দিল্লির ইফতারেও ‘দূরত্ব’! আওয়ামী লীগকে কার্যত এড়িয়ে গেল ভারত সরকার ও মূলধারার সাংবাদিকরা
- আপডেট সময় : ১১:৫৪:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি–তে সম্প্রতি Press Club of India–এর সভাপতি গৌতম লাহিড়ী একটি ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা, ভারত সরকারের কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি ঘিরেই বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, বেলজিয়াম থেকে বিশেষভাবে আমন্ত্রিত হয়ে আসা হাসান মাহমুদ এবং জাহাঙ্গীর কবির নানক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তবে আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক—কোনো পর্যায়ের প্রতিনিধিই এই ইফতারে অংশ নেননি।
শুধু সরকারি প্রতিনিধিরাই নন, আমন্ত্রিত সাংবাদিকদের বড় অংশও অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন। মূলধারার গণমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে কেবল India Today–এর একজন সাংবাদিককে সেখানে দেখা যায়—যা আয়োজনটির গুরুত্ব নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশের নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতায় এই ইফতারে ভারত সরকারের কেউ না আসা এবং সাংবাদিকদের বড় অংশের অনুপস্থিতি বিশ্লেষকদের মতে বেশ কিছু ইঙ্গিত বহন করে।
প্রথমত, পর্যবেক্ষকদের ধারণা—ভারত সরকার সম্ভবত সচেতনভাবেই এই আয়োজনকে এড়িয়ে গেছে। এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছে যে, আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো অবস্থান নেওয়ার আগ্রহ তাদের নেই। বরং বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখাই এখন তাদের অগ্রাধিকার।
দ্বিতীয়ত, ঘটনাটি আওয়ামী লীগের প্রতি দিল্লির পক্ষ থেকে এক ধরনের ‘কূটনৈতিক দূরত্বের বার্তা’ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। একসময় দলটির নেতারা দিল্লির বিভিন্ন মহলে স্বাগত অতিথি হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের প্রতি দৃশ্যমান অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্য।
সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি আওয়ামী লীগের জন্য আড়ম্বরপূর্ণ সমাবেশের চেয়ে অনেকটা ‘কূটনৈতিক বর্জনের’ ইঙ্গিতবাহী ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভারত সত্যিই যদি বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে আন্তরিক হয়, তাহলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের মাধ্যমে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।
এর মধ্যে রয়েছে—
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করে হত্যা বা আটক করে নির্যাতনের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা।
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–কে বাংলাদেশে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা।
ছাত্রনেতা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ভারতে আটক ব্যক্তিদের দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো এবং ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সদস্যদের প্রত্যর্পণের উদ্যোগ নেওয়া।
দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা নদী–র পানিবণ্টন চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তবেই বোঝা যাবে—দুই দেশের সম্পর্ক নতুন বাস্তবতায় কতটা এগোচ্ছে।















