বঙ্গভবনে ‘অপসারণ চক্রান্ত’! রাষ্ট্রপতির বিস্ফোরক দাবি ঘিরে রাজনৈতিক ঝড়
- আপডেট সময় : ০৫:৩৮:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৯৫ বার পড়া হয়েছে
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক তাৎপর্যপূর্ণ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের সময়ে তাঁকে ঘিরে একের পর এক ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং অসাংবিধানিকভাবে অপসারণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। এমনকি সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরির পরিকল্পনাও ছিল বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক।
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, সেই অস্থির সময়ে তিনি সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলেন এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় আপস করেননি। তিনি দাবি করেন, দুঃসময়ে রাজনৈতিক সমর্থন হিসেবে পাশে ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর শীর্ষ নেতৃত্ব। বিশেষ করে তারেক রহমান-এর আন্তরিক অবস্থান তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে সহায়তা করেছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁকে কেন্দ্র করে অসাংবিধানিক পদক্ষেপের নানামুখী প্রচেষ্টা ছিল। যদিও তিনি নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেননি, তবে “সাংবিধানিক শূন্যতা” তৈরির পরিকল্পনার কথা বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীদের অবস্থান বড় ধরনের একটি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে ভূমিকা রাখে।
রাষ্ট্রপতি আরও জানান, তিন বাহিনীর প্রধানরা বিভিন্ন সময়ে তাঁকে মনোবল জুগিয়েছেন এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আশ্বস্ত করেছেন। ভেতর থেকে অপসারণের উদ্যোগ এলে সশস্ত্র বাহিনী তাঁর পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয় বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী-এর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির এ বক্তব্য কেবল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিবরণ নয়; বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের এক স্পর্শকাতর অধ্যায়ের ইঙ্গিত বহন করে। অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্য, সাংবিধানিক সীমারেখা এবং রাজনৈতিক আস্থার প্রশ্ন—সবকিছুই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তাঁরা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের চেষ্টা কতটা বাস্তব ছিল এবং তার পেছনে কারা জড়িত—এ বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা না এলে জল্পনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন অদৃশ্য টানাপোড়েন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর কী প্রভাব ফেলবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামনে কী?
একটি সাক্ষাৎকার হলেও এর রাজনৈতিক অভিঘাত বহুমাত্রিক। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রশ্ন যেমন উঠে এসেছে, তেমনি রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ মুহূর্তে সরকার বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সময়ই বলে দেবে—এই অধ্যায়ের শেষ কোথায় এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হতে পারে দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে।















