ঢাকা ০৪:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঐক্যের সিলেট গড়ার প্রত্যয়: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে জাতীয়তাবাদী উন্মুক্ত মঞ্চের মতবিনিময় গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান : প্রধান তথ্য অফিসার সিলেটে অপপ্রচার, ভোট কেনা ও কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতির অভিযোগ বিএনপির বিগত ১৭ বছরে জৈন্তাপুরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি: আরিফুল হক চৌধুরী ইমাম-মুয়াজ্জিনদের হাদিয়া বৃদ্ধি ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে: খন্দকার মুক্তাদির সিলেট প্রেসক্লাবে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের সঙ্গে মতবিনিময়, গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা রাজনীতির আড়ালে কোটি টাকার খেলা; নাহিদ ইসলামকে ঘিরে সুরভীর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ! সিলেটে আক্রমণাত্মক অবস্থানে বিএনপি–জামায়াত: ১, ২, ৩, ৪ ও ৬ আসনে বিএনপি শক্ত অবস্থানে সিলেটের তেমুখিতে তিন গ্রামের সংঘর্ষ, আহত ১৫ জন এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের প্রমাণ না পাওয়ায় বিভক্ত ডিবি, মামলা নিয়ে অনিশ্চয়তা

দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ: প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০২:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সাপ্তাহিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শীর্ষ দাবিদার হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সোমবার প্রকাশিত সর্বশেষ সংখ্যার এক বিশ্লেষণে সাময়িকীটি লিখেছে, “খ্যাতনামা এক রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রধান প্রার্থী।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮ মাস আগে সংঘটিত এক ‘বিপ্লব’-এর পর, যেখানে ‘জেনারেশন জেড’-এর নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

দ্য ইকোনমিস্ট মন্তব্য করেছে, গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ খুলে দেবে।

তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে এই পূর্বাভাস এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিন ও ব্লুমবার্গ-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনুরূপ বিশ্লেষণের ধারাবাহিকতায়।

সাময়িকীটি গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার দৃশ্য বর্ণনা করে জানায়, বুলেটপ্রুফ বাসে করে ফেরার সময় উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের ভিড়ে তার গাড়ি কয়েক মাইল পথ অত্যন্ত ধীর গতিতে অগ্রসর হয়, যেন অপেক্ষমাণ মানুষ তাকে কাছ থেকে দেখতে পারেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে আর কোনো ‘যথাযথ’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি এবং প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ প্রকৃত অর্থে কখনো ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি।

নিরাপত্তা বিষয়ক থিঙ্কট্যাংক বিআইপিএসএসের শাফকাত মুনিরকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, “আমার জীবনের দুই দশক ধরে আমার ভোটের কোনো মূল্য ছিল না।” তিনি জানান, বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে নির্বাচনী ব্যানার দেখা যাচ্ছে, যা পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এই নির্বাচন তত্ত্বাবধানই হবে শেষ বড় দায়িত্ব। অধিকাংশ মানুষ একমত যে, সরকারটি অর্থনীতিকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় এনেছে।

দ্য ইকোনমিস্ট উল্লেখ করেছে, অন্তর্বর্তী সরকার এমন কিছু সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রে পতন ঠেকাতে সহায়ক হবে—এর মধ্যে রয়েছে একটি নতুন উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করা।

জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গে সাময়িকীটি লিখেছে, দলটি সংযত শাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে তাদের উত্থান উদ্বেগ তৈরি করছে। দলটি এবার কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি এবং আগে কখনো সংসদে ১৮টির বেশি আসন না পাওয়ায় তাদের শাসন-অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সাময়িকীটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব পরিস্থিতি তারেক রহমান ও তার দল বিএনপির জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে, কারণ দলটি বর্তমানে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে।

সাময়িকীটি স্মরণ করিয়ে দেয়, বিএনপি দীর্ঘদিন পরিচালিত হয়েছে তারেক রহমানের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং তার আগে দলটির নেতৃত্বে ছিলেন তার বাবা—যিনি ১৯৮১ সালে নিহত হন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমান বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, পানিসংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানোর অঙ্গীকার করেছেন।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহতদের ঘটনায় দায়ীদের বিচার হবে, তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করা হবে না।

দ্য ইকোনমিস্ট লিখেছে, পর্যবেক্ষকদের মতে লন্ডন থেকে ফিরে আসা তারেক রহমানকে আগের তুলনায় অনেক বেশি সংযত ও বাস্তববাদী মনে হচ্ছে—যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ: প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০২:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সাপ্তাহিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শীর্ষ দাবিদার হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সোমবার প্রকাশিত সর্বশেষ সংখ্যার এক বিশ্লেষণে সাময়িকীটি লিখেছে, “খ্যাতনামা এক রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রধান প্রার্থী।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮ মাস আগে সংঘটিত এক ‘বিপ্লব’-এর পর, যেখানে ‘জেনারেশন জেড’-এর নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

দ্য ইকোনমিস্ট মন্তব্য করেছে, গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ খুলে দেবে।

তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে এই পূর্বাভাস এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিন ও ব্লুমবার্গ-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনুরূপ বিশ্লেষণের ধারাবাহিকতায়।

সাময়িকীটি গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার দৃশ্য বর্ণনা করে জানায়, বুলেটপ্রুফ বাসে করে ফেরার সময় উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের ভিড়ে তার গাড়ি কয়েক মাইল পথ অত্যন্ত ধীর গতিতে অগ্রসর হয়, যেন অপেক্ষমাণ মানুষ তাকে কাছ থেকে দেখতে পারেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে আর কোনো ‘যথাযথ’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি এবং প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ প্রকৃত অর্থে কখনো ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি।

নিরাপত্তা বিষয়ক থিঙ্কট্যাংক বিআইপিএসএসের শাফকাত মুনিরকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, “আমার জীবনের দুই দশক ধরে আমার ভোটের কোনো মূল্য ছিল না।” তিনি জানান, বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে নির্বাচনী ব্যানার দেখা যাচ্ছে, যা পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এই নির্বাচন তত্ত্বাবধানই হবে শেষ বড় দায়িত্ব। অধিকাংশ মানুষ একমত যে, সরকারটি অর্থনীতিকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় এনেছে।

দ্য ইকোনমিস্ট উল্লেখ করেছে, অন্তর্বর্তী সরকার এমন কিছু সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রে পতন ঠেকাতে সহায়ক হবে—এর মধ্যে রয়েছে একটি নতুন উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করা।

জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গে সাময়িকীটি লিখেছে, দলটি সংযত শাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে তাদের উত্থান উদ্বেগ তৈরি করছে। দলটি এবার কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি এবং আগে কখনো সংসদে ১৮টির বেশি আসন না পাওয়ায় তাদের শাসন-অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সাময়িকীটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব পরিস্থিতি তারেক রহমান ও তার দল বিএনপির জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে, কারণ দলটি বর্তমানে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে।

সাময়িকীটি স্মরণ করিয়ে দেয়, বিএনপি দীর্ঘদিন পরিচালিত হয়েছে তারেক রহমানের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং তার আগে দলটির নেতৃত্বে ছিলেন তার বাবা—যিনি ১৯৮১ সালে নিহত হন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমান বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, পানিসংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানোর অঙ্গীকার করেছেন।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহতদের ঘটনায় দায়ীদের বিচার হবে, তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করা হবে না।

দ্য ইকোনমিস্ট লিখেছে, পর্যবেক্ষকদের মতে লন্ডন থেকে ফিরে আসা তারেক রহমানকে আগের তুলনায় অনেক বেশি সংযত ও বাস্তববাদী মনে হচ্ছে—যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।