড় বেডশিট ও বালিশের কাভার দিয়ে মুড়িয়ে তার ঘরে থাকা বড় একটি লাগেজের মধ্যে রাখেন।

পরে মরদেহ গুম করতে প্রথমে ৬০০ টাক ভাড়ায় একটি রিকশায় করে মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে নেন। সেখান থেকে ৬০০ টাকা ভাড়ায় মাহেন্দ্রতে উঠিয়ে দৌলতদিয়া থেকে ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে আসেন। সেখানে ঢাকাগামী বিকাশ পরিবহনে একটি টিকিট কাটেন এবং লাগেজটি গাড়ির মালামাল রাখার বাক্সে রেখে নাস্তা করার কথা বলে পালিয়ে যান। তবে গাড়ি ছাড়ার নির্ধারিত মুহূর্তে মালিক না পেয়ে গাড়ির লোকেরা লাগেজটি বাস টার্মিনালে রেখে যান।

পুলিশের কাছে জবানবন্দি অনুযায়ী রোজিনার বক্তব্য, পাবনার মিলন প্রামানিক ইট ভাটায় কাজের সুবাদে রাজবাড়ী থাকতেন। মাঝে মাঝে যৌনপল্লিতে যেতেন। সেখানে তার সঙ্গে মিলনের পরিচয় হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মিলন’কে হত্যা করি- স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে যৌনকর্মী রোজিনা

আপডেট সময় : ০২:৫৪:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ফরিদপুর বাস টার্মিনাল থেকে লাগেজবন্দি অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার হওয়া যৌনকর্মী রোজিনা আক্তার কাজল (৩২)।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোর্শেদ আলম।

তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি পাবনা জেলার নতুন গোহাইলবাড়ি গ্রামের মিলন প্রামানিকের। তিনি রাজবাড়ি জেলার বিভিন্ন ইট ভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন। দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে যাতায়াতের সুবাদে রোজিনা আক্তার (৩০) নামে এক যৌনকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর টাকা পয়সার লেনদেন নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে মিলনকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন রোজিনা।

তবে স্বীকারোক্তিতে রোজিনা বলেন, মা তুলে বাজে ভাষায় গালি দেওয়ায় রাগের মাথায় আমি একাই তারে মারছি। তার কাছে টাকা পাইতাম। সেই টাকা ছাড়ানোর জন্য ঝগড়া হয়।

শনিবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে ফরিদপুর পৌর বাস টার্মিনালে ফেলে যাওয়া একটি লাগেজ থেকে অজ্ঞাতনামা মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর সিসি টিভি ফুটেজ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রোজিনা বেগমের পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং ঢাকার কদমতলীর জুরাইনের দেওয়ান বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় থানায় অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা রুজুর পর কোতোয়ালি থানার এসআই শামীম হাসানের নেতৃত্বে ঘটনা তদন্তে নামে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজার থেকে মাহেন্দ্র গাড়ি শনাক্ত করে ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে লাগেজ বহনকারী রিকশাচালককে আটক করার পর পাওয়া যায় রোজিনার সন্ধান।

তবে দৌলতদিয়ার যৌনপল্লির রুবেল মাতুব্বরের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় রোজিনার ঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রোজিনাকে জুরাইনের দেওয়ান বাড়ির ষষ্ঠতলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রোজিনাকে গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশকে জানান, নিহত মিলন তার ঘরে মাঝেমধ্যেই যেতেন। ঘটনার আগের দিন মিলন তার ঘরে যান। রাত ২টার দিকে তাদের মাঝে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে রোজিনার মা তুলে গালি দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে রোজিনা তার পরিহিত ওড়না গলায় প্যাঁচ দিয়ে তাকে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হলে খাট থেকে নামিয়ে মরদেহটি কম্বল, বড় বেডশিট ও বালিশের কাভার দিয়ে মুড়িয়ে তার ঘরে থাকা বড় একটি লাগেজের মধ্যে রাখেন।

পরে মরদেহ গুম করতে প্রথমে ৬০০ টাক ভাড়ায় একটি রিকশায় করে মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে নেন। সেখান থেকে ৬০০ টাকা ভাড়ায় মাহেন্দ্রতে উঠিয়ে দৌলতদিয়া থেকে ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে আসেন। সেখানে ঢাকাগামী বিকাশ পরিবহনে একটি টিকিট কাটেন এবং লাগেজটি গাড়ির মালামাল রাখার বাক্সে রেখে নাস্তা করার কথা বলে পালিয়ে যান। তবে গাড়ি ছাড়ার নির্ধারিত মুহূর্তে মালিক না পেয়ে গাড়ির লোকেরা লাগেজটি বাস টার্মিনালে রেখে যান।

পুলিশের কাছে জবানবন্দি অনুযায়ী রোজিনার বক্তব্য, পাবনার মিলন প্রামানিক ইট ভাটায় কাজের সুবাদে রাজবাড়ী থাকতেন। মাঝে মাঝে যৌনপল্লিতে যেতেন। সেখানে তার সঙ্গে মিলনের পরিচয় হয়।