ব্রিটেনে শিশুদের সাথে অনৈতিক কাজের দায়ে বাংলাদেশি ধর্মীয় শিক্ষকের ১২ বছরের কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ২৫ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ সময় ধরে শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের দায়ে হাফেজ আশরাফ উদ্দিন নামে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ধর্মীয় শিক্ষককে ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের আদালত। ইপসুইচ ক্রাউন কোর্ট এ রায় ঘোষণা করে। বার্কিংয়ের উইভেনহো রোডের বাসিন্দা আশরাফ উদ্দিনের বর্তমান বয়স ৭১ বছর।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে তার তত্ত্বাবধানে থাকা ছয়জন ছাত্রীর ওপর ধারাবাহিকভাবে অনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। সে সময় ভুক্তভোগী শিশুদের বয়স ছিল মাত্র ৭ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। শুনানিতে আদালতকে জানানো হয়, ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার সময় শিশুদের জামার ভেতর হাত দেওয়া সহ নানা অশালীন আচরণ করতেন আশরাফ উদ্দিন। স্থানীয় কমিউনিটিতে হাফেজ ও ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ও সম্মান ছিল।
প্রসিকিউশনের মতে, নিজের এ ভাবমূর্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে এসব অপকর্ম চালিয়ে গেছেন এবং প্রভাব খাটিয়ে ভুক্তভোগীদের চুপ থাকতে বাধ্য করেছেন। চলতি বছরের শুরুতে ইপসুইচ ক্রাউন কোর্টে তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। সাতজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ২২টি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে চারটি অভিযোগে একাধিকবার অপরাধ করার প্রমাণ পাওয়ায় মোট নির্যাতনের ঘটনার সংখ্যা দাঁড়ায় অন্তত ২৯টি।
জুন মাসে শেষ হওয়া চার সপ্তাহব্যাপী বিচার শেষে জুরি বোর্ড ছয়জন ভুক্তভোগীর ক্ষেত্রে আনা ১৩টি অভিযোগে আশরাফ উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে। এর মধ্যে বেশ কিছু অভিযোগকে আদালত ‘অত্যন্ত গুরুতর’ বলে উল্লেখ করে।
সাজা ঘোষণার সময় বিচারক ৭১ বছর বয়সী এ ব্যক্তিকে কঠোর ভর্ৎসনা করেন। ১২ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে আজীবনের জন্য ‘সেক্স অফেন্ডারস রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সে যেন আর কোনো শিশুর ক্ষতি করতে না পারে, সে জন্য তার ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘সেক্সুয়াল হার্ম প্রিভেনশন অর্ডার’ জারি করা হয়েছে।
বিচারক মন্তব্য করেন, ধর্মীয় শিক্ষার উদ্দেশ্যে পরিবারগুলো অত্যন্ত বিশ্বাসের সঙ্গে তাদের কন্যাসন্তানদের তার কাছে পাঠিয়েছিল, আর আশরাফ উদ্দিন সেই পবিত্র বিশ্বাসের চরম অপব্যবহার করেছেন।
সাউথ সেফগার্ডিং ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর ডোনা হপার ভুক্তভোগী নারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, কমিউনিটিতে সম্মানিত ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে নিজের অবস্থানকে ব্যবহার করে আশরাফ উদ্দিন এ জঘন্য অপরাধগুলো করে এসেছে। সামাজিক লজ্জা ও তার প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে ভুক্তভোগীরা তখন মুখ খুলতে পারেননি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব, এই রায় তারই প্রমাণ।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, আশরাফ উদ্দিন হয়তো ভেবেছিলেন, ঘটনার বহু বছর পার হয়ে যাওয়ায় এবং নিজের বয়সের কারণে শাস্তি এড়িয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু ভুক্তভোগীদের দৃঢ়তা ও সাহসিকতার কারণে শেষ বয়সে তাকে কারাগারেই জীবন কাটানোর শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে।














