ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পাস কার্ড ইস্যুতে অনিয়ম ও গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে সমালোচনা সিলেটে ব্যাডমিন্টন তারকাদের সংবর্ধনা, সাফল্যের আড়ালে উঠে এলো অবহেলার গল্প ! আদর্শের ‘গায়েবি’ প্রত্যাবর্তন: ভোলবদলের নতুন বয়ানে সরগরম রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি: স্বাগত জানালো বাংলাদেশ সিলেটে শনিবার শুরু হচ্ছে আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা ও কৃষক বাজার “কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ!”—দিনাজপুরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ, গ্রেফতার ভাইরাল ভিডিও থেকে নতুন জীবনের আলো—শিশু ফাইজা পেল পুনর্বাসনের হাতছানি ! ইমদাদ চৌধুরীর ক্ষোভ—প্রস্তুতি সভায় নিজের আসন সংরক্ষিত না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ! যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সাথে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

৩০-৪০ মিনিটে বদলে যায় ক্ষমতার পটভূমি: বঙ্গভবনের ভেতরের ঘটনা জানালেন রাষ্ট্রপতি

স্টাফ রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৯:৩১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৯৪ বার পড়া হয়েছে

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বঙ্গভবনে কী ঘটেছিল—তা নিয়ে মুখ খুলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সম্প্রতি বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সেদিনের ঘটনাপ্রবাহের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রপতি জানান, আন্দোলন হঠাৎ করেই জনবিস্ফোরণে রূপ নেয় এবং দুপুরের পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে শুরু করে। বিক্ষোভকারীরা গণভবনের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন—এমন তথ্যের মধ্যে তাকে জানানো হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেকোনো সময় বঙ্গভবনে আসতে পারেন। দুপুর ১২টার দিকে জানানো হয়, তিনি বঙ্গভবনে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, সম্ভাব্য আগমনের খবর পাওয়ার পর বঙ্গভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। তবে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী আর আসছেন না। কিছুক্ষণ পরেই খবর আসে, তিনি দেশ ছেড়েছেন। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাপ্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।

রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টার দিকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান টেলিফোনে তাকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। পরে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকেও বিস্তারিত জানানো হয়। সেনাপ্রধান গণমাধ্যমে ব্রিফিং করে প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পরবর্তীতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধান বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে বসেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, দেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে আলোচনায় যুক্ত করা হবে। সেনা সদরে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের একত্র করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদেরও ওই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে তারা বঙ্গভবনে এসে রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার—এই তিনটি প্রস্তাব উঠে আসে। আলোচনার পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়। রাষ্ট্রপতি জানান, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি রাত ১১টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন এবং দেশবাসীকে পরিস্থিতি সম্পর্কে আশ্বস্ত করেন। সরকার গঠনের প্রক্রিয়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দিনের কয়েক ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ ছিল অত্যন্ত দ্রুত ও অনিশ্চয়তায় ভরা। তবে আলোচনার মাধ্যমে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

৩০-৪০ মিনিটে বদলে যায় ক্ষমতার পটভূমি: বঙ্গভবনের ভেতরের ঘটনা জানালেন রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় : ০৯:৩১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বঙ্গভবনে কী ঘটেছিল—তা নিয়ে মুখ খুলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সম্প্রতি বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সেদিনের ঘটনাপ্রবাহের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রপতি জানান, আন্দোলন হঠাৎ করেই জনবিস্ফোরণে রূপ নেয় এবং দুপুরের পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে শুরু করে। বিক্ষোভকারীরা গণভবনের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন—এমন তথ্যের মধ্যে তাকে জানানো হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেকোনো সময় বঙ্গভবনে আসতে পারেন। দুপুর ১২টার দিকে জানানো হয়, তিনি বঙ্গভবনে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, সম্ভাব্য আগমনের খবর পাওয়ার পর বঙ্গভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। তবে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী আর আসছেন না। কিছুক্ষণ পরেই খবর আসে, তিনি দেশ ছেড়েছেন। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাপ্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।

রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টার দিকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান টেলিফোনে তাকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। পরে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকেও বিস্তারিত জানানো হয়। সেনাপ্রধান গণমাধ্যমে ব্রিফিং করে প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পরবর্তীতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধান বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে বসেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, দেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে আলোচনায় যুক্ত করা হবে। সেনা সদরে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের একত্র করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদেরও ওই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে তারা বঙ্গভবনে এসে রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার—এই তিনটি প্রস্তাব উঠে আসে। আলোচনার পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়। রাষ্ট্রপতি জানান, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি রাত ১১টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন এবং দেশবাসীকে পরিস্থিতি সম্পর্কে আশ্বস্ত করেন। সরকার গঠনের প্রক্রিয়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দিনের কয়েক ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ ছিল অত্যন্ত দ্রুত ও অনিশ্চয়তায় ভরা। তবে আলোচনার মাধ্যমে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে।