রাজনীতিতে কৃতজ্ঞতার বিরল দৃষ্টান্ত—আরিফের প্রথম সফরেই গুরুর কবর জিয়ারত
- আপডেট সময় : ০১:০০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
রাজনীতিতে কৃতজ্ঞতা ও শিষ্টাচারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পর প্রথম সিলেট সফরেই তিনি কর্মসূচিতে রেখেছেন তাঁর রাজনৈতিক গুরু, প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান–এর কবর জিয়ারত। বিষয়টি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার ঝড় তুলেছে।
সিলেটের রাজনীতিতে আরিফুল হক চৌধুরীর হাতেখড়ি হয়েছিল সাইফুর রহমানের হাত ধরেই। উন্নয়ন ও সাংগঠনিক রাজনীতির পাঠও নিয়েছিলেন তাঁর কাছ থেকে। তাই রাজনৈতিক জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে গুরুকে স্মরণ করা—অনেকের চোখে এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং গভীর রাজনৈতিক বার্তা।
সাংবাদিক মুক্তাদির আহমদ মুক্তা ফেসবুকে লিখেছেন, “নবনিযুক্ত মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তার প্রথম সিলেট সফরের কর্মসূচিতে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের কবর জেয়ারতের কর্মসূচি রেখেছেন। খুবই অর্থবহ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। একজন রাজনৈতিক কর্মী তার প্রয়াত নেতার প্রতি যে সম্মান প্রদর্শন করেছেন তা অনন্য।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আপাতদৃষ্টিতে ছোট মনে হলেও রাজনৈতিক শিষ্টাচারে এর গভীরতা অনেক।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সোয়া দুইটায় ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ অবতরণ করবেন মন্ত্রী। সেখান থেকে সার্কিট হাউসে যাবেন, তবে প্রথম দিন আর কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নেই।
শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় ও জিয়ারত করবেন হযরত শাহজালাল মাজার-এ। বিকেলে দক্ষিণ সুরমা বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার সকালে মৌলভীবাজারে গিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন। পাশাপাশি বরূনা মাদ্রাসা পরিদর্শন, পীর সাহেব রশীদুর রহমান ফারুক বর্ণভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং পারিবারিক কবর জিয়ারতও রয়েছে সূচিতে।
রোববার নিজ নির্বাচনী এলাকা কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে দিনব্যাপী পরিদর্শন করবেন তিনি। বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও সুধিজনদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে দুপুরে ঢাকায় ফিরবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রীসভায় জায়গা পাওয়া আরিফুল হক চৌধুরীর এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিক নয়—এটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। গুরুকে স্মরণ করে সফর শুরু করা যেন সিলেটবাসীর আবেগ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ আরও দৃঢ় করার কৌশল।
মন্ত্রী হয়েও গুরুকে ভুলেননি আরিফ, এটাই কি তাঁর রাজনীতির আসল শক্তি !















