প্রবাসী লাউঞ্জে ‘ঘুমকাণ্ড’: ব্যারিস্টার নাজিরের পোস্টে তোলপাড়; প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর দৃষ্টি কি পড়বে !
- আপডেট সময় : ১১:৩৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০০ বার পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট:
ঢাকার আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার ঘিরে আবারও তুমুল আলোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ব্যারিস্টার নাজির আহমদের একটি ফেসবুক পোস্ট, যেখানে তিনি প্রবাসী লাউঞ্জে ইমিগ্রেশন পুলিশের দায়িত্ব পালনের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, ফ্লাইট বিলম্ব হওয়ায় বিশ্রামের জন্য প্রবাসী লাউঞ্জে গেলে সেখানে কয়েকজন ইমিগ্রেশন পুলিশ সদস্যকে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় প্রকাশ্য স্থানে ঘুমাতে দেখেন। তাঁর ভাষায়—
“ডিউটিতে থাকা অবস্থায় এভাবে ইউনিফর্ম পরে পাবলিক প্লেসে ঘুমানো পেশাদারিত্বের মধ্যে পড়ে না। বিদেশিরা দেখলে দেশের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, সংশ্লিষ্টদের চাকরি চলে যাক—এমন দাবি নয়; বরং সচেতনতা ও যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়ন চান।
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়ায় সমালোচনা এবং সহানুভূতি উভয়ই প্রকাশ পেয়েছে। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
একাংশ বলছেন, “এটা দেশের ভাবমূর্তির প্রশ্ন—বিমানবন্দরেই যদি এমন হয়!”
অন্যরা বলছেন, “অতিরিক্ত ডিউটি, জনবল সংকট ও টানা শিফটের চাপে এমনটা ঘটতে পারে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের বিমানবন্দর তার আন্তর্জাতিক মুখ। এখানে শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও সেবার মান সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা উচিত।
পোস্টটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার হলেও, বর্তমানে নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত নতুন সরকার ইতোমধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। মন্ত্রিসভায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
তাঁর কাছে প্রবাসীসহ সাধারণ নাগরিকদের প্রত্যাশা—
✔️ প্রবাসী লাউঞ্জের কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করা
✔️ ডিউটি রোস্টার ও বিশ্রামব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস
✔️ পেশাদার আচরণে কঠোর নির্দেশনা
✔️ প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি
এ বিষয়ে এখনো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বা ইমিগ্রেশন পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভাইরাল এই ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন মহলের নজরদারি বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখন বড় প্রশ্ন উদ্বোধনের পর রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি কতটা কার্যকর কিংবা দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলা নিশ্চিতে কী ব্যবস্থা রয়েছে অথবা প্রবাসীদের জন্য চালু করা বিশেষ লাউঞ্জের মান রক্ষায় কী উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিমানবন্দর কেবল যাত্রী চলাচলের স্থান নয়—এটি একটি দেশের আন্তর্জাতিক পরিচয়পত্র। ভাইরাল এই পোস্টের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।














