ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন শিক্ষা প্রশাসনে নতুন নেতৃত্ব: সংস্কারের আশায় ইতিবাচক প্রত্যাশা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ–এর গণবিজ্ঞপ্তি: ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল হস্তান্তর নয় ঈশ্বরদীতে রাতের আঁধারে নৃশংসতা: দাদি-নাতনির মরদেহ উদ্ধার, ধর্ষণের আশঙ্কায় তোলপাড় ! সিলেট হাউজিং এস্টেটে প্রকাশ্যে ছিনতাই, ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজে উদ্বেগ—ওসি ক্লোজড বঙ্গভবনে ‘অপসারণ চক্রান্ত’! রাষ্ট্রপতির বিস্ফোরক দাবি ঘিরে রাজনৈতিক ঝড় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ: নতুন অধ্যায়ে নীতিগত প্রত্যাশা ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের ২৮ ফেব্রুয়ারি সিলেট সফর সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, কে হচ্ছেন পরবর্তী নগরপিতা? সংগ্রামের সৈনিক থেকে নগর উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা—কয়েস লোদী আলোচনার কেন্দ্রে

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, কে হচ্ছেন পরবর্তী নগরপিতা?

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ১০:০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

 

ঈদের পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দেওয়ার পর থেকেই সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সরগরম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের পালাবদলের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। নগরবাসীর প্রশ্ন—কে হচ্ছেন পরবর্তী মেয়র বা নগরপিতা?

ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের পর দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিশূন্য অবস্থায় চলছে সিসিকের কার্যক্রম। এতে নাগরিক সেবায় ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন অনেক নগরবাসী। ফলে দ্রুত নির্বাচনের দাবি জোরালো হচ্ছে।

সিলেটকে দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে দলটির সাফল্য সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যে সক্রিয় হয়েছেন একাধিক নেতা।

আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, যুগ্ম সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান এবং জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী।

মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক, ওয়ার্ডভিত্তিক সভা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-ও নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমীর মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ। দলটির শক্ত সাংগঠনিক কাঠামো ও তৃণমূলভিত্তিক নেটওয়ার্ককে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সিসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালের ২১ জুন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হন। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচন ২০২৭ সালে হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে আগাম নির্বাচনের আলোচনা সামনে এসেছে।

সীমানা সম্প্রসারণের পর সিসিকের আয়তন দাঁড়িয়েছে ৭৯.৫০ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ১০ লাখের বেশি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৮ জন। এর মধ্যে সিলেট-১ আসনের আওতায় থাকা ৩৬টি ওয়ার্ডে ভোটার ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৭৭২ জন এবং সিলেট-৩ আসনের আওতায় থাকা ৬টি ওয়ার্ডে ভোটার ৩৯ হাজার ৬১৬ জন।

নগরবাসীর প্রত্যাশা—দ্রুত একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে সিসিক আবারও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে পরিচালিত হোক। এখন দেখার বিষয়, দলীয় প্রতীক কার হাতে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত কার মাথায় ওঠে নগরপিতার মুকুট।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, কে হচ্ছেন পরবর্তী নগরপিতা?

আপডেট সময় : ১০:০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

ঈদের পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দেওয়ার পর থেকেই সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সরগরম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের পালাবদলের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। নগরবাসীর প্রশ্ন—কে হচ্ছেন পরবর্তী মেয়র বা নগরপিতা?

ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের পর দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিশূন্য অবস্থায় চলছে সিসিকের কার্যক্রম। এতে নাগরিক সেবায় ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন অনেক নগরবাসী। ফলে দ্রুত নির্বাচনের দাবি জোরালো হচ্ছে।

সিলেটকে দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে দলটির সাফল্য সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যে সক্রিয় হয়েছেন একাধিক নেতা।

আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, যুগ্ম সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান এবং জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী।

মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক, ওয়ার্ডভিত্তিক সভা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-ও নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমীর মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ। দলটির শক্ত সাংগঠনিক কাঠামো ও তৃণমূলভিত্তিক নেটওয়ার্ককে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সিসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালের ২১ জুন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হন। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচন ২০২৭ সালে হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে আগাম নির্বাচনের আলোচনা সামনে এসেছে।

সীমানা সম্প্রসারণের পর সিসিকের আয়তন দাঁড়িয়েছে ৭৯.৫০ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ১০ লাখের বেশি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৮ জন। এর মধ্যে সিলেট-১ আসনের আওতায় থাকা ৩৬টি ওয়ার্ডে ভোটার ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৭৭২ জন এবং সিলেট-৩ আসনের আওতায় থাকা ৬টি ওয়ার্ডে ভোটার ৩৯ হাজার ৬১৬ জন।

নগরবাসীর প্রত্যাশা—দ্রুত একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে সিসিক আবারও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে পরিচালিত হোক। এখন দেখার বিষয়, দলীয় প্রতীক কার হাতে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত কার মাথায় ওঠে নগরপিতার মুকুট।