ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি নুরুল মোমিন খোকনের সুস্থতা কামনায় ১৮নং ওয়ার্ড বিএনপির দোয়া মাহফিল ট্রিপল মার্ডার: সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সরব ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বিএনপি নেতা নুরুল মোমিন চৌধুরী খোকন চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাচ্ছেন সিলেট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেল অপ্সরা আলতাফ চৌধুরী রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দকে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ও এটিএম তুরাব বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড প্রদান নারীদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় মাসুদুর রহমান সুমন দানবাক্সে লাখো টাকার দান, স্বচ্ছতায় নতুন দৃষ্টান্ত ২০ কোটি টাকার টেন্ডার থেকে গোপনীয় পরীক্ষা কার্যক্রম—সিলেট শিক্ষা বোর্ডে একের পর এক অভিযোগ, তদন্তের দাবি ! সিলেটে চিকিৎসকের কিশোর ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

জমিয়তের শূন্য হাত: চার আসন ছেড়েও শরিকের ভরাডুবি !

ডেস্ক রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ১২:১৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২১২ বার পড়া হয়েছে

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে চারটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। কিন্তু ফলাফল—চারটিতেই পরাজয়। বিএনপির সমর্থন সত্ত্বেও শীর্ষ নেতারা বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক হয়েও জমিয়তের প্রার্থীরা পরাস্ত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি–সমর্থিত ১১ দলীয় জোট, এনসিপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে।

আসনভিত্তিক ফলাফল:
🟠 সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ)
জমিয়ত প্রার্থী: মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক
বিজয়ী: মুফতি আবুল হাসান (খেলাফত মজলিস, ১১ দলীয় জোট)
ব্যবধান: ২৩,৫২১ ভোট
🟠 ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ)
জমিয়ত প্রার্থী: মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব
বিজয়ী: ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (স্বতন্ত্র, সাবেক বিএনপি)
ব্যবধান: ৩৭,৫৬৮ ভোট
🟠 নীলফামারী-১ (ডিমলা-ডোমার)
জমিয়ত প্রার্থী: মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী
বিজয়ী: মাওলানা আবদুস সাত্তার (জামায়াত)
ব্যবধান: ৩১,০৫৪ ভোট
🟠 নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা)
জমিয়ত প্রার্থী: মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী
বিজয়ী: আবদুল্লাহ আল আমিন (এনসিপি, ১১ দলীয় জোট)
ব্যবধান: ২৪,৩৪৪ ভোট

পরাজয়ের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিলেট, নীলফামারী ও নারায়ণগঞ্জে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সংগঠিত ভোটব্যাংক কার্যকর ছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি–এর প্রার্থীদের পক্ষে একতরফা সমর্থন দেখা গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার জয় দেখিয়েছে—দলীয় বিদ্রোহ কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। বিএনপির একটি অংশ তার পক্ষে সক্রিয় ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে আলোচনা রয়েছে।

চারটি আসনেই বিএনপির আনুষ্ঠানিক সমর্থন ছিল। তবে তৃণমূল পর্যায়ে সেই সমর্থন কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

একদিকে বিএনপি জোট, অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট—ভোটের মাঠে বিভাজন ও সমন্বয়হীনতা জমিয়তের ক্ষতির কারণ হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

২০০১ সালে বিএনপির সঙ্গে জোট করে ২টি আসন পেয়েছিল জমিয়ত। আর ২০২৬ সালে ৪টি আসন পেয়েও ফলাফল—শূন্য।

এই পরাজয় জমিয়তের ভবিষ্যৎ কৌশল, জোট নির্ভর রাজনীতি ও সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জমিয়তের শূন্য হাত: চার আসন ছেড়েও শরিকের ভরাডুবি !

আপডেট সময় : ১২:১৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে চারটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। কিন্তু ফলাফল—চারটিতেই পরাজয়। বিএনপির সমর্থন সত্ত্বেও শীর্ষ নেতারা বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক হয়েও জমিয়তের প্রার্থীরা পরাস্ত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি–সমর্থিত ১১ দলীয় জোট, এনসিপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে।

আসনভিত্তিক ফলাফল:
🟠 সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ)
জমিয়ত প্রার্থী: মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক
বিজয়ী: মুফতি আবুল হাসান (খেলাফত মজলিস, ১১ দলীয় জোট)
ব্যবধান: ২৩,৫২১ ভোট
🟠 ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ)
জমিয়ত প্রার্থী: মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব
বিজয়ী: ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (স্বতন্ত্র, সাবেক বিএনপি)
ব্যবধান: ৩৭,৫৬৮ ভোট
🟠 নীলফামারী-১ (ডিমলা-ডোমার)
জমিয়ত প্রার্থী: মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী
বিজয়ী: মাওলানা আবদুস সাত্তার (জামায়াত)
ব্যবধান: ৩১,০৫৪ ভোট
🟠 নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা)
জমিয়ত প্রার্থী: মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী
বিজয়ী: আবদুল্লাহ আল আমিন (এনসিপি, ১১ দলীয় জোট)
ব্যবধান: ২৪,৩৪৪ ভোট

পরাজয়ের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিলেট, নীলফামারী ও নারায়ণগঞ্জে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সংগঠিত ভোটব্যাংক কার্যকর ছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি–এর প্রার্থীদের পক্ষে একতরফা সমর্থন দেখা গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার জয় দেখিয়েছে—দলীয় বিদ্রোহ কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। বিএনপির একটি অংশ তার পক্ষে সক্রিয় ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে আলোচনা রয়েছে।

চারটি আসনেই বিএনপির আনুষ্ঠানিক সমর্থন ছিল। তবে তৃণমূল পর্যায়ে সেই সমর্থন কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

একদিকে বিএনপি জোট, অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট—ভোটের মাঠে বিভাজন ও সমন্বয়হীনতা জমিয়তের ক্ষতির কারণ হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

২০০১ সালে বিএনপির সঙ্গে জোট করে ২টি আসন পেয়েছিল জমিয়ত। আর ২০২৬ সালে ৪টি আসন পেয়েও ফলাফল—শূন্য।

এই পরাজয় জমিয়তের ভবিষ্যৎ কৌশল, জোট নির্ভর রাজনীতি ও সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।