ঢাকা ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য হতে চায় ফিলিস্তিন; ফিলিস্তিন প্রতিনিধি দলের প্রধান রিয়াদ মনসুর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত ভারতের শিলচরের সাহিত্য-সংস্কৃতি কর্মীদের সিলেটে সৌজন্য সাক্ষাৎ ছড়াকার সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী ছড়াশিল্পের অনন্য এক দিকপাল: প্রফেসর হারুনুর রশীদ ডাক্তারের পরামর্শে চার মাস কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ বিবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান রেনুর পিতার নামাজে জানাজা আজ দরগা মাসজিদে সিলেটে ডিবি’র জুয়া বিরোধী বিশেষ অভিযানে জুয়া খেলার সামগ্রীসহ ৬ জুয়ারি আটক সিলেটে ডিবি পুলিশের পৃথক দুটি অভিযানে জুয়া খেলার সামগ্রীসহ ২২ জন জুয়ারি গ্রেফতার গাজীপুরের কোনাবাড়িতে ঝুট গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ ইউনিট গাজীপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে মেয়েকে বাবার হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা

রওশন এরশাদকে সামনে রেখে আলাদা দল গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় পার্টির একাংশের নেতারা।

আবারও ভাঙনের মুখে জাতীয় পার্টি; মার্চে সম্মেলনের প্রস্তুতি !

তারেক আহমদ খান
  • আপডেট সময় : ১১:১১:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৪ ৮৯ বার পড়া হয়েছে

আবারও ভাঙনের মুখে হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের গড়া জাতীয় পার্টি। রওশন এরশাদকে সামনে রেখে আলাদা দল গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় পার্টির একাংশের নেতারা।

প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দেশের সব জেলা ও উপজেলায় নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। বিভাগীয় নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠকও করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীর অনেকেই এখন রওশনপন্থিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তারাও জি এম কাদেরপন্থিদের বাদ দিয়ে দল পুনর্গঠনের তাগিদ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

রওশন এরশাদের অনুসারীরা মনে করেন, জি এম কাদেরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির রাজনীতি বিপন্ন হওয়ার পথে। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে এক সময় তারা সর্বস্ব রাজনৈতিক দলে পরিণত হবে—যার আলামত এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। জেলা পর্যায়ের নেতারা আর কাদেরের নেতৃত্বে দল করতে চান না বলেও দাবি তাদের।

দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী ও গত দুটি সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের অনুসারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী মার্চের মধ্যে দলের সম্মেলন করতে চান তারা। সেই লক্ষ্যে ফেব্রুয়ারিতে তারা সারা দেশের নেতাকর্মীদের নিয়ে বড় পরিসরে বসবেন। সম্মেলনের মাধ্যমে রওশন এরশাদকে প্রধান পৃষ্ঠপোষক বা প্রধান উপদেষ্টা রেখে এরশাদের ছেলে সাদ এরশাদকে চেয়ারম্যান ও গোলাম মসিহকে দলের মহাসচিব করার চিন্তা করা হচ্ছে।

১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে যাত্রা শুরুর পর বিভিন্ন সময়ে নেতৃত্ব নিয়ে বিবাদে ভাঙনের মুখে পড়েছে জাতীয় পার্টি। বর্তমানেও মূল ধারার জাতীয় পার্টি অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে একটি অংশ জি এম কাদেরের নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মতো সংসদে বিরোধী হওয়ার পথে। আরেক অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন রওশন এরশাদ। দলীয় বিভাজনের কারণে তারা এবার লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করেননি। এছাড়া এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশার কিছু অনুসারী আলাদা অবস্থান নিয়ে আছেন। তারাও দল গঠনে সময় সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। সর্বশেষ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জি এম কাদেরপন্থিদের একটি অংশ এখন আলাদা অবস্থান নিয়েছে। তাদের কেউ কেউ পৃথক কমিটি ঘোষণার চিন্তাভাবনা করছেন।

দল পুনর্গঠনের বিষয়ে রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব গোলাম মসিহ বলেন, ‘আমরা নতুন দল গঠনের প্রক্রিয়া থেকে সরে যাইনি। আমরা জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করছি। পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও নজরে রাখছি।’

জি এম কাদেরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব টিকে থাকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা সংগঠিত হচ্ছি। একটি দল চোখের সামনে এভাবে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে না। জি এম কাদের যেভাবে দল পরিচালনা করছেন, এতে জাপা ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। সর্বশেষ পার্টির পরাজিত প্রার্থীদের বক্তব্য থেকে ভেতরের চিত্র বেরিয়ে এসেছে, যা খুবই হতাশাজনক। আমার কাছে মনে হয়, এভাবে জাপা আর এগিয়ে যেতে পারবে না। দলটির শেষ হওয়া শুরু হয়েছে। এজন্য আমরা ম্যাডামের (রওশন) নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে চাই। আগামী মাসের মধ্যে সম্মেলনের তারিখ ঠিক হবে।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে জাপায় জি এম কাদের ও রওশনকে কেন্দ্র করে দুটি বলয় তৈরি হয়। সে দুটি বলয় এখন প্রকাশ্য দুই শিবিরে বিভক্ত। সর্বশেষ ৭ জানুয়ারির নির্বাচন ঘিরেও দুপক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক বিভক্তি চরম রূপ নেয়। অনুসারীদের দলের মনোনয়ন না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত রওশন এরশাদ নির্বাচন বর্জন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জি এম কাদেরের সঙ্গে জোট না করার আহ্বানও জানান তিনি।

তবে শেষ পর্যন্ত রওশনপন্থিদের বাইরে রেখেই জি এম কাদেরের নেতৃত্বে জাপা নির্বাচনে অংশ নেয়। আওয়ামীলীগের সঙ্গে সমঝোতায় ২৬টি আসন ছাড় পেলেও জয়ী হন মাত্র ১১ জন। এ ছাড়া এককভাবে আরও ২৩৯টি আসনে নির্বাচন করে সবগুলোতেই হেরেছেন জাপার প্রার্থীরা। ৯০ শতাংশ প্রার্থী জামানত রক্ষা করতে পারেননি।

অন্যদিকে, রওশন এরশাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অন্তত ৪০ নেতা রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলেও কেউ পাস করতে পারেননি।

নির্বাচন শেষে দলের নেতারা জাপা চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্য, সরকারের কাছ থেকে অর্থ নিলেও দলের প্রার্থীদের কোনো ধরনের সহযোগিতা না করাসহ নানা অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন। সেইসঙ্গে দলের দুই শীর্ষ নেতার পদত্যাগও চান তারা। এ ঘটনা রওশনপন্থিদের জন্য সাপে বর হয়েছে। এ পরিস্থিতিকে তারা নতুন দল গঠনের জন্য মোক্ষম সময় হিসেবে দেখছেন।

সব মিলিয়ে অনেক দিন ধরে জিইয়ে থাকা জি এম কাদের ও রওশনের দ্বন্দ্ব এবার দলের ভাঙনে রূপ নিচ্ছে। নির্বাচন ইস্যুতে ক্ষুব্ধ নেতাদের কেউ কেউ এরই মধ্যে রওশনপন্থি অংশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। বিরোধী অবস্থান নেওয়ায় একের পর এক নেতাকে বহিষ্কার করছেন জি এম কাদের।

এ প্রসঙ্গে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন,‘নির্বাচনের পর কোনো জেলার নেতারাই জি এম কাদেরের সঙ্গে রাজনীতি করতে চাইছেন না। সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা আমাদের সঙ্গে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করে যোগাযোগ করছেন। সব দিক মাথায় রেখেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’

তবে দল ভাঙার এসব তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই জানিয়ে জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘জাতীয় পার্টি এক আছে। কোনো কোন্দল নেই। বাইরের কোনো শক্তি ইন্ধন দিয়ে দলে নানা মেরূকরণ সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। আমরা তাদের সফল হতে দেব না।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রওশন এরশাদকে সামনে রেখে আলাদা দল গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় পার্টির একাংশের নেতারা।

আবারও ভাঙনের মুখে জাতীয় পার্টি; মার্চে সম্মেলনের প্রস্তুতি !

আপডেট সময় : ১১:১১:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৪

আবারও ভাঙনের মুখে হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের গড়া জাতীয় পার্টি। রওশন এরশাদকে সামনে রেখে আলাদা দল গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় পার্টির একাংশের নেতারা।

প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দেশের সব জেলা ও উপজেলায় নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। বিভাগীয় নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠকও করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীর অনেকেই এখন রওশনপন্থিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তারাও জি এম কাদেরপন্থিদের বাদ দিয়ে দল পুনর্গঠনের তাগিদ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

রওশন এরশাদের অনুসারীরা মনে করেন, জি এম কাদেরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির রাজনীতি বিপন্ন হওয়ার পথে। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে এক সময় তারা সর্বস্ব রাজনৈতিক দলে পরিণত হবে—যার আলামত এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। জেলা পর্যায়ের নেতারা আর কাদেরের নেতৃত্বে দল করতে চান না বলেও দাবি তাদের।

দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী ও গত দুটি সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের অনুসারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী মার্চের মধ্যে দলের সম্মেলন করতে চান তারা। সেই লক্ষ্যে ফেব্রুয়ারিতে তারা সারা দেশের নেতাকর্মীদের নিয়ে বড় পরিসরে বসবেন। সম্মেলনের মাধ্যমে রওশন এরশাদকে প্রধান পৃষ্ঠপোষক বা প্রধান উপদেষ্টা রেখে এরশাদের ছেলে সাদ এরশাদকে চেয়ারম্যান ও গোলাম মসিহকে দলের মহাসচিব করার চিন্তা করা হচ্ছে।

১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে যাত্রা শুরুর পর বিভিন্ন সময়ে নেতৃত্ব নিয়ে বিবাদে ভাঙনের মুখে পড়েছে জাতীয় পার্টি। বর্তমানেও মূল ধারার জাতীয় পার্টি অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে একটি অংশ জি এম কাদেরের নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মতো সংসদে বিরোধী হওয়ার পথে। আরেক অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন রওশন এরশাদ। দলীয় বিভাজনের কারণে তারা এবার লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করেননি। এছাড়া এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশার কিছু অনুসারী আলাদা অবস্থান নিয়ে আছেন। তারাও দল গঠনে সময় সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। সর্বশেষ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জি এম কাদেরপন্থিদের একটি অংশ এখন আলাদা অবস্থান নিয়েছে। তাদের কেউ কেউ পৃথক কমিটি ঘোষণার চিন্তাভাবনা করছেন।

দল পুনর্গঠনের বিষয়ে রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব গোলাম মসিহ বলেন, ‘আমরা নতুন দল গঠনের প্রক্রিয়া থেকে সরে যাইনি। আমরা জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করছি। পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও নজরে রাখছি।’

জি এম কাদেরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব টিকে থাকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা সংগঠিত হচ্ছি। একটি দল চোখের সামনে এভাবে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে না। জি এম কাদের যেভাবে দল পরিচালনা করছেন, এতে জাপা ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। সর্বশেষ পার্টির পরাজিত প্রার্থীদের বক্তব্য থেকে ভেতরের চিত্র বেরিয়ে এসেছে, যা খুবই হতাশাজনক। আমার কাছে মনে হয়, এভাবে জাপা আর এগিয়ে যেতে পারবে না। দলটির শেষ হওয়া শুরু হয়েছে। এজন্য আমরা ম্যাডামের (রওশন) নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে চাই। আগামী মাসের মধ্যে সম্মেলনের তারিখ ঠিক হবে।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে জাপায় জি এম কাদের ও রওশনকে কেন্দ্র করে দুটি বলয় তৈরি হয়। সে দুটি বলয় এখন প্রকাশ্য দুই শিবিরে বিভক্ত। সর্বশেষ ৭ জানুয়ারির নির্বাচন ঘিরেও দুপক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক বিভক্তি চরম রূপ নেয়। অনুসারীদের দলের মনোনয়ন না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত রওশন এরশাদ নির্বাচন বর্জন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জি এম কাদেরের সঙ্গে জোট না করার আহ্বানও জানান তিনি।

তবে শেষ পর্যন্ত রওশনপন্থিদের বাইরে রেখেই জি এম কাদেরের নেতৃত্বে জাপা নির্বাচনে অংশ নেয়। আওয়ামীলীগের সঙ্গে সমঝোতায় ২৬টি আসন ছাড় পেলেও জয়ী হন মাত্র ১১ জন। এ ছাড়া এককভাবে আরও ২৩৯টি আসনে নির্বাচন করে সবগুলোতেই হেরেছেন জাপার প্রার্থীরা। ৯০ শতাংশ প্রার্থী জামানত রক্ষা করতে পারেননি।

অন্যদিকে, রওশন এরশাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অন্তত ৪০ নেতা রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলেও কেউ পাস করতে পারেননি।

নির্বাচন শেষে দলের নেতারা জাপা চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্য, সরকারের কাছ থেকে অর্থ নিলেও দলের প্রার্থীদের কোনো ধরনের সহযোগিতা না করাসহ নানা অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন। সেইসঙ্গে দলের দুই শীর্ষ নেতার পদত্যাগও চান তারা। এ ঘটনা রওশনপন্থিদের জন্য সাপে বর হয়েছে। এ পরিস্থিতিকে তারা নতুন দল গঠনের জন্য মোক্ষম সময় হিসেবে দেখছেন।

সব মিলিয়ে অনেক দিন ধরে জিইয়ে থাকা জি এম কাদের ও রওশনের দ্বন্দ্ব এবার দলের ভাঙনে রূপ নিচ্ছে। নির্বাচন ইস্যুতে ক্ষুব্ধ নেতাদের কেউ কেউ এরই মধ্যে রওশনপন্থি অংশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। বিরোধী অবস্থান নেওয়ায় একের পর এক নেতাকে বহিষ্কার করছেন জি এম কাদের।

এ প্রসঙ্গে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন,‘নির্বাচনের পর কোনো জেলার নেতারাই জি এম কাদেরের সঙ্গে রাজনীতি করতে চাইছেন না। সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা আমাদের সঙ্গে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করে যোগাযোগ করছেন। সব দিক মাথায় রেখেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’

তবে দল ভাঙার এসব তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই জানিয়ে জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘জাতীয় পার্টি এক আছে। কোনো কোন্দল নেই। বাইরের কোনো শক্তি ইন্ধন দিয়ে দলে নানা মেরূকরণ সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। আমরা তাদের সফল হতে দেব না।’