ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সিলেটে চিকিৎসকের কিশোর ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার শতাব্দী রায়ের বাড়িতে বিদ্রোহীদের বৈঠক, পশ্চিমবঙ্গে তৃনমূলে ভাঙনের ইঙ্গিত !  বিএনপি নেতার ওপর হামলার ঘটনায় সিলেট মহানগর বিএনপির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ আবু তালহা চৌধুরী দ্বিতীয় বারের মত টাওয়ার হ‍্যামলেটস কাউন্সিলের কাউন্সিলার নির্বাচিত পাস কার্ড ইস্যুতে অনিয়ম ও গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে সমালোচনা সিলেটে ব্যাডমিন্টন তারকাদের সংবর্ধনা, সাফল্যের আড়ালে উঠে এলো অবহেলার গল্প ! আদর্শের ‘গায়েবি’ প্রত্যাবর্তন: ভোলবদলের নতুন বয়ানে সরগরম রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি: স্বাগত জানালো বাংলাদেশ সিলেটে শনিবার শুরু হচ্ছে আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা ও কৃষক বাজার “কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ!”—দিনাজপুরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ, গ্রেফতার

শিক্ষা প্রশাসনে নতুন নেতৃত্ব: সংস্কারের আশায় ইতিবাচক প্রত্যাশা

ডেস্ক রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ১০:৩৯:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৮৬ বার পড়া হয়েছে

দেশের শিক্ষা প্রশাসনে সাম্প্রতিক রদবদলকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী আ আ ম এহসানুল হক মিলন এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তাদের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাখাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসতে পারে।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিক্ষাকে রাষ্ট্রের “প্রথম বিনিয়োগ” হিসেবে উল্লেখ করে পর্যায়ক্রমে এ খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবিদরা যে বাড়তি বরাদ্দের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, এই ঘোষণা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে সৃজনশীল চিন্তাভাবনা বিকাশে ‘আইটেম ব্যাংক’ ও ব্লু-প্রিন্ট ভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে প্রশ্নপত্র প্রণয়নে বৈচিত্র্য আসবে এবং কোচিংনির্ভরতা কমতে পারে।

মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে একটি ‘পাবলিক ড্যাশবোর্ড’ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পাঠ্যবই বিতরণ, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ক্লাস কার্যক্রমের তথ্য সাধারণ মানুষ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এতে জবাবদিহিতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

কর্মসংস্থানের বাজার বিবেচনায় বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, ডিজিটাল লিটারেসি এবং এআই (AI) সচেতনতা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদা পূরণে এ ধরনের পদক্ষেপ সময়োপযোগী।

শিক্ষামন্ত্রী আ আ ম এহসানুল হক মিলন অতীতে নকলবিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—পড়াশোনায় কোনো ধরনের ফাঁকি বা নকল বরদাশত করা হবে না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এ সমন্বয় কার্যকর হলে শিক্ষার মানোন্নয়নে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

দুই মন্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা:

ববি হাজ্জাজ (শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী)-

মাধ্যমিক: ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল
স্নাতক: রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইউনিভার্সিটি অব অস্টিন, যুক্তরাষ্ট্র
মাস্টার্স: বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্য
উচ্চতর শিক্ষা: প্রিস্টন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাজ্য।

আ আ ম এহসানুল হক মিলন (শিক্ষামন্ত্রী)-

মাধ্যমিক: শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়
উচ্চ মাধ্যমিক: সরকারি বিজ্ঞান কলেজ
স্নাতক: রসায়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
এমবিএ: নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি
পিএইচডি: রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মালয়েশিয়া।

নীতিগত ঘোষণা ও পরিকল্পনা ইতিবাচক হলেও, বাস্তবায়নই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। পর্যাপ্ত বাজেট, দক্ষ জনবল, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা—এই চারটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষাখাতে দৃশ্যমান উন্নতি সম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এখন দেখার বিষয়—ঘোষণাগুলো কত দ্রুত ও কতটা কার্যকরভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়। শিক্ষাখাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের জন্য জাতির চোখ এখন নতুন নেতৃত্বের দিকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শিক্ষা প্রশাসনে নতুন নেতৃত্ব: সংস্কারের আশায় ইতিবাচক প্রত্যাশা

আপডেট সময় : ১০:৩৯:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের শিক্ষা প্রশাসনে সাম্প্রতিক রদবদলকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী আ আ ম এহসানুল হক মিলন এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তাদের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাখাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসতে পারে।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিক্ষাকে রাষ্ট্রের “প্রথম বিনিয়োগ” হিসেবে উল্লেখ করে পর্যায়ক্রমে এ খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবিদরা যে বাড়তি বরাদ্দের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, এই ঘোষণা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে সৃজনশীল চিন্তাভাবনা বিকাশে ‘আইটেম ব্যাংক’ ও ব্লু-প্রিন্ট ভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে প্রশ্নপত্র প্রণয়নে বৈচিত্র্য আসবে এবং কোচিংনির্ভরতা কমতে পারে।

মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে একটি ‘পাবলিক ড্যাশবোর্ড’ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পাঠ্যবই বিতরণ, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ক্লাস কার্যক্রমের তথ্য সাধারণ মানুষ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এতে জবাবদিহিতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

কর্মসংস্থানের বাজার বিবেচনায় বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, ডিজিটাল লিটারেসি এবং এআই (AI) সচেতনতা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদা পূরণে এ ধরনের পদক্ষেপ সময়োপযোগী।

শিক্ষামন্ত্রী আ আ ম এহসানুল হক মিলন অতীতে নকলবিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—পড়াশোনায় কোনো ধরনের ফাঁকি বা নকল বরদাশত করা হবে না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এ সমন্বয় কার্যকর হলে শিক্ষার মানোন্নয়নে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

দুই মন্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা:

ববি হাজ্জাজ (শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী)-

মাধ্যমিক: ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল
স্নাতক: রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইউনিভার্সিটি অব অস্টিন, যুক্তরাষ্ট্র
মাস্টার্স: বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্য
উচ্চতর শিক্ষা: প্রিস্টন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাজ্য।

আ আ ম এহসানুল হক মিলন (শিক্ষামন্ত্রী)-

মাধ্যমিক: শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়
উচ্চ মাধ্যমিক: সরকারি বিজ্ঞান কলেজ
স্নাতক: রসায়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
এমবিএ: নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি
পিএইচডি: রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মালয়েশিয়া।

নীতিগত ঘোষণা ও পরিকল্পনা ইতিবাচক হলেও, বাস্তবায়নই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। পর্যাপ্ত বাজেট, দক্ষ জনবল, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা—এই চারটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষাখাতে দৃশ্যমান উন্নতি সম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এখন দেখার বিষয়—ঘোষণাগুলো কত দ্রুত ও কতটা কার্যকরভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়। শিক্ষাখাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের জন্য জাতির চোখ এখন নতুন নেতৃত্বের দিকে।