দেবিদ্বার থানা চালায় পুলিশ, না দালাল ?- আইনশৃঙ্খলা সভায় বিস্ফোরক অভিযোগ এমপি হাসনাতের
- আপডেট সময় : ১২:৫৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় থানার অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি থানার সেকেন্ড অফিসারকে “পুরোপুরি দুর্নীতিবাজ” আখ্যা দিয়ে ওসিকে থানা দালালমুক্ত করার কড়া নির্দেশ দেন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানকে উদ্দেশ্য করে এমপি হাসনাত বলেন, ওসি আন্তরিক হলেও তাঁর অধীনস্থ কয়েকজন কর্মকর্তা আন্তরিক নন। থানার সেকেন্ড অফিসার মতিনকে তিনি সরাসরি “ফুলি করাপ্টেড” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, “টাকা ছাড়া তাঁর কোনো পদক্ষেপ চলে না।” একই ধরনের অভিযোগ তোলেন এসআই ভবতোষের বিরুদ্ধেও।
এমপি অভিযোগ করেন, কোনো অভিযানে যাওয়ার আগেই থানার ভেতর থেকে তথ্য ফাঁস হয়ে যায়, ফলে অপরাধীরা পালানোর সুযোগ পায়। তাঁর ভাষায়, এতে “চোর-পুলিশ খেলা” চলছে, যার খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।
সভায় আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, থানার বাইরে থাকা হেলাল নামের এক ব্যক্তি কার্যত থানার কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। তাঁর দাবি, কোন মামলা রুজু হবে বা হবে না—এমন সিদ্ধান্তেও ওই ব্যক্তির মৌখিক অনুমোদনের অভিযোগ রয়েছে।
এমপি বলেন, “থানা চালাবেন ওসি ও তাঁর কর্মকর্তারা। কোনো অচাকরিজীবী ব্যক্তি থানার কার্যক্রমে প্রভাব রাখতে পারেন না।” তিনি ওসিকে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, বিশেষ করে বরকামতা, ভানি ও সুলতানপুর এলাকার সাধারণ মানুষ, সিএনজি ও অটোরিকশা চালকেরা থানায় গিয়ে হয়রানির শিকার হন। তাঁর মতে, পুলিশের কাছে সরাসরি যাওয়ার আগেই এক ধরনের দালালচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা পুলিশের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর।
তিনি বলেন, “পুলিশের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক হবে সরাসরি ও আইনানুগ। বৈধ বিষয়ে সহযোগিতা থাকবে, অবৈধ বিষয়ে কোনো আপস নয়।”
এমপি জানান, গত এক বছরে ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন সূত্রে তিনি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখেছেন। সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “আমরা ওসিকে সহযোগিতা করতে চাই। দেবিদ্বারে কার্যকর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে চাই।”
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দেবিদ্বার থানার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ এখন স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে কি না—সেই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।










