ঢাকা ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আদর্শের ‘গায়েবি’ প্রত্যাবর্তন: ভোলবদলের নতুন বয়ানে সরগরম রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি: স্বাগত জানালো বাংলাদেশ সিলেটে শনিবার শুরু হচ্ছে আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা ও কৃষক বাজার “কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ!”—দিনাজপুরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ, গ্রেফতার ভাইরাল ভিডিও থেকে নতুন জীবনের আলো—শিশু ফাইজা পেল পুনর্বাসনের হাতছানি ! ইমদাদ চৌধুরীর ক্ষোভ—প্রস্তুতি সভায় নিজের আসন সংরক্ষিত না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ! যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সাথে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর ‘নবীন ফ্যাশন’ বন্ধে ওসিকে তলব, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোকান খুলতে নির্দেশ রাব্বানী–সাদিকের পুরনো টেক্সট ভাইরাল, সামাজিক মাধ্যমে তুমুল আলোচনা

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১১:১০:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

ক্যামেরুন (ইয়াউন্দে): ২৭ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন , বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে এই সংস্কার যেন সংস্থাটির মৌলিক নীতিমালাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

গতকাল (২৬ মার্চ) ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন (MC14)-এ বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ করণীয় শীর্ষক সেশনে তিনি একথা বলেন।

“WTO Reform: Fundamental Issues” শীর্ষক এ অধিবেশনে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, WTO-এর মূল ভিত্তি হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যনির্ভর উন্নয়নকে উৎসাহিত করা। বৈষম্যহীনতা ও অন্তর্ভুক্তির নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ঐকমত্যভিত্তিক ও নিয়মভিত্তিক এই বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহের পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (LDCs) জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত করেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ (MFN) সুবিধা, শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার (DFQF), এবং বিশেষ ও পার্থক্যমূলক সুবিধা (S&DT)-এর মতো ব্যবস্থাগুলো বিশ্ব বাণিজ্যে সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় ছাড়া গত তিন দশকে উন্নত দেশগুলোর মধ্যম আয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিদ্যমান বাণিজ্য ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণ করে।

তবে WTO সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সংস্কার যেন সংস্থাটির মৌলিক নীতিমালাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘ সময় ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে গড়ে ওঠা বর্তমান কাঠামো সংস্কারের নামে নষ্ট করা উচিত নয়, কারণ বিশ্বের অধিকাংশ অর্থনীতি এই নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, WTO সংস্কার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে, যাতে ব্যবস্থার অখণ্ডতা বজায় থাকে, পূর্বের অর্জনগুলো অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সকল সদস্য দেশের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী ফলাফল নিশ্চিত করা যায়।

উল্লেখ্য, মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে সদস্য দেশসমূহ বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। এবারের সম্মেলনে ১৬৬টি সদস্য দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও প্রতিনিধিগণ অংশ নিয়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। প্রতিনিধিদলে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশ নিচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ১১:১০:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ক্যামেরুন (ইয়াউন্দে): ২৭ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন , বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে এই সংস্কার যেন সংস্থাটির মৌলিক নীতিমালাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

গতকাল (২৬ মার্চ) ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন (MC14)-এ বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ করণীয় শীর্ষক সেশনে তিনি একথা বলেন।

“WTO Reform: Fundamental Issues” শীর্ষক এ অধিবেশনে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, WTO-এর মূল ভিত্তি হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যনির্ভর উন্নয়নকে উৎসাহিত করা। বৈষম্যহীনতা ও অন্তর্ভুক্তির নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ঐকমত্যভিত্তিক ও নিয়মভিত্তিক এই বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহের পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (LDCs) জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত করেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ (MFN) সুবিধা, শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার (DFQF), এবং বিশেষ ও পার্থক্যমূলক সুবিধা (S&DT)-এর মতো ব্যবস্থাগুলো বিশ্ব বাণিজ্যে সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় ছাড়া গত তিন দশকে উন্নত দেশগুলোর মধ্যম আয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিদ্যমান বাণিজ্য ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণ করে।

তবে WTO সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সংস্কার যেন সংস্থাটির মৌলিক নীতিমালাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘ সময় ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে গড়ে ওঠা বর্তমান কাঠামো সংস্কারের নামে নষ্ট করা উচিত নয়, কারণ বিশ্বের অধিকাংশ অর্থনীতি এই নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, WTO সংস্কার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে, যাতে ব্যবস্থার অখণ্ডতা বজায় থাকে, পূর্বের অর্জনগুলো অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সকল সদস্য দেশের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী ফলাফল নিশ্চিত করা যায়।

উল্লেখ্য, মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে সদস্য দেশসমূহ বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। এবারের সম্মেলনে ১৬৬টি সদস্য দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও প্রতিনিধিগণ অংশ নিয়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। প্রতিনিধিদলে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশ নিচ্ছেন।