ঢাকা ১২:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সিলেট বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সিলেট রক্তের অনুসন্ধানে আমরা সংগঠনের উদ্যোগে বিনামূল্যে ব্লাড ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত সিলেটে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা উদ্বোধন বাস–পিকআপ সংঘর্ষ ও মোটরসাইকেল ধাক্কায় ঝরলো চার প্রাণ আকরাম হেইচসি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ “সাংবাদিক পরিচয়েই মরতে চাই” — তথ্য মন্ত্রণালয় নিয়ে বিস্ফোরক মত মতিউর রহমান চৌধুরীর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ বরিশালে গ্রেপ্তারের আগে দুই সন্দেহভাজন আওয়ামী লীগ কর্মীকে মারধর সিলেট মহানগর বিএনপির শোক ও কর্মসূচী সাংবাদিক আনিস রহমানের মাতৃবিয়োগে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের শোক

ভারতীয় সেনা সরিয়ে নিতে সময় বেঁধে দিলো মালদ্বীপ

মোঃ শাহজাহান আহমদ
  • আপডেট সময় : ০১:৩৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৪ ৩৭৬ বার পড়া হয়েছে

চীন সফরের পরেই ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহম্মদ মুইজ্জু। শনিবার (১৩ জানুয়ারি) কোনো দেশের নাম না করেই হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়েছিলেন, কাউকে ধমকানোর ছাড়পত্র দেয়নি তার সরকার। তার পরের দিনই ভারতীয় সেনাকে দ্রুত মালদ্বীপ ছাড়তে বলার নির্দেশ দিলেন তিনি।

তবে এবার শুধু কূটনৈতিক স্তরে অনুরোধ জানানোই নয়, রীতিমতো দু’মাসের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে মালদ্বীপ সরকার। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে ভারতীয় সেনাকে মালদ্বীপ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে কূটনৈতিক স্তরে সেনা সরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছিল ভারত। এবার সরাসরি ‘নির্দেশ’ দেওয়া হলো। মুইজ্জুর সচিবালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ নাজিম ইব্রাহিম সে দেশের একটি সংবাদপত্রকে বলেছেন, ভারতীয় সেনারা মালদ্বীপে থাকতে পারবেন না। কারণ এটাই প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু এবং তার সরকারের সিদ্ধান্ত।

মুইজ্জুর সেনা সরানো সংক্রান্ত নির্দেশের নেপথ্যে চীনের হাত দেখছেন কেউ কেউ। কারণ ভারত-মালদ্বীপ চলতি বিতর্কের শুরুতে খানিক সুর নরমের ইঙ্গিত দিয়েছিল মালদ্বীপ সরকার। ভারত ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছিল মালদ্বীপের তিন মন্ত্রীকে।

তারপরেও অবশ্য দুই দেশের সম্পর্ক খুব একটা সহজ হয়নি। ভারতীয় নাগরিকদের ‘বয়কট মালদ্বীপ’-এর ঠেলা সামলাতে হিমশিম খেতে হয় দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রকে। আগে থেকে মালদ্বীপে ঘুরতে যাওয়ার বিমান-হোটেলে টিকিট বুক করে রাখার পরেও তা বাতিল করেন একের পর এক ভারতীয়। এই প্রবণতা এখনো বন্ধ হয়নি।

মালদ্বীপের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এমনিতেই ‘চীনপন্থি’ বলে পরিচিত মুইজ্জু। গত সপ্তাহেই তিন পাঁচ দিনের জন্য চীন সফরে যান। সফরের তৃতীয় দিনে গত বুধবার জিনপিংয়ের সঙ্গে রাজধানী বেইজিংয়ে বৈঠক করেন মুইজ্জু। সেখানেই ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের আবহে মালদ্বীপের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন চীনা প্রেসিডেন্ট তথা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষনেতা। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ওই বৈঠকেই বেইজিংকে তাদের ‘পুরনো বন্ধু ও ঘনিষ্ঠতম সহযোগী’ বলেন মুইজ্জু। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সংক্রান্ত কয়েকটি চুক্তি সই হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভারতীয় সেনা সরিয়ে নিতে সময় বেঁধে দিলো মালদ্বীপ

আপডেট সময় : ০১:৩৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৪

চীন সফরের পরেই ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহম্মদ মুইজ্জু। শনিবার (১৩ জানুয়ারি) কোনো দেশের নাম না করেই হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়েছিলেন, কাউকে ধমকানোর ছাড়পত্র দেয়নি তার সরকার। তার পরের দিনই ভারতীয় সেনাকে দ্রুত মালদ্বীপ ছাড়তে বলার নির্দেশ দিলেন তিনি।

তবে এবার শুধু কূটনৈতিক স্তরে অনুরোধ জানানোই নয়, রীতিমতো দু’মাসের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে মালদ্বীপ সরকার। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে ভারতীয় সেনাকে মালদ্বীপ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে কূটনৈতিক স্তরে সেনা সরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছিল ভারত। এবার সরাসরি ‘নির্দেশ’ দেওয়া হলো। মুইজ্জুর সচিবালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ নাজিম ইব্রাহিম সে দেশের একটি সংবাদপত্রকে বলেছেন, ভারতীয় সেনারা মালদ্বীপে থাকতে পারবেন না। কারণ এটাই প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু এবং তার সরকারের সিদ্ধান্ত।

মুইজ্জুর সেনা সরানো সংক্রান্ত নির্দেশের নেপথ্যে চীনের হাত দেখছেন কেউ কেউ। কারণ ভারত-মালদ্বীপ চলতি বিতর্কের শুরুতে খানিক সুর নরমের ইঙ্গিত দিয়েছিল মালদ্বীপ সরকার। ভারত ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছিল মালদ্বীপের তিন মন্ত্রীকে।

তারপরেও অবশ্য দুই দেশের সম্পর্ক খুব একটা সহজ হয়নি। ভারতীয় নাগরিকদের ‘বয়কট মালদ্বীপ’-এর ঠেলা সামলাতে হিমশিম খেতে হয় দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রকে। আগে থেকে মালদ্বীপে ঘুরতে যাওয়ার বিমান-হোটেলে টিকিট বুক করে রাখার পরেও তা বাতিল করেন একের পর এক ভারতীয়। এই প্রবণতা এখনো বন্ধ হয়নি।

মালদ্বীপের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এমনিতেই ‘চীনপন্থি’ বলে পরিচিত মুইজ্জু। গত সপ্তাহেই তিন পাঁচ দিনের জন্য চীন সফরে যান। সফরের তৃতীয় দিনে গত বুধবার জিনপিংয়ের সঙ্গে রাজধানী বেইজিংয়ে বৈঠক করেন মুইজ্জু। সেখানেই ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের আবহে মালদ্বীপের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন চীনা প্রেসিডেন্ট তথা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষনেতা। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ওই বৈঠকেই বেইজিংকে তাদের ‘পুরনো বন্ধু ও ঘনিষ্ঠতম সহযোগী’ বলেন মুইজ্জু। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সংক্রান্ত কয়েকটি চুক্তি সই হয়।