ঢাকা ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সিলেট-১ থেকে মন্ত্রিসভায় যাচ্ছেন মুক্তাদির; জোর আলোচনা ! ঐক্যের সিলেট গড়ার প্রত্যয়: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে জাতীয়তাবাদী উন্মুক্ত মঞ্চের মতবিনিময় গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান : প্রধান তথ্য অফিসার সিলেটে অপপ্রচার, ভোট কেনা ও কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতির অভিযোগ বিএনপির বিগত ১৭ বছরে জৈন্তাপুরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি: আরিফুল হক চৌধুরী ইমাম-মুয়াজ্জিনদের হাদিয়া বৃদ্ধি ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে: খন্দকার মুক্তাদির সিলেট প্রেসক্লাবে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের সঙ্গে মতবিনিময়, গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা রাজনীতির আড়ালে কোটি টাকার খেলা; নাহিদ ইসলামকে ঘিরে সুরভীর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ! সিলেটে আক্রমণাত্মক অবস্থানে বিএনপি–জামায়াত: ১, ২, ৩, ৪ ও ৬ আসনে বিএনপি শক্ত অবস্থানে সিলেটের তেমুখিতে তিন গ্রামের সংঘর্ষ, আহত ১৫ জন

হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে ইরানের প্রেসিডেন্ট এব্রাহিম রাইসি’র মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৮:০৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪ ২৫৭ বার পড়া হয়েছে

ইরানের প্রেসিডেন্ট এব্রাহিম রাইসি আর নেই। তিনি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির আবদোল্লাহিয়ান সহ হেলিকপ্টারে থাকা সবাই নিহত হয়েছেন বলে ইরানের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

‘প্রেসিডেন্ট রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও হেলিকপ্টারে থাকা অন্য সকল যাত্রী দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন,’ ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্স বার্তা সংস্থাকে জানান।

এছাড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেসিডেন্ট এব্রাহিম রাইসির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

সোমবার সকালে পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের পাহাড়ি ও তুষারাবৃত এলাকায় এব্রাহিম রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায় অনুসন্ধানী দল। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়, সেখানে প্রাণের কোন চিহ্ন নেই।

এর আগে, হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়া এলাকায় একটি ‘হিট সোর্স’ (উত্তপ্ত স্থান) সনাক্ত করেছিল তুরস্কের পাঠানো ড্রোন। হেলিকপ্টারটি যেখানে বিধ্বস্ত হয়েছে সেখানে পৌঁছে কার্যক্রম শুরু করেছে উদ্ধারকর্মীরা।

প্রেসিডেন্ট রাইসির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মোহাম্মদ মোখবার-এর নাম অনুমোদন করেছেন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। তিনি দুই মাস এ দায়িত্ব পালন করবেন।

রোববার আজারবাইজানের সীমান্তের কাছে দুটি বাঁধ উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্ট এব্রাহিম রাইসি। এরপর হেলিকপ্টারে ইরানের উত্তর-পশ্চিমে তাবরিজ শহরের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি।

তার সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির আবদোল্লাহিয়ান ছাড়াও আরো ছিলেন ধর্মীয় নেতার (খামেনি) প্রতিনিধি ও তাবরিজের ইমাম সৈয়দ মোহাম্মদ আল হাশেম, পূর্ব আজারবাইজানের গভর্নর মালিক রাহমাতি, প্রেসিডেন্ট প্রোটেকশন ইউনিটের কমান্ডার সরদার সৈয়দ মেহদি মৌসভি, কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী এবং ক্রুরা।

তাবরিজ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে দূর্ঘটনার কবলে পড়ে হেলিকপ্টারটি। কিন্তু ভারী কুয়াশা থাকায় অনুসন্ধান অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রেসিডেন্টের বহরে মোট তিনটি হেলিকপ্টার ছিল। অন্য দুটি হেলিকপ্টার নিরাপদে অবতরণ করে।

পূর্ব আজারবাইজানের ডেপুটি গভর্নর ফর ডেভেলপমেন্ট আলি জাকারি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ওই বহরে তিনটি হেলিকপ্টার ছিল এবং অন্য দুটি নিরাপদে অবতরণ করতে পেরেছে। একটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

নিরাপদে ফেরা হেলিকপ্টারে জ্বালানি মন্ত্রী আলী আকবর মেহরাবিয়ান এবং আবাসন ও পরিবহনমন্ত্রী মেহরদাদ বজরপাশ ছিলেন।

এব্রাহিম রাইসি একদিন আগে প্রতিবেশী আজারবাইজানে ছিলেন। তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সাথে বাঁধ উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন।

৬৩ বছর বয়সী রাইসি ২০২১ সালে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশটির মরালিটি বা নৈতিকতা বিষয়ক আইন কঠোর করার নির্দেশ দেন। তাকে একজন কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০১৯ সালে সর্বোচ্চ নেতা তাকে বিচার বিভাগের প্রধানের শক্তিশালী পদে নিযুক্ত করেন।

মি. রাইসি বিশেষজ্ঞদের অ্যাসেম্বলির ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবেও নির্বাচিত হন। ইরানে ৮৮ সদস্যের এই বোর্ড দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে থাকে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে ইরানের প্রেসিডেন্ট এব্রাহিম রাইসি’র মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৮:০৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪

ইরানের প্রেসিডেন্ট এব্রাহিম রাইসি আর নেই। তিনি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির আবদোল্লাহিয়ান সহ হেলিকপ্টারে থাকা সবাই নিহত হয়েছেন বলে ইরানের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

‘প্রেসিডেন্ট রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও হেলিকপ্টারে থাকা অন্য সকল যাত্রী দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন,’ ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্স বার্তা সংস্থাকে জানান।

এছাড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেসিডেন্ট এব্রাহিম রাইসির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

সোমবার সকালে পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের পাহাড়ি ও তুষারাবৃত এলাকায় এব্রাহিম রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায় অনুসন্ধানী দল। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়, সেখানে প্রাণের কোন চিহ্ন নেই।

এর আগে, হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়া এলাকায় একটি ‘হিট সোর্স’ (উত্তপ্ত স্থান) সনাক্ত করেছিল তুরস্কের পাঠানো ড্রোন। হেলিকপ্টারটি যেখানে বিধ্বস্ত হয়েছে সেখানে পৌঁছে কার্যক্রম শুরু করেছে উদ্ধারকর্মীরা।

প্রেসিডেন্ট রাইসির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মোহাম্মদ মোখবার-এর নাম অনুমোদন করেছেন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। তিনি দুই মাস এ দায়িত্ব পালন করবেন।

রোববার আজারবাইজানের সীমান্তের কাছে দুটি বাঁধ উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্ট এব্রাহিম রাইসি। এরপর হেলিকপ্টারে ইরানের উত্তর-পশ্চিমে তাবরিজ শহরের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি।

তার সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির আবদোল্লাহিয়ান ছাড়াও আরো ছিলেন ধর্মীয় নেতার (খামেনি) প্রতিনিধি ও তাবরিজের ইমাম সৈয়দ মোহাম্মদ আল হাশেম, পূর্ব আজারবাইজানের গভর্নর মালিক রাহমাতি, প্রেসিডেন্ট প্রোটেকশন ইউনিটের কমান্ডার সরদার সৈয়দ মেহদি মৌসভি, কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী এবং ক্রুরা।

তাবরিজ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে দূর্ঘটনার কবলে পড়ে হেলিকপ্টারটি। কিন্তু ভারী কুয়াশা থাকায় অনুসন্ধান অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রেসিডেন্টের বহরে মোট তিনটি হেলিকপ্টার ছিল। অন্য দুটি হেলিকপ্টার নিরাপদে অবতরণ করে।

পূর্ব আজারবাইজানের ডেপুটি গভর্নর ফর ডেভেলপমেন্ট আলি জাকারি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ওই বহরে তিনটি হেলিকপ্টার ছিল এবং অন্য দুটি নিরাপদে অবতরণ করতে পেরেছে। একটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

নিরাপদে ফেরা হেলিকপ্টারে জ্বালানি মন্ত্রী আলী আকবর মেহরাবিয়ান এবং আবাসন ও পরিবহনমন্ত্রী মেহরদাদ বজরপাশ ছিলেন।

এব্রাহিম রাইসি একদিন আগে প্রতিবেশী আজারবাইজানে ছিলেন। তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সাথে বাঁধ উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন।

৬৩ বছর বয়সী রাইসি ২০২১ সালে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশটির মরালিটি বা নৈতিকতা বিষয়ক আইন কঠোর করার নির্দেশ দেন। তাকে একজন কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০১৯ সালে সর্বোচ্চ নেতা তাকে বিচার বিভাগের প্রধানের শক্তিশালী পদে নিযুক্ত করেন।

মি. রাইসি বিশেষজ্ঞদের অ্যাসেম্বলির ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবেও নির্বাচিত হন। ইরানে ৮৮ সদস্যের এই বোর্ড দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে থাকে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা