সিলেটে অপপ্রচার, ভোট কেনা ও কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতির অভিযোগ বিএনপির
- আপডেট সময় : ০৩:২৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটে পরিকল্পিত অপপ্রচার, ভোট কেনা, কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শনিবার নগরীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে দলটি অবিলম্বে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয়ের আশঙ্কায় একটি স্বাধীনতাবিরোধী ও অশুভ চক্র সিলেটের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে গুজব ছড়িয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চলছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
রেজাউল হাসান কয়েস লোদী আরও অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় কোমলমতি শিশু ও নারীদের বিভ্রান্ত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। নির্বাচনী প্রচারণায় শিশু-কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রকাশ্য জনসভায় ধর্মকে ব্যবহার করে বেহেশতের প্রলোভন দেখিয়ে ভোট প্রার্থনা করা হচ্ছে, যা স্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নগরী ও সদর উপজেলার একাধিক ভোটকেন্দ্রে বেআইনি প্রভাব বিস্তার ও কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে বিএনপি তথ্য পেয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা ইতোমধ্যে প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়েছে এবং ভোটের আগে ও পরে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের জন্য জেলা রিটার্নিং অফিসারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এছাড়া প্রতিপক্ষ প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগও করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি দাবি করেন, নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে প্রকাশ্যভাবে অর্থ বিতরণের প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে, যা প্রমাণসহ স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে বহিরাগতদের অস্বাভাবিক আনাগোনা বেড়েছে, যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
কয়েস লোদী আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকরা নির্বাচন কমিশনের গোপনীয় ও সংরক্ষিত ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের দেখাচ্ছেন ও বিতরণ করছেন। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী এ ধরনের কাজ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এটি ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধভাবে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা সরবরাহ ও ব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান। কিন্তু এভাবে আচরণবিধির নগ্ন লঙ্ঘন চলতে থাকলে জনগণের ভোটাধিকার ও নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা নষ্ট হবে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেটের ৬টি আসনের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র ঋণ ও কুটির শিল্প বিষয়ক সহ-সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকি, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি আব্দুল আহাদ খান জামালসহ জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা।















