ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন শিক্ষা প্রশাসনে নতুন নেতৃত্ব: সংস্কারের আশায় ইতিবাচক প্রত্যাশা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ–এর গণবিজ্ঞপ্তি: ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল হস্তান্তর নয় ঈশ্বরদীতে রাতের আঁধারে নৃশংসতা: দাদি-নাতনির মরদেহ উদ্ধার, ধর্ষণের আশঙ্কায় তোলপাড় ! সিলেট হাউজিং এস্টেটে প্রকাশ্যে ছিনতাই, ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজে উদ্বেগ—ওসি ক্লোজড বঙ্গভবনে ‘অপসারণ চক্রান্ত’! রাষ্ট্রপতির বিস্ফোরক দাবি ঘিরে রাজনৈতিক ঝড় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ: নতুন অধ্যায়ে নীতিগত প্রত্যাশা ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের ২৮ ফেব্রুয়ারি সিলেট সফর সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, কে হচ্ছেন পরবর্তী নগরপিতা? সংগ্রামের সৈনিক থেকে নগর উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা—কয়েস লোদী আলোচনার কেন্দ্রে

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ: নতুন অধ্যায়ে নীতিগত প্রত্যাশা ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ

ডেস্ক রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৫:২৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা, রিজার্ভের চাপ ও ব্যাংকিং খাতে সুশাসন সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর পদে নতুন নিয়োগকে ঘিরে নীতি-অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। সরকার গত বুধবার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. মোস্তাকুর রহমান-কে চার বছরের জন্য গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, অন্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগ করে যোগদানের তারিখ থেকে এ দায়িত্ব কার্যকর হবে।

নিয়োগের পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ডেপুটি গভর্নর ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে বরণ করেন।

সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “এসেছি; কাজ শুরু করি; তারপর কথা বলা যাবে।” যোগদানের দিনই তিনি ডেপুটি গভর্নর, বিএফআইইউ প্রধান ও প্রধান অর্থনীতিবিদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরে নির্বাহী পরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। দুপুরে সচিবালয়ে যাওয়ার কথাও রয়েছে তার কর্মসূচিতে।

এর আগে সরকার অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর-এর নিয়োগ বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে। আলোচনায় আরও একটি নাম উঠে এসেছিল—আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ জুনায়েদ কামাল আহমেদ, যিনি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান Multilateral Investment Guarantee Agency (মিগা)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার করপোরেট খাতের প্রতিনিধিকেই বেছে নেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ব্যবসায়ী পটভূমির ব্যক্তিকে গভর্নর করা হলো। মোস্তাকুর রহমান ব্যয় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এফসিএমএ ডিগ্রিধারী এবং দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক খাতে সক্রিয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি নীতিগতভাবে একটি নতুন দৃষ্টান্ত, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা যুক্ত করল।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে—
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বৃদ্ধি,
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা,
ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ও সুশাসন সংকট মোকাবিলা,
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার ও ঋণদাতাদের আস্থা পুনর্গঠন,

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, গভর্নরের পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়; এটি মূলত নীতিনির্ধারণী ও নিয়ন্ত্রক দায়িত্ব। সুদের হার নির্ধারণ, তারল্য ব্যবস্থাপনা, ব্যাংক তদারকি ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণে গভীর ম্যাক্রো-অর্থনৈতিক জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, সমর্থকদের মতে, বাস্তব খাতের অভিজ্ঞতা ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে দক্ষতা আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে।

নীতিনির্ধারক ও বাজার সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, নতুন গভর্নর দ্রুত অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদার করবেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় ও আস্থা পুনর্গঠনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে পেশাগত দক্ষতা, নীতিগত দৃঢ়তা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার সমন্বয়ই এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি। এখন দেখার বিষয়, নতুন নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ সামলে স্থিতিশীলতার পথে কত দ্রুত অগ্রসর হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ: নতুন অধ্যায়ে নীতিগত প্রত্যাশা ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ০৫:২৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা, রিজার্ভের চাপ ও ব্যাংকিং খাতে সুশাসন সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর পদে নতুন নিয়োগকে ঘিরে নীতি-অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। সরকার গত বুধবার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. মোস্তাকুর রহমান-কে চার বছরের জন্য গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, অন্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগ করে যোগদানের তারিখ থেকে এ দায়িত্ব কার্যকর হবে।

নিয়োগের পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ডেপুটি গভর্নর ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে বরণ করেন।

সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “এসেছি; কাজ শুরু করি; তারপর কথা বলা যাবে।” যোগদানের দিনই তিনি ডেপুটি গভর্নর, বিএফআইইউ প্রধান ও প্রধান অর্থনীতিবিদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরে নির্বাহী পরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। দুপুরে সচিবালয়ে যাওয়ার কথাও রয়েছে তার কর্মসূচিতে।

এর আগে সরকার অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর-এর নিয়োগ বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে। আলোচনায় আরও একটি নাম উঠে এসেছিল—আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ জুনায়েদ কামাল আহমেদ, যিনি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান Multilateral Investment Guarantee Agency (মিগা)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার করপোরেট খাতের প্রতিনিধিকেই বেছে নেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ব্যবসায়ী পটভূমির ব্যক্তিকে গভর্নর করা হলো। মোস্তাকুর রহমান ব্যয় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এফসিএমএ ডিগ্রিধারী এবং দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক খাতে সক্রিয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি নীতিগতভাবে একটি নতুন দৃষ্টান্ত, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা যুক্ত করল।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে—
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বৃদ্ধি,
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা,
ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ও সুশাসন সংকট মোকাবিলা,
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার ও ঋণদাতাদের আস্থা পুনর্গঠন,

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, গভর্নরের পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়; এটি মূলত নীতিনির্ধারণী ও নিয়ন্ত্রক দায়িত্ব। সুদের হার নির্ধারণ, তারল্য ব্যবস্থাপনা, ব্যাংক তদারকি ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণে গভীর ম্যাক্রো-অর্থনৈতিক জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, সমর্থকদের মতে, বাস্তব খাতের অভিজ্ঞতা ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে দক্ষতা আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে।

নীতিনির্ধারক ও বাজার সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, নতুন গভর্নর দ্রুত অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদার করবেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় ও আস্থা পুনর্গঠনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে পেশাগত দক্ষতা, নীতিগত দৃঢ়তা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার সমন্বয়ই এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি। এখন দেখার বিষয়, নতুন নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ সামলে স্থিতিশীলতার পথে কত দ্রুত অগ্রসর হতে পারে।