উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার, আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
সতেরো মিনিটের ব্যবধানে দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপলো বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০২:৩৩:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
মঙ্গলবার রাতে ১৭ মিনিটের ব্যবধানে পরপর দুই দফা শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে বাংলাদেশসহ আশপাশের অঞ্চল। প্রথম ভূমিকম্পটি রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে আঘাত হানে, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬ (কিছু সংস্থার হিসাবে ৫.৯)। এর ১৭ মিনিট পর রাত ৯টা ৫১ মিনিটে ৫.৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, উভয় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারে। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৬২ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই কম্পনের কেন্দ্রস্থল আগারগাঁও থেকে আনুমানিক ৫২১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
এ বিষয়ে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল ইসলাম জানান, মিয়ানমারের ওই অঞ্চলে দুটি সক্রিয় ফল্ট লাইন রয়েছে—একটি অভ্যন্তরীণ মিয়ানমার ফল্ট এবং অপরটি ইন্দোনেশিয়ার সুন্দা খাত থেকে উত্তর দিকে বিস্তৃত ফল্ট লাইন। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছে এই দুটি ফল্ট লাইনের মধ্যবর্তী এলাকায়।
তিনি বলেন, পরপর হওয়া দুটি কম্পনের মধ্যে দ্বিতীয়টি ছিল আফটার শক। এতে বড় ধরনের আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।
একই মত প্রকাশ করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আনসারী।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ভূমিকম্পের কম্পন তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হলেও ঢাকায় তা কম ছিল। তবে দীর্ঘমেয়াদে ভূমিকম্প সহনশীল ভবন নির্মাণ এবং তথ্যভিত্তিক জোনিং ম্যাপ প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটে সাতক্ষীরায় রিখটার স্কেলে ৪.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এ বিষয়ে ড. মেহেদী আনসারী জানান, এটি একটি বিক্ষিপ্ত ভূমিকম্প এবং মিয়ানমারের ভূমিকম্পের সঙ্গে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা এলাকায় একটি সক্রিয় ফল্ট লাইন বিস্তৃত রয়েছে, যা আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ হয়ে উত্তর দিকে হিমালয় পর্যন্ত প্রসারিত। এ কারণেই চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চল ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
ভূতাত্ত্বিকদের তথ্যমতে, বিশ্বে প্রতিবছর গড়ে প্রায় দুই হাজার ভূমিকম্প সংঘটিত হয়, যার মধ্যে শতাধিক তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। পৃথিবীর বিভিন্ন টেকটোনিক প্লেটের গতিশীলতার ফলেই মূলত এসব ভূমিকম্পের উৎপত্তি ঘটে।

























