রাষ্ট্রপতির পদচ্যুতি নিয়ে বিএনপির শীর্ষ দুই নেতার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য !
- আপডেট সময় : ০৮:০২:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৪ ১৫৩ বার পড়া হয়েছে
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বক্তব্য নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাষ্ট্রপতির পদচ্যুতির দাবিতে শুরু হয়েছে আন্দোলন। এর মধ্যে বিএনপির অবস্থান নিয়ে সাধারণ জনগণ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, যখন রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে দলের দুই শীর্ষ নেতার বক্তব্য পরস্পরবিরোধী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এ অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘যে লোকটি (রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন) ইতিমধ্যে বাংলাদেশের গণ-উত্থানকে অপমানিত করেছে, স্বৈরাচারী-ষড়যন্ত্রকারীদের সাহস জুগিয়েছে, এই দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত তিনি একটা দুর্নীতিবাজ। তাঁকে বিদায় না করলে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’ তার বক্তব্যে তিনি রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে একমাত্র উপায় হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, বিএনপির আরেক নেতা এবং দলের মুখপাত্র সালাহ উদ্দিন আহমেদ আজ বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রপতির অপসারণ চায় না। রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে। এতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিলম্বিত হবে। তার মতে, দলের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নয়।
বিএনপির এই দুই নেতার বক্তব্য সাধারণ জনগণের মধ্যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করেছে। একটি দল হিসেবে বিএনপি কীভাবে রাষ্ট্রপতির বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দলটির অভ্যন্তরে মতবিরোধ বা ভুল বোঝাবুঝির ফলে এ ধরনের বিপরীত বক্তব্য এসেছে। বিশেষ করে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যেখানে বিএনপি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছে, তখন দলটির স্পষ্ট ও একক বক্তব্য প্রয়োজন। সেই সঙ্গে নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করা, যা জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা মনে করেন বিএনপিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির অপসারণ এবং ৭২-এর সংবিধান বাতিলের বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। ছাত্র আন্দোলনের মতো সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও এখন এই ইস্যুতে দলটির (বিএনপির) কাছ থেকে আরও সুস্পষ্ট নির্দেশনা তারা আশা করছে।















