ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সিলেটে ব্যাডমিন্টন তারকাদের সংবর্ধনা, সাফল্যের আড়ালে উঠে এলো অবহেলার গল্প ! আদর্শের ‘গায়েবি’ প্রত্যাবর্তন: ভোলবদলের নতুন বয়ানে সরগরম রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি: স্বাগত জানালো বাংলাদেশ সিলেটে শনিবার শুরু হচ্ছে আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা ও কৃষক বাজার “কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ!”—দিনাজপুরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ, গ্রেফতার ভাইরাল ভিডিও থেকে নতুন জীবনের আলো—শিশু ফাইজা পেল পুনর্বাসনের হাতছানি ! ইমদাদ চৌধুরীর ক্ষোভ—প্রস্তুতি সভায় নিজের আসন সংরক্ষিত না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ! যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সাথে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর ‘নবীন ফ্যাশন’ বন্ধে ওসিকে তলব, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোকান খুলতে নির্দেশ

ইতিহাসের বাঁক, বিশ্বাসঘাতকতা ও নতুন প্রজন্মের রাজনীতি: একটি বিশ্লেষণ

তারেক আহমদ খান
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৩:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬ ৭৫ বার পড়া হয়েছে

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। দলীয় শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা—শাহ আজিজুর রহমান, ডাঃ এম এ মতিন, শামসুল হুদা প্রমুখ—তৎকালীন অস্থিরতায় ভিন্ন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে এগোতে শুরু করেন বলেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল।

এদিকে সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ যখন রাজনীতিতে নিজস্ব অবস্থান পোক্ত করতে চান, তখন সবচেয়ে বড় বাধা ছিল বিএনপির সংগঠন ও জনভিত্তি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সে সময় দলভাঙা ও প্রভাবশালী নেতাদের টেনে নেওয়ার কৌশল শুরু হয়।
১৯৮৩ সালে এরশাদ জনদল গঠন করলে ডাঃ এম এ মতিনকে মহাসচিব করা হয়—যা তৎকালীন রাজনীতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়েছিল। একই সময়ে বিচারপতি আবদুস সাত্তার-এর নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এমনকি ‘আসল বিএনপি’ দাবিতে সমান্তরাল কমিটি গঠন এবং দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে টানাপোড়েনের ঘটনাও ঘটে।

সে সময় সদ্য বিধবা বেগম খালেদা জিয়া-র রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। কিন্তু দলীয় সংকট, নেতৃত্বের প্রশ্ন এবং প্রতীক রক্ষার লড়াই তাকে সামনে নিয়ে আসে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন—“দলে যারা মীর জাফর, তাদের জায়গা বিএনপিতে হবে না।”

এই সংকট-পর্বই পরবর্তীতে তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে—এমন মূল্যায়ন অনেকের।

ডাঃ মতিন পরে এরশাদ সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রীসহ স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, বাণিজ্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। রাজনীতিতে অবস্থান বদলের বিনিময়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে জায়গা পাওয়ার এ অধ্যায় এখনো আলোচিত।

প্রজন্মান্তরের রাজনীতি: প্রতিশোধ নাকি পুনর্মিলন?
বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান-এর নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকেরা প্রশ্ন তুললেও সমর্থকেরা বলছেন—এখানেই নাকি অতীতের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য। তাদের মতে, ব্যক্তিগত রাগ-অনুযোগ বা প্রতিশোধের রাজনীতি নয়—বরং নতুন প্রজন্মের রাজনীতিতে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা দৃশ্যমান।

অন্যদিকে শেখ হাসিনা-র দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের সঙ্গে তুলনা টেনে কেউ কেউ বলেন—রাজনীতির ভাষা ও মনস্তত্ত্ব বদলাচ্ছে।

ইতিহাসে দলভাঙা, বিশ্বাসঘাতকতা, পুনর্গঠন—সবই রাজনীতির অংশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে সংগঠন, নেতৃত্বের দৃঢ়তা এবং সময়োপযোগী কৌশল।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ৮০’র দশকের সেই ঝড় আজও প্রাসঙ্গিক—কারণ তা দেখিয়েছে, সংকটই কখনও কখনও নতুন নেতৃত্বের জন্ম দেয়।
এখন প্রশ্ন একটাই—নতুন প্রজন্ম কি অতীতের ক্ষত বয়ে নিয়ে চলবে, নাকি সেখান থেকেই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলবে?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইতিহাসের বাঁক, বিশ্বাসঘাতকতা ও নতুন প্রজন্মের রাজনীতি: একটি বিশ্লেষণ

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। দলীয় শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা—শাহ আজিজুর রহমান, ডাঃ এম এ মতিন, শামসুল হুদা প্রমুখ—তৎকালীন অস্থিরতায় ভিন্ন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে এগোতে শুরু করেন বলেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল।

এদিকে সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ যখন রাজনীতিতে নিজস্ব অবস্থান পোক্ত করতে চান, তখন সবচেয়ে বড় বাধা ছিল বিএনপির সংগঠন ও জনভিত্তি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সে সময় দলভাঙা ও প্রভাবশালী নেতাদের টেনে নেওয়ার কৌশল শুরু হয়।
১৯৮৩ সালে এরশাদ জনদল গঠন করলে ডাঃ এম এ মতিনকে মহাসচিব করা হয়—যা তৎকালীন রাজনীতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়েছিল। একই সময়ে বিচারপতি আবদুস সাত্তার-এর নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এমনকি ‘আসল বিএনপি’ দাবিতে সমান্তরাল কমিটি গঠন এবং দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে টানাপোড়েনের ঘটনাও ঘটে।

সে সময় সদ্য বিধবা বেগম খালেদা জিয়া-র রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। কিন্তু দলীয় সংকট, নেতৃত্বের প্রশ্ন এবং প্রতীক রক্ষার লড়াই তাকে সামনে নিয়ে আসে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন—“দলে যারা মীর জাফর, তাদের জায়গা বিএনপিতে হবে না।”

এই সংকট-পর্বই পরবর্তীতে তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে—এমন মূল্যায়ন অনেকের।

ডাঃ মতিন পরে এরশাদ সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রীসহ স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, বাণিজ্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। রাজনীতিতে অবস্থান বদলের বিনিময়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে জায়গা পাওয়ার এ অধ্যায় এখনো আলোচিত।

প্রজন্মান্তরের রাজনীতি: প্রতিশোধ নাকি পুনর্মিলন?
বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান-এর নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকেরা প্রশ্ন তুললেও সমর্থকেরা বলছেন—এখানেই নাকি অতীতের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য। তাদের মতে, ব্যক্তিগত রাগ-অনুযোগ বা প্রতিশোধের রাজনীতি নয়—বরং নতুন প্রজন্মের রাজনীতিতে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা দৃশ্যমান।

অন্যদিকে শেখ হাসিনা-র দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের সঙ্গে তুলনা টেনে কেউ কেউ বলেন—রাজনীতির ভাষা ও মনস্তত্ত্ব বদলাচ্ছে।

ইতিহাসে দলভাঙা, বিশ্বাসঘাতকতা, পুনর্গঠন—সবই রাজনীতির অংশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে সংগঠন, নেতৃত্বের দৃঢ়তা এবং সময়োপযোগী কৌশল।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ৮০’র দশকের সেই ঝড় আজও প্রাসঙ্গিক—কারণ তা দেখিয়েছে, সংকটই কখনও কখনও নতুন নেতৃত্বের জন্ম দেয়।
এখন প্রশ্ন একটাই—নতুন প্রজন্ম কি অতীতের ক্ষত বয়ে নিয়ে চলবে, নাকি সেখান থেকেই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলবে?