ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সিলেটে ব্যাডমিন্টন তারকাদের সংবর্ধনা, সাফল্যের আড়ালে উঠে এলো অবহেলার গল্প ! আদর্শের ‘গায়েবি’ প্রত্যাবর্তন: ভোলবদলের নতুন বয়ানে সরগরম রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি: স্বাগত জানালো বাংলাদেশ সিলেটে শনিবার শুরু হচ্ছে আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা ও কৃষক বাজার “কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ!”—দিনাজপুরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ, গ্রেফতার ভাইরাল ভিডিও থেকে নতুন জীবনের আলো—শিশু ফাইজা পেল পুনর্বাসনের হাতছানি ! ইমদাদ চৌধুরীর ক্ষোভ—প্রস্তুতি সভায় নিজের আসন সংরক্ষিত না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ! যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সাথে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর ‘নবীন ফ্যাশন’ বন্ধে ওসিকে তলব, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোকান খুলতে নির্দেশ

গণপিটুনির নির্মমতা: চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে বৃদ্ধকে নির্যাতন, ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ১১:৩০:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন লতাচাপলী ইউনিয়নের তুলাতুলি গ্রামের বাসিন্দা মোতালেব আকন (৭০) চোর সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়ে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে যান মোতালেব আকন। এরপর থেকে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একদিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন তারা।

অভিযোগ রয়েছে, বরগুনার আমতলী উপজেলার ৪ নম্বর সারিকখালী ইউনিয়নের চাউলাপাড়া এলাকায় নিরব (২৭), জহির হাং (২৮), আল-আমিন (৩০)সহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জন তাকে চোর সন্দেহে গাছের সাথে বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশালে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোতালেব আকন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তারা জানান, একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে এভাবে নির্যাতন করে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এ বিষয়ে তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে। নিহতের বড় ছেলে মোয়াজ্জেম আকন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নম্বর-১২)। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গণপিটুনির নির্মমতা: চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে বৃদ্ধকে নির্যাতন, ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু

আপডেট সময় : ১১:৩০:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন লতাচাপলী ইউনিয়নের তুলাতুলি গ্রামের বাসিন্দা মোতালেব আকন (৭০) চোর সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়ে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে যান মোতালেব আকন। এরপর থেকে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একদিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন তারা।

অভিযোগ রয়েছে, বরগুনার আমতলী উপজেলার ৪ নম্বর সারিকখালী ইউনিয়নের চাউলাপাড়া এলাকায় নিরব (২৭), জহির হাং (২৮), আল-আমিন (৩০)সহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জন তাকে চোর সন্দেহে গাছের সাথে বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশালে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোতালেব আকন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তারা জানান, একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে এভাবে নির্যাতন করে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এ বিষয়ে তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে। নিহতের বড় ছেলে মোয়াজ্জেম আকন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নম্বর-১২)। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি উঠেছে।