ইরানকে ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের, ইসরায়েলের বিস্ময় !
- আপডেট সময় : ১২:২০:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে জানা যায়, প্রস্তাবটি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান সরকার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ অবসানে অর্থবহ আলোচনায় সহযোগিতা করতে ইসলামাবাদ প্রস্তুত।
প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম The New York Times প্রথম এ খবর প্রকাশ করে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে ইরানি কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে।
এদিকে, কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। Pentagon জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই মোতায়েন প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে আরও অন্তত এক হাজার অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত দুটি মেরিন ইউনিট মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যার ফলে ওই অঞ্চলে প্রায় ৫ হাজার মেরিন সেনা ও কয়েক হাজার নৌসেনা যুক্ত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বিমুখী কৌশলের মাধ্যমে সম্ভাব্য সামরিক ও কূটনৈতিক—উভয় বিকল্পই খোলা রাখতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এ প্রস্তাবের খবরে বিস্ময় প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। দেশটির কর্মকর্তারা এতদিন ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
তবে আলোচনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এসেছে ইরান থেকে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেলেও, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ ট্রাম্পের আলোচনার দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে ইরানের এক সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সব পক্ষ সম্মত হলে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই সম্ভাব্য আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে মধ্যস্থতাকারীরা এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়—তা নির্ভর করছে এই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া এবং সম্ভাব্য আলোচনার ফলাফলের ওপর।















