ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ত্রাণের অভাব হবে না, সাহস নিয়ে দূর্যোগ মোকাবেলা করুন: দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিবুল ইসলাম সিলেটে মুক্তিপণ না পেয়ে ছাদ থেকে ফেলে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ ডাঃ জোবাইদা রহমানের জন্মদিনে সিলেটে বন্যার্তদের মাঝে খাবার বিতরণ সিলেটের বন্যা প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে: মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী পাওয়ার নিউজ বিডি’র উপদেষ্টা যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো: আব্দুল গনি’র ঈদ শুভেচ্ছা বিএনপিতে রদবদল; সিলেট বিভাগে দায়িত্ব পেলেন জি কে গৌছ ও মিফতাহ্ সিদ্দিকী বাবার বিচার চেয়ে ডরিনের পাশে থাকা সাইদুল করিম মিন্টুই এমপি আনার হত্যায় গ্রেফতার ! সিলেটে আর্মড পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার ‘ছাদ থেকে পড়ে’ ভাইরাল সেই শিশু হজযাত্রীর মৃত্যু ! ১ লাখ ১ টাকা কাবিনে শ্রীলঙ্কান তরুণীকে বিয়ে করলেন দুবাই প্রবাসী ফটিকছড়ির মোরশেদ

যশোরের অভয়নগরে পুলিশ হেফাজতে এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ !

যশোর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ জুন ২০২৪ ২৩ বার পড়া হয়েছে

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় পুলিশ হেফাজতে এক নারীর মৃত্যুর হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ তাকে ইয়াবা দিয়ে আটকের পর টাকা না পেয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে।

মৃত আফরোজা বেগম অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের জলিল মোল্যার স্ত্রী। রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। 

আফরোজা বেগমের ছোট ছেলে নবম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির মোল্যা জানায়, গতকাল রাত ১২টার দিকে আম্মু বাড়ির পাশে টিউবওয়েলে পানি আনতে যায়। সেসময় বাড়িতে পাঁচজন পুলিশ আসে। অভয়নগর থানার এএসআই সিলন আলী আম্মুকে বলে, তোর কাছে যা আছে বের করে দে। আম্মু তার কাছে কিছু নেই জানালে সিলন আলী একজন নারী পুলিশ দিয়ে তার দেহ তল্লাশি করেও কিছু পায়নি। পরে সিলন আলী আম্মুকে বেধড়ক মারধর করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আমার সামনে আম্মুর চুল ফ্যানের সঙ্গে বেঁধে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
 
মৃত আফরোজা বেগমের বড় ছেলে ইজিবাইক চালক মুন্না মোল্যা বলেন, গ্রামের একটি মহলের ইন্ধনে অভয়নগর থানার এসআই সিলন ও শামছু গতরাত ১২ টার দিকে আমাদের বাড়িতে আসে। পরে নিজেদের কাছে থাকা ইয়াবা দিয়ে মাকে আটক দেখায়।

তিনি জানান, সিলনসহ কয়েকজন পুলিশ তার মাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে মারধর করে। পরে রাত ১টার দিকে থানায় নিয়ে যায়। 

মুন্না জানান, রোববার সকালে থানায় গিয়ে দেখেন তার মা খুব অসুস্থ। পরে পুলিশকে অনুরোধ করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা কয়েকটি টেস্ট দিলেও পুলিশ সদস্যরা সেগুলো করতে না দিয়ে তাকে ফের থানায় নিয়ে যায়। আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মায়ের মৃত্যু হয়।

মুন্না আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ দুই লাখ টাকা ঘুষের দাবিতে তার মাকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হাসিব মো. আলী হাসান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আফরোজা বেগম মারা গেছেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বলা যাবে তার মৃত্যুর কারণ।

রোববার সকালে আফরোজা বেগমের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। 

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকিকুল ইসলাম বলেন, আফরোজা বেগমকে গতকাল রাত দেড়টার দিকে ৩০টি ইয়াবাসহ আটক করা হয়। রাতে তাকে নারী থানা হাজতে রাখা হয়। তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি।

ওসি আরও বলেন, আফরোজা বেগম সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। তিনি হাই ব্লাড প্রেসারের রোগী ছিলেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্যা ডেইলি স্টার

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

যশোরের অভয়নগরে পুলিশ হেফাজতে এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ !

আপডেট সময় : ০৯:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ জুন ২০২৪

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় পুলিশ হেফাজতে এক নারীর মৃত্যুর হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ তাকে ইয়াবা দিয়ে আটকের পর টাকা না পেয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে।

মৃত আফরোজা বেগম অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের জলিল মোল্যার স্ত্রী। রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। 

আফরোজা বেগমের ছোট ছেলে নবম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির মোল্যা জানায়, গতকাল রাত ১২টার দিকে আম্মু বাড়ির পাশে টিউবওয়েলে পানি আনতে যায়। সেসময় বাড়িতে পাঁচজন পুলিশ আসে। অভয়নগর থানার এএসআই সিলন আলী আম্মুকে বলে, তোর কাছে যা আছে বের করে দে। আম্মু তার কাছে কিছু নেই জানালে সিলন আলী একজন নারী পুলিশ দিয়ে তার দেহ তল্লাশি করেও কিছু পায়নি। পরে সিলন আলী আম্মুকে বেধড়ক মারধর করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আমার সামনে আম্মুর চুল ফ্যানের সঙ্গে বেঁধে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
 
মৃত আফরোজা বেগমের বড় ছেলে ইজিবাইক চালক মুন্না মোল্যা বলেন, গ্রামের একটি মহলের ইন্ধনে অভয়নগর থানার এসআই সিলন ও শামছু গতরাত ১২ টার দিকে আমাদের বাড়িতে আসে। পরে নিজেদের কাছে থাকা ইয়াবা দিয়ে মাকে আটক দেখায়।

তিনি জানান, সিলনসহ কয়েকজন পুলিশ তার মাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে মারধর করে। পরে রাত ১টার দিকে থানায় নিয়ে যায়। 

মুন্না জানান, রোববার সকালে থানায় গিয়ে দেখেন তার মা খুব অসুস্থ। পরে পুলিশকে অনুরোধ করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা কয়েকটি টেস্ট দিলেও পুলিশ সদস্যরা সেগুলো করতে না দিয়ে তাকে ফের থানায় নিয়ে যায়। আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মায়ের মৃত্যু হয়।

মুন্না আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ দুই লাখ টাকা ঘুষের দাবিতে তার মাকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হাসিব মো. আলী হাসান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আফরোজা বেগম মারা গেছেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বলা যাবে তার মৃত্যুর কারণ।

রোববার সকালে আফরোজা বেগমের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। 

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকিকুল ইসলাম বলেন, আফরোজা বেগমকে গতকাল রাত দেড়টার দিকে ৩০টি ইয়াবাসহ আটক করা হয়। রাতে তাকে নারী থানা হাজতে রাখা হয়। তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি।

ওসি আরও বলেন, আফরোজা বেগম সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। তিনি হাই ব্লাড প্রেসারের রোগী ছিলেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্যা ডেইলি স্টার