বহিষ্কার স্বত্বেও নির্বাচনে বাজিমাত করেছিলেন যে ৪ নেতা
বিশ্বনাথ উপজেলা ও পৌর বিএনপির ১২ নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করল কেন্দ্র
- আপডেট সময় : ০৯:০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি সারা দেশের মতো সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের ১২ জন নেতা-কর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে। দলের চূড়ান্ত এই সিদ্ধান্তে বিশ্বনাথের তৃণমূল বিএনপি অঙ্গনে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য, উচ্ছ্বাস আর নতুন উদ্দীপনা।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) দলীয় প্যাডে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। সিদ্ধান্তের খবর বুঝে উঠার আগেই বিশ্বনাথে শুরু হয় মিষ্টি বিতরণ, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সামাজিক মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বন্যা। অনেকেই অনলাইনে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ, বিশ্বনাথ পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থী হওয়ায় বিভিন্ন সময় তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি।
বহিষ্কারাদেশপ্রাপ্ত নেতাদের মধ্যে ছিলেন—
সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সুহেল আহমদ চৌধুরী, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গৌছ খান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেবুল মিয়া, উপজেলা বিএনপির মহিলা সম্পাদক স্বপ্না শাহিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ কাওছার খান, খাজাঞ্চি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রব,
বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন, যুক্তরাজ্য নিউহ্যাম বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোমিন খান মুন্না,
উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুল ইসলাম রুহেল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন ধলা মিয়া, বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বসির আহমদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক হাফিজ আরব খান,
বিশ্বনাথের রাজনীতিতে আলোচিত চারজন নেতা বহিষ্কার থাকা অবস্থাতেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে মোহাম্মদ সুহেল আহমদ চৌধুরী বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে দারুণ চমক দেখান। কবির হোসেন ধলা মিয়া লামাকাজি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বহিষ্কৃত অবস্থাতেই আবারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।
তিনি বিশ্বনাথের প্রথম ইউপি চেয়ারম্যান, যিনি টানা চারবার জনগণের রায়ে নির্বাচিত হন। বহিষ্কারের পরও থামেননি নাজমুল ইসলাম রুহেল। অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিজ দলের অধিকৃত প্রার্থীকে দ্বিগুণ ভোটে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। সেই নির্বাচনে বিশ্বনাথের অন্যসব ইউনিয়নে বিজয়ীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নিজের নাম লিখিয়ে নেন স্থানীয় নির্বাচন ইতিহাসে। হাফিজ আরব খান দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বহিষ্কারাদেশ ঝুলিয়েই শক্তিশালী আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিপরীতে “ভূমিধস” বিজয় পান। সে বছর বিশ্বনাথ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের পাঁচ প্রার্থী মিলে যত ভোট পেয়েছিলেন, তার চেয়েও বেশি ভোট পেয়ে আলোচনায় আসেন হাফিজ আরব খান।
বিএনপি চেয়ারপারসনের সিদ্ধান্তে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সুহেল আহমদ চৌধুরী তাঁরসহ সকল নেতাকর্মীর পক্ষ থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন,
➤ এখন আর ভেদাভেদ নয়, সবাই মিলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘ধানের শীষ’-এর পক্ষে গণজোয়ার গড়ে তুলতে হবে।
➤তৃণমূলের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করেই আগামীর লড়াইয়ে নামবে বিশ্বনাথ বিএনপি।
বিশ্বনাথের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের মাধ্যমে একদিকে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রের দূরত্ব কমবে, অন্যদিকে আগামীর যেকোনো নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বনাথ বিএনপি আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হয়ে মাঠে নামবে—এমনটাই প্রত্যাশা তৃণমূলের।













