ঢাকা ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সিলেটে ব্যাডমিন্টন তারকাদের সংবর্ধনা, সাফল্যের আড়ালে উঠে এলো অবহেলার গল্প ! আদর্শের ‘গায়েবি’ প্রত্যাবর্তন: ভোলবদলের নতুন বয়ানে সরগরম রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি: স্বাগত জানালো বাংলাদেশ সিলেটে শনিবার শুরু হচ্ছে আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা ও কৃষক বাজার “কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ!”—দিনাজপুরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ, গ্রেফতার ভাইরাল ভিডিও থেকে নতুন জীবনের আলো—শিশু ফাইজা পেল পুনর্বাসনের হাতছানি ! ইমদাদ চৌধুরীর ক্ষোভ—প্রস্তুতি সভায় নিজের আসন সংরক্ষিত না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ! যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সাথে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর ‘নবীন ফ্যাশন’ বন্ধে ওসিকে তলব, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোকান খুলতে নির্দেশ

বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাহবাজপুরের একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু

POWER NEWS BD
  • আপডেট সময় : ১২:৫৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মার্চ ২০২৪ ২৩৯ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর বেইলি রোডের একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের খন্দকার পাড়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারে শোকের মাতম। শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না স্বজন ও স্থানীয়রা।

ইতালি প্রবাসী সৈয়দ মোবারক হোসেন কাউছার বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর মগবাজারে নিজ বাসা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী স্বপ্না আক্তার, দুই মেয়ে সৈয়দা কাশফিয়া ও সৈয়দা নূর এবং একমাত্র ছেলে সৈয়দ আবদুল্লাহ। সেখানে আগুনে পুড়ে সবাই মারা যান। মুহূর্তের মধ্যে সংসার শেষ।

নিহতের স্বজনরা জানান, শাহবাজপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আবুল কাশেমের ছেলে সৈয়দ মোবারক হোসেন কাউছার (৪২) দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে ব্যবসা করে আসছেন। মাসখানেক আগে বাড়িতে আসেন। ইতালিতে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ পেয়েছেন (সবুজ কার্ড)। সম্প্রতি সেখানে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। সবার ভিসা হয়ে গেছে। কিন্তু তারা ইতালিতে যাননি। বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ মারা যান মোবারক।

এদিকে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শাহবাজপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারে চলছে শোকের মাতম। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা এসে স্বজনদের সান্ত্বনা দেন।

মা হেলেনা বেগম জানান, মোবারক সবাইকে নিয়ে একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খেতে যান। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী স্বপ্না, দুই মেয়ে সৈয়দা কাশফি ও সৈয়দা নূর এবং একমাত্র ছেলে সৈয়দ আবদুল্লাহ। আগুনে সবাই মারা গেছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিচার দাবি করেছেন স্বজনরা।

স্বপ্নার বড় বোন পলি আক্তার জানান, আগুনে ছোট বোন, বোনের স্বামী ও সন্তানসহ পুরো পরিবার মারা গেছে। মৃত্যুর আগে তারা মোবাইল ফোনে কল করে বাঁচার জন্য চিৎকার করছিল। আমরা তাদের বাঁচাতে পারিনি। এই বলে তিনি কাঁদতে লাগলেন।

শাহবাজপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান রাজীব আহমেদ রাজী বলেন, একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শেষকৃত্যের ব্যবস্থায় তারা পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।

এদিকে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহবাজপুর গ্রামে পৌঁছায়নি। বাদ আসর জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে মোবারক হোসেন কাউছার দ্বিতীয়।

বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে বেইলি রোডের একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগে। এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাহবাজপুরের একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ১২:৫৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মার্চ ২০২৪

রাজধানীর বেইলি রোডের একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের খন্দকার পাড়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারে শোকের মাতম। শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না স্বজন ও স্থানীয়রা।

ইতালি প্রবাসী সৈয়দ মোবারক হোসেন কাউছার বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর মগবাজারে নিজ বাসা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী স্বপ্না আক্তার, দুই মেয়ে সৈয়দা কাশফিয়া ও সৈয়দা নূর এবং একমাত্র ছেলে সৈয়দ আবদুল্লাহ। সেখানে আগুনে পুড়ে সবাই মারা যান। মুহূর্তের মধ্যে সংসার শেষ।

নিহতের স্বজনরা জানান, শাহবাজপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আবুল কাশেমের ছেলে সৈয়দ মোবারক হোসেন কাউছার (৪২) দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে ব্যবসা করে আসছেন। মাসখানেক আগে বাড়িতে আসেন। ইতালিতে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ পেয়েছেন (সবুজ কার্ড)। সম্প্রতি সেখানে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। সবার ভিসা হয়ে গেছে। কিন্তু তারা ইতালিতে যাননি। বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ মারা যান মোবারক।

এদিকে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শাহবাজপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারে চলছে শোকের মাতম। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা এসে স্বজনদের সান্ত্বনা দেন।

মা হেলেনা বেগম জানান, মোবারক সবাইকে নিয়ে একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খেতে যান। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী স্বপ্না, দুই মেয়ে সৈয়দা কাশফি ও সৈয়দা নূর এবং একমাত্র ছেলে সৈয়দ আবদুল্লাহ। আগুনে সবাই মারা গেছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিচার দাবি করেছেন স্বজনরা।

স্বপ্নার বড় বোন পলি আক্তার জানান, আগুনে ছোট বোন, বোনের স্বামী ও সন্তানসহ পুরো পরিবার মারা গেছে। মৃত্যুর আগে তারা মোবাইল ফোনে কল করে বাঁচার জন্য চিৎকার করছিল। আমরা তাদের বাঁচাতে পারিনি। এই বলে তিনি কাঁদতে লাগলেন।

শাহবাজপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান রাজীব আহমেদ রাজী বলেন, একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শেষকৃত্যের ব্যবস্থায় তারা পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।

এদিকে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহবাজপুর গ্রামে পৌঁছায়নি। বাদ আসর জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে মোবারক হোসেন কাউছার দ্বিতীয়।

বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে বেইলি রোডের একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগে। এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।