ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গার্ল গাইড্স এসোসিয়েশন সিলেট অঞ্চলের উদ্যোগে বিশ্ব চিন্তা দিবস পালন শুধু রোহিঙ্গা না, পুরো বার্মা একটা জটিল জিনিস ডয়চে ভেলের এক অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস ছাতকে সুবিধা বঞ্চিত একজনকে রোটারী ক্লাব অব সিলেট মিডটাউনের ঘর হস্থান্তর মুরারিচাঁদ কলেজের ইতিহাস ও ঐতিহ্য অনুষঙ্গ এবং প্রাসঙ্গিক ভাবনা শীর্ষক মুক্ত আলোচনা জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য হতে চায় ফিলিস্তিন; ফিলিস্তিন প্রতিনিধি দলের প্রধান রিয়াদ মনসুর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত ভারতের শিলচরের সাহিত্য-সংস্কৃতি কর্মীদের সিলেটে সৌজন্য সাক্ষাৎ ছড়াকার সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী ছড়াশিল্পের অনন্য এক দিকপাল: প্রফেসর হারুনুর রশীদ ডাক্তারের পরামর্শে চার মাস কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ বিবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান রেনুর পিতার নামাজে জানাজা আজ দরগা মাসজিদে

বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিকাশে ভারতের প্রভাবে পিছুটানের অভিযোগ অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের !

নির্বাচনকে কোনো ভাবেই অবাধ ও সুষ্ঠু মনে করিনাঃ স্টেট ডিপার্টমেন্ট মুখপাত্র মিলার

তারেক আহমদ খান
  • আপডেট সময় : ০৬:০৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৪ ১৯২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিকাশে ভারতের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটেছে- এমন অভিযোগ মানতে নারাজ স্টেট ডিপার্টমেন্টর মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। পাশাপাশি বিগত নির্বাচন কোনো ভাবেই অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে করা একাধিক প্রশ্নের জবাবে এভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার।

ব্রিফিংয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেন্ট মুশফিকুল ফজল আনসারী জানতে চান, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুসারে কানাডার একটি তদন্তে জানা গেছে যে, রাশিয়া এবং চীনের পাশাপশি দেশটির নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে ভারত। শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় বসাতে বাংলাদেশের নির্বাচনেও ভারতের হস্তক্ষেপের বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনসম্মুখে বলেছেন, ভারত ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের মতোই এবারও তাদের নির্বাচনী বিজয়ে পাশে ছিলো। সমালোচকরা বলছেন, ভারতের প্রভাবের কারণে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিকাশের নীতি থেকে পিছু হটেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী ?

জবাবে মিলার বলেন, কানাডার তদন্তের বিষয়ে আমার আসলে কিছু বলার নেই। এ বিষয়ে কানাডা তথ্য দিতে পারবে। আমি যে বিষয়ে কথা বলবো সেটা হলো, বাংলাদেশের গণতন্ত্র। এর আগেও এই ইস্যুতে অনেকবার কথা বলেছি। বাংলাদেশে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা যেনো প্রতিষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র তার পররাষ্ট্রনীতিতে এগুলোকে প্রাধান্য দেয়। বাংলাদেশের জনগণের সমৃদ্ধির জন্য গণতান্ত্রিক নীতিসমূহের যেনো বিকাশ হয় সে উদ্দেশ্যে সরকারের সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে।

অপর এক প্রশ্নে এই প্রতিবেদক জানতে চান, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন অনতিবিলম্বে বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেবার আহ্বান জানিয়েছে। ৭ জানুয়ারির কারচুপির নির্বাচনে নিজেদের জয় নিশ্চিত করতে ক্ষমতাসীন সরকার বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ
বিরোধীদলের ২৫ হাজার নেতা-কর্মীকে আটক করেছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া খর্ব করার দায়ে কর্তৃত্ববাদী এই সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কেনোনা নির্বাচনের আগে আপনার ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

জবাবে মিলার বলেন, আপনি এর আগে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আমাদের মূল্যায়ন শুনেছেন। এই নির্বাচনকে আমরা কোনো ভাবেই অবাধ এবং সুষ্ঠু মনে করি না। নির্বাচনের সময়ে বিরোধীদলের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারের বিষয়েও আমরা উদ্বেগ জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমি দুইটি বিষয় নিয়ে কথা বলবো। প্রথমত, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের জন্য সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। দ্বিতীয়ত, বিরোধীদলের সদস্য, গণমাধ্যম কর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে।

তথ্যসূত্র: স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেন্ট মুশফিকুল ফজল আনসারীর ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিকাশে ভারতের প্রভাবে পিছুটানের অভিযোগ অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের !

নির্বাচনকে কোনো ভাবেই অবাধ ও সুষ্ঠু মনে করিনাঃ স্টেট ডিপার্টমেন্ট মুখপাত্র মিলার

আপডেট সময় : ০৬:০৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৪

বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিকাশে ভারতের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটেছে- এমন অভিযোগ মানতে নারাজ স্টেট ডিপার্টমেন্টর মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। পাশাপাশি বিগত নির্বাচন কোনো ভাবেই অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে করা একাধিক প্রশ্নের জবাবে এভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার।

ব্রিফিংয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেন্ট মুশফিকুল ফজল আনসারী জানতে চান, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুসারে কানাডার একটি তদন্তে জানা গেছে যে, রাশিয়া এবং চীনের পাশাপশি দেশটির নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে ভারত। শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় বসাতে বাংলাদেশের নির্বাচনেও ভারতের হস্তক্ষেপের বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনসম্মুখে বলেছেন, ভারত ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের মতোই এবারও তাদের নির্বাচনী বিজয়ে পাশে ছিলো। সমালোচকরা বলছেন, ভারতের প্রভাবের কারণে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিকাশের নীতি থেকে পিছু হটেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী ?

জবাবে মিলার বলেন, কানাডার তদন্তের বিষয়ে আমার আসলে কিছু বলার নেই। এ বিষয়ে কানাডা তথ্য দিতে পারবে। আমি যে বিষয়ে কথা বলবো সেটা হলো, বাংলাদেশের গণতন্ত্র। এর আগেও এই ইস্যুতে অনেকবার কথা বলেছি। বাংলাদেশে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা যেনো প্রতিষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র তার পররাষ্ট্রনীতিতে এগুলোকে প্রাধান্য দেয়। বাংলাদেশের জনগণের সমৃদ্ধির জন্য গণতান্ত্রিক নীতিসমূহের যেনো বিকাশ হয় সে উদ্দেশ্যে সরকারের সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে।

অপর এক প্রশ্নে এই প্রতিবেদক জানতে চান, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন অনতিবিলম্বে বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেবার আহ্বান জানিয়েছে। ৭ জানুয়ারির কারচুপির নির্বাচনে নিজেদের জয় নিশ্চিত করতে ক্ষমতাসীন সরকার বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ
বিরোধীদলের ২৫ হাজার নেতা-কর্মীকে আটক করেছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া খর্ব করার দায়ে কর্তৃত্ববাদী এই সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কেনোনা নির্বাচনের আগে আপনার ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

জবাবে মিলার বলেন, আপনি এর আগে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আমাদের মূল্যায়ন শুনেছেন। এই নির্বাচনকে আমরা কোনো ভাবেই অবাধ এবং সুষ্ঠু মনে করি না। নির্বাচনের সময়ে বিরোধীদলের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারের বিষয়েও আমরা উদ্বেগ জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমি দুইটি বিষয় নিয়ে কথা বলবো। প্রথমত, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের জন্য সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। দ্বিতীয়ত, বিরোধীদলের সদস্য, গণমাধ্যম কর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে।

তথ্যসূত্র: স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেন্ট মুশফিকুল ফজল আনসারীর ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া