ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দানবাক্সে লাখো টাকার দান, স্বচ্ছতায় নতুন দৃষ্টান্ত ২০ কোটি টাকার টেন্ডার থেকে গোপনীয় পরীক্ষা কার্যক্রম—সিলেট শিক্ষা বোর্ডে একের পর এক অভিযোগ, তদন্তের দাবি ! সিলেটে চিকিৎসকের কিশোর ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার শতাব্দী রায়ের বাড়িতে বিদ্রোহীদের বৈঠক, পশ্চিমবঙ্গে তৃনমূলে ভাঙনের ইঙ্গিত !  বিএনপি নেতার ওপর হামলার ঘটনায় সিলেট মহানগর বিএনপির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ আবু তালহা চৌধুরী দ্বিতীয় বারের মত টাওয়ার হ‍্যামলেটস কাউন্সিলের কাউন্সিলার নির্বাচিত পাস কার্ড ইস্যুতে অনিয়ম ও গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে সমালোচনা সিলেটে ব্যাডমিন্টন তারকাদের সংবর্ধনা, সাফল্যের আড়ালে উঠে এলো অবহেলার গল্প ! আদর্শের ‘গায়েবি’ প্রত্যাবর্তন: ভোলবদলের নতুন বয়ানে সরগরম রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি: স্বাগত জানালো বাংলাদেশ

২০ কোটি টাকার টেন্ডার থেকে গোপনীয় পরীক্ষা কার্যক্রম—সিলেট শিক্ষা বোর্ডে একের পর এক অভিযোগ, তদন্তের দাবি !

স্টাফ রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে উত্তরপত্র ছাপানোর টেন্ডার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওভারটাইম ভাতা প্রদান এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত গোপনীয় কাজে দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সিলেট শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ২০ কোটি টাকার উত্তরপত্র ছাপানোর টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সময় শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে অবহিত না করে বোর্ডের সচিব প্রফেসর চৌধুরী মামুন আকবর এবং হিসাবরক্ষক নিহার কান্তি রায়কে সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন এবং বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. মঞ্জুল ইসলাম দীর্ঘদিন একই দায়িত্বে থাকলেও পূর্ববর্তী বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাদের প্রত্যাহারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। পরে বর্তমান সরকার তাদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিলেও সচিব চৌধুরী মামুন আকবর এখনো একই পদে বহাল থাকায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এছাড়া হিসাবরক্ষক নিহার কান্তি রায়ের প্রতি বিশেষ পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে নিহার কান্তি রায় ও আলমগীর কবির বিদেশে অবস্থান করলেও তাদের পুরো মাসের ওভারটাইম ভাতা প্রদান করা হয়। এ বিষয়ে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আপত্তি জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি এসেছে পরীক্ষা-সংক্রান্ত গোপনীয় কাজে দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে। অভিযোগকারীদের দাবি, শিক্ষা বোর্ডের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সন্তান এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার্থী হলে তাকে পরীক্ষা-সংক্রান্ত গোপনীয় কাজে নিয়োগ দেওয়া যায় না। কিন্তু সেই বিধান উপেক্ষা করে সচিব চৌধুরী মামুন আকবর হিসাবরক্ষক নিহার কান্তি রায়, সুনীল কুমার গোপসহ কয়েকজনকে বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট প্রেস (বিজি প্রেস)-এ পরীক্ষা-সংক্রান্ত গোপনীয় কাজে দায়িত্ব দেন, যদিও অভিযোগ অনুযায়ী তাদের সন্তানরা চলমান পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।

এ বিষয়ে চৌধুরী মামুন আকবর তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তবে অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের কাছে অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য ও নথি রয়েছে, যা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

২০ কোটি টাকার টেন্ডার থেকে গোপনীয় পরীক্ষা কার্যক্রম—সিলেট শিক্ষা বোর্ডে একের পর এক অভিযোগ, তদন্তের দাবি !

আপডেট সময় : ০৫:৪৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে উত্তরপত্র ছাপানোর টেন্ডার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওভারটাইম ভাতা প্রদান এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত গোপনীয় কাজে দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সিলেট শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ২০ কোটি টাকার উত্তরপত্র ছাপানোর টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সময় শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে অবহিত না করে বোর্ডের সচিব প্রফেসর চৌধুরী মামুন আকবর এবং হিসাবরক্ষক নিহার কান্তি রায়কে সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন এবং বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. মঞ্জুল ইসলাম দীর্ঘদিন একই দায়িত্বে থাকলেও পূর্ববর্তী বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাদের প্রত্যাহারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। পরে বর্তমান সরকার তাদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিলেও সচিব চৌধুরী মামুন আকবর এখনো একই পদে বহাল থাকায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এছাড়া হিসাবরক্ষক নিহার কান্তি রায়ের প্রতি বিশেষ পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে নিহার কান্তি রায় ও আলমগীর কবির বিদেশে অবস্থান করলেও তাদের পুরো মাসের ওভারটাইম ভাতা প্রদান করা হয়। এ বিষয়ে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আপত্তি জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি এসেছে পরীক্ষা-সংক্রান্ত গোপনীয় কাজে দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে। অভিযোগকারীদের দাবি, শিক্ষা বোর্ডের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সন্তান এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার্থী হলে তাকে পরীক্ষা-সংক্রান্ত গোপনীয় কাজে নিয়োগ দেওয়া যায় না। কিন্তু সেই বিধান উপেক্ষা করে সচিব চৌধুরী মামুন আকবর হিসাবরক্ষক নিহার কান্তি রায়, সুনীল কুমার গোপসহ কয়েকজনকে বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট প্রেস (বিজি প্রেস)-এ পরীক্ষা-সংক্রান্ত গোপনীয় কাজে দায়িত্ব দেন, যদিও অভিযোগ অনুযায়ী তাদের সন্তানরা চলমান পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।

এ বিষয়ে চৌধুরী মামুন আকবর তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তবে অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের কাছে অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য ও নথি রয়েছে, যা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে।