ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সিলেটে চিকিৎসকের কিশোর ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার শতাব্দী রায়ের বাড়িতে বিদ্রোহীদের বৈঠক, পশ্চিমবঙ্গে তৃনমূলে ভাঙনের ইঙ্গিত !  বিএনপি নেতার ওপর হামলার ঘটনায় সিলেট মহানগর বিএনপির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ আবু তালহা চৌধুরী দ্বিতীয় বারের মত টাওয়ার হ‍্যামলেটস কাউন্সিলের কাউন্সিলার নির্বাচিত পাস কার্ড ইস্যুতে অনিয়ম ও গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে সমালোচনা সিলেটে ব্যাডমিন্টন তারকাদের সংবর্ধনা, সাফল্যের আড়ালে উঠে এলো অবহেলার গল্প ! আদর্শের ‘গায়েবি’ প্রত্যাবর্তন: ভোলবদলের নতুন বয়ানে সরগরম রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি: স্বাগত জানালো বাংলাদেশ সিলেটে শনিবার শুরু হচ্ছে আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা ও কৃষক বাজার “কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ!”—দিনাজপুরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ, গ্রেফতার

নির্বাচনের আগে ভিডিও, এরপর চাকরি হারালেন ইমাম; সিলেটে তোলপাড় !

ডেস্ক রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ১১:০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ ১৬১ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ভিডিও তৈরি করায় চাকরি হারানোর অভিযোগ তুলেছেন সিলেটের এক ইমাম। ঘটনাটি নিয়ে নগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (বিকাল) সিলেট নগরের আম্বরখানা এলাকার বড়বাজার বায়তুস সালাম জামে মসজিদের সাবেক ইমাম আব্দুর রহমান নাদিম অভিযোগ করেন, নির্বাচনি প্রচারণার সময় একটি ভিডিও তৈরির জেরে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আব্দুর রহমান নাদিম বলেন, “আমি জুলাই আন্দোলন থেকে সক্রিয় ছিলাম। খতিব হিসেবে মসজিদে ঘুষ, সুদসহ ধর্মীয় বিধান নিয়ে আলোচনা করেছি। নির্বাচনের আগে ছুটি নিয়ে আমার মামা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুকের নির্বাচনি কাজে অংশ নিয়েছিলাম। তবে জুমার নামাজে দায়িত্ব পালন করেছি।

প্রচারণার সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেবকে নিয়ে একটি ভিডিও করেছিলাম। রমজান শুরু থেকে আমি আর মসজিদে যাচ্ছি না, আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, মসজিদের ক্যাশিয়ার আক্তার হোসাইন ও সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান তাকে জানিয়েছেন—ভিডিওটির কারণে কিছু মুসল্লি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এ অভিযোগকে ভিত্তি করে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মসজিদ কমিটির পদত্যাগী মোতাওয়াল্লি অ্যাডভোকেট মুখলিছুর রহমান বলেন, “ইমাম সাহেব ছুটিতে থেকে ভিডিও করেছিলেন। কিন্তু তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আমি প্রতিবাদস্বরূপ কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ক্যাশিয়ার আক্তার হোসাইনের ব্যবহৃত নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান বিষয়টি নিয়ে সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তবে সেক্রেটারি মো. সালেহ আহমদের নম্বরেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে—ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতপ্রকাশ কি একজন ইমামের চাকরি হারানোর কারণ হতে পারে?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নির্বাচনের আগে ভিডিও, এরপর চাকরি হারালেন ইমাম; সিলেটে তোলপাড় !

আপডেট সময় : ১১:০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ভিডিও তৈরি করায় চাকরি হারানোর অভিযোগ তুলেছেন সিলেটের এক ইমাম। ঘটনাটি নিয়ে নগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (বিকাল) সিলেট নগরের আম্বরখানা এলাকার বড়বাজার বায়তুস সালাম জামে মসজিদের সাবেক ইমাম আব্দুর রহমান নাদিম অভিযোগ করেন, নির্বাচনি প্রচারণার সময় একটি ভিডিও তৈরির জেরে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আব্দুর রহমান নাদিম বলেন, “আমি জুলাই আন্দোলন থেকে সক্রিয় ছিলাম। খতিব হিসেবে মসজিদে ঘুষ, সুদসহ ধর্মীয় বিধান নিয়ে আলোচনা করেছি। নির্বাচনের আগে ছুটি নিয়ে আমার মামা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুকের নির্বাচনি কাজে অংশ নিয়েছিলাম। তবে জুমার নামাজে দায়িত্ব পালন করেছি।

প্রচারণার সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেবকে নিয়ে একটি ভিডিও করেছিলাম। রমজান শুরু থেকে আমি আর মসজিদে যাচ্ছি না, আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, মসজিদের ক্যাশিয়ার আক্তার হোসাইন ও সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান তাকে জানিয়েছেন—ভিডিওটির কারণে কিছু মুসল্লি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এ অভিযোগকে ভিত্তি করে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মসজিদ কমিটির পদত্যাগী মোতাওয়াল্লি অ্যাডভোকেট মুখলিছুর রহমান বলেন, “ইমাম সাহেব ছুটিতে থেকে ভিডিও করেছিলেন। কিন্তু তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আমি প্রতিবাদস্বরূপ কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ক্যাশিয়ার আক্তার হোসাইনের ব্যবহৃত নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান বিষয়টি নিয়ে সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তবে সেক্রেটারি মো. সালেহ আহমদের নম্বরেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে—ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতপ্রকাশ কি একজন ইমামের চাকরি হারানোর কারণ হতে পারে?