ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
তারেক রহমান দেশে না ফিরলেও নির্বাচন স্থগিত হবে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি রুবেল আহমদের মৃত্যু: পরিবারে শোকের মাতম ! এনইআইআর সংস্কারসহ তিন দফা দাবিতে সিলেটে মোবাইল ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন বিশ্বনাথ উপজেলা ও পৌর বিএনপির ১২ নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করল কেন্দ্র তিনদিন পর দু-একটা কথা বললেন খালেদা জিয়া, শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন ! বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্থতার কামনায় দোয়া মাহফিল বন্ধুর ডাকে ঘর থেকে বেরিয়ে লাশ হয়ে ফিরল তপু ! সিলেট মহানগর বিএনপিতে ফের পদ ফিরে পেলেন সভাপতি নাসিম হোসাইন !  হাসিনার ফাঁসি মামলায় লড়বেন না জেড আই খান পান্না, ভিডিওবার্তায় ঘোষণা নরসিংদীর এসপি হতে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ, প্রমাণের পরও ‘তিরস্কার’ দণ্ডে পার পেলেন পুলিশ সুপার হান্নান!

তিনদিন পর দু-একটা কথা বললেন খালেদা জিয়া, শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন !

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০৮:১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১১ বার পড়া হয়েছে

হাসপাতালে টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মৃত্যুপথযাত্রী লড়াই। তিন দিন ধরে প্রায় কোনো সাড়া নেই। সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে শনিবার হঠাৎই দু–একটি কথা বলেছেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তবে চিকিৎসকরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন—অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি, তিনি এখনো সংকটাপন্ন।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে উন্নত পর্যবেক্ষণে থাকা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দেশজুড়ে উৎকণ্ঠা চরমে পৌঁছেছে। মেডিকেল বোর্ড জানাচ্ছে, গত তিন দিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থা প্রায় একই পর্যায়ে স্থির আছে—না অতটা খারাপের দিকে যাচ্ছে, আবার আশাব্যঞ্জক উন্নতিও দেখা যাচ্ছে না।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার কিডনির কার্যক্ষমতা ভয়াবহভাবে কমে যাওয়ায় ধারাবাহিক ডায়ালাইসিস চালানো হচ্ছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে সর্বশেষ ডায়ালাইসিস শেষ হয়। এতে অবস্থার নাটকীয় উন্নতি না হলেও সাময়িক স্থিতিশীলতা এসেছে বলে জানাচ্ছেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা।

এছাড়া তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে, ফুসফুসের সংক্রমণ থেকে নিউমোনিয়ার জটিলতা তৈরি হয়েছে, হৃদ্‌যন্ত্রের কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে, অগ্ন্যাশয়ের তীব্র প্রদাহ (প্যানক্রিয়াটাইটিস), কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিস—সব মিলিয়ে খুব জটিল এক মেডিকেল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন তিনি।

বোর্ডের এক সদস্য স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “তিনি স্টেবল থাকলেও এখনও শঙ্কামুক্ত নন।” কথা বলেছেন, হাত-পা নেড়েছেন—তবু স্বস্তি নেই।

তথ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকে তিনি খুব একটা সাড়া দিচ্ছিলেন না। তিন দিন পর শনিবার তিনি দু–একটি কথা বলেছেন, হাত-পা কিছুটা নেড়েছেন। এ খবর কিছুটা স্বস্তি দিলেও চিকিৎসকরা এটিকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন না; এটিকে তারা “ক্রিটিক্যাল কিন্তু স্টেবল” অবস্থা হিসেবেই বিবেচনা করছেন। বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি—কিন্তু শরীর এখনও ‘ধকল সহ্য করার মতো’ নয়।

বেগম খালেদা জিয়াকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে পরিবার ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ে প্রস্তুতি, আলোচনার পর আলোচনা চলছে।
☞ সম্ভাব্য চিকিৎসার গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস, লন্ডনের লন্ডন ক্লিনিক,
☞ পাশাপাশি চীনের একটি বিশেষজ্ঞ টিম ঢাকায় এসে তাঁর অবস্থা মূল্যায়ন করতে পারে—এমন পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, ভিসা, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স,
একাধিক দেশের হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ—
এসব কাজ সমান্তরালে চলছে। তবে মেডিকেল বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া এবং তাঁর শরীর এ ধকল নেওয়ার মতো উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঝুলে রয়েছে অনিশ্চয়তার দড়িতে।

হাসপাতালের সিসিইউর ভেতরে চিকিৎসকরা যেমন একনাগাড়ে কাজ করে যাচ্ছেন, তেমনি দেশের বাইরে থেকেও সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

✔লন্ডন থেকে তিনি সরাসরি এভারকেয়ারের মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন,
✔যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব ও চীনের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অনলাইনে কনসাল্টেশন করছেন, যাতে বিশ্বের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসুবিধা একত্রিত করে খালেদা জিয়ার জন্য প্রয়োগ করা যায়।

মেডিকেল বোর্ডের মতে, আগামী কয়েকটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে—
➤কিডনির কার্যক্ষমতায় স্থিতিশীলতা আসবে কি না,
➤ইনফেকশন কতটা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়,
➤অক্সিজেনের ওপর নির্ভরতা কমানো যায় কি না—
এসবই নির্ধারণ করে দেবে অবস্থার ভবিষ্যৎ গতি কোন দিকে যাবে।

এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে প্রতিদিনই জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। সিসিইউর কাঁচের দেয়াল পেরিয়ে তাঁকে দেখা না গেলেও চোখের জল, দোয়া আর উৎকণ্ঠায় তারা প্রহর গুনছেন। ঢাকাসহ সারাদেশের মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, গির্জায় দোয়া ও প্রার্থনার খবর আসছে ধারাবাহিকভাবে।

গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ভোটাধিকারের সংগ্রামে তাঁর দীর্ঘ ভূমিকা স্মরণ করে অনেকেই বলছেন—
“এ শুধু একজন দলের চেয়ারপারসনের জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন নয়, এটা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক জীবন্ত অধ্যায়ের জীবন-মৃত্যুর লড়াই।”

বাংলাদেশের মানুষ আজ একসুরে প্রার্থনা করছে—
আল্লাহ তাআলা বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ আরোগ্য দান করুন, এই সংকটময় সময় অতিক্রম করার তাওফিক দিন, এবং তাঁকে সুস্থভাবে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনুন। 🤲

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তিনদিন পর দু-একটা কথা বললেন খালেদা জিয়া, শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন !

আপডেট সময় : ০৮:১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

হাসপাতালে টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মৃত্যুপথযাত্রী লড়াই। তিন দিন ধরে প্রায় কোনো সাড়া নেই। সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে শনিবার হঠাৎই দু–একটি কথা বলেছেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তবে চিকিৎসকরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন—অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি, তিনি এখনো সংকটাপন্ন।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে উন্নত পর্যবেক্ষণে থাকা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দেশজুড়ে উৎকণ্ঠা চরমে পৌঁছেছে। মেডিকেল বোর্ড জানাচ্ছে, গত তিন দিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থা প্রায় একই পর্যায়ে স্থির আছে—না অতটা খারাপের দিকে যাচ্ছে, আবার আশাব্যঞ্জক উন্নতিও দেখা যাচ্ছে না।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার কিডনির কার্যক্ষমতা ভয়াবহভাবে কমে যাওয়ায় ধারাবাহিক ডায়ালাইসিস চালানো হচ্ছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে সর্বশেষ ডায়ালাইসিস শেষ হয়। এতে অবস্থার নাটকীয় উন্নতি না হলেও সাময়িক স্থিতিশীলতা এসেছে বলে জানাচ্ছেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা।

এছাড়া তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে, ফুসফুসের সংক্রমণ থেকে নিউমোনিয়ার জটিলতা তৈরি হয়েছে, হৃদ্‌যন্ত্রের কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে, অগ্ন্যাশয়ের তীব্র প্রদাহ (প্যানক্রিয়াটাইটিস), কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিস—সব মিলিয়ে খুব জটিল এক মেডিকেল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন তিনি।

বোর্ডের এক সদস্য স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “তিনি স্টেবল থাকলেও এখনও শঙ্কামুক্ত নন।” কথা বলেছেন, হাত-পা নেড়েছেন—তবু স্বস্তি নেই।

তথ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকে তিনি খুব একটা সাড়া দিচ্ছিলেন না। তিন দিন পর শনিবার তিনি দু–একটি কথা বলেছেন, হাত-পা কিছুটা নেড়েছেন। এ খবর কিছুটা স্বস্তি দিলেও চিকিৎসকরা এটিকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন না; এটিকে তারা “ক্রিটিক্যাল কিন্তু স্টেবল” অবস্থা হিসেবেই বিবেচনা করছেন। বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি—কিন্তু শরীর এখনও ‘ধকল সহ্য করার মতো’ নয়।

বেগম খালেদা জিয়াকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে পরিবার ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ে প্রস্তুতি, আলোচনার পর আলোচনা চলছে।
☞ সম্ভাব্য চিকিৎসার গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস, লন্ডনের লন্ডন ক্লিনিক,
☞ পাশাপাশি চীনের একটি বিশেষজ্ঞ টিম ঢাকায় এসে তাঁর অবস্থা মূল্যায়ন করতে পারে—এমন পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, ভিসা, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স,
একাধিক দেশের হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ—
এসব কাজ সমান্তরালে চলছে। তবে মেডিকেল বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া এবং তাঁর শরীর এ ধকল নেওয়ার মতো উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঝুলে রয়েছে অনিশ্চয়তার দড়িতে।

হাসপাতালের সিসিইউর ভেতরে চিকিৎসকরা যেমন একনাগাড়ে কাজ করে যাচ্ছেন, তেমনি দেশের বাইরে থেকেও সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

✔লন্ডন থেকে তিনি সরাসরি এভারকেয়ারের মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন,
✔যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব ও চীনের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অনলাইনে কনসাল্টেশন করছেন, যাতে বিশ্বের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসুবিধা একত্রিত করে খালেদা জিয়ার জন্য প্রয়োগ করা যায়।

মেডিকেল বোর্ডের মতে, আগামী কয়েকটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে—
➤কিডনির কার্যক্ষমতায় স্থিতিশীলতা আসবে কি না,
➤ইনফেকশন কতটা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়,
➤অক্সিজেনের ওপর নির্ভরতা কমানো যায় কি না—
এসবই নির্ধারণ করে দেবে অবস্থার ভবিষ্যৎ গতি কোন দিকে যাবে।

এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে প্রতিদিনই জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। সিসিইউর কাঁচের দেয়াল পেরিয়ে তাঁকে দেখা না গেলেও চোখের জল, দোয়া আর উৎকণ্ঠায় তারা প্রহর গুনছেন। ঢাকাসহ সারাদেশের মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, গির্জায় দোয়া ও প্রার্থনার খবর আসছে ধারাবাহিকভাবে।

গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ভোটাধিকারের সংগ্রামে তাঁর দীর্ঘ ভূমিকা স্মরণ করে অনেকেই বলছেন—
“এ শুধু একজন দলের চেয়ারপারসনের জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন নয়, এটা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক জীবন্ত অধ্যায়ের জীবন-মৃত্যুর লড়াই।”

বাংলাদেশের মানুষ আজ একসুরে প্রার্থনা করছে—
আল্লাহ তাআলা বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ আরোগ্য দান করুন, এই সংকটময় সময় অতিক্রম করার তাওফিক দিন, এবং তাঁকে সুস্থভাবে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনুন। 🤲