ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যুক্তরা‌জ্যের ব্রাড‌ফো‌র্ডে সন্তা‌নের সাম‌নে মাকে খুন, মাসুম নামে এক বাংলা‌দেশি গ্রেপ্তার সমাপ্ত হলো মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিমের মাসব্যাপী গণ ইফতার রাজধানীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি প্রাণের উৎসব বৈসাবি পালিত পঞ্চগড়ে ঈদের দিন গৃহবধুকে জবাই করে হত্যার অভিযোগ সিলেট নগরীতে ঈদের জামাত কখন কোথায় প্রয়াত যুবদল নেতা জিলুর পরিবারকে ফ্রান্সে বসবাসরত গোলাপগঞ্জ বিএনপির ঈদ উপহার আশুলিয়ায় বাড়তি ভাড়া চাওয়ার জেরে চালক ও সুপারভাইজারকে পিটিয়ে হত্যা পুনাক, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ হেফাজতে যুবদল নেতা আকরাম হোসেনের মৃত্যু ! আজ চাঁদ দেখা যায়নি, আগামী বুধবার সৌদি সহ বিশ্বের বেশ ক’টি দেশে ঈদুল ফিতর

বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাহবাজপুরের একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু

POWER NEWS BD
  • আপডেট সময় : ১২:৫৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মার্চ ২০২৪ ২৩ বার পড়া হয়েছে
Spread the love

রাজধানীর বেইলি রোডের একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের খন্দকার পাড়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারে শোকের মাতম। শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না স্বজন ও স্থানীয়রা।

ইতালি প্রবাসী সৈয়দ মোবারক হোসেন কাউছার বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর মগবাজারে নিজ বাসা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী স্বপ্না আক্তার, দুই মেয়ে সৈয়দা কাশফিয়া ও সৈয়দা নূর এবং একমাত্র ছেলে সৈয়দ আবদুল্লাহ। সেখানে আগুনে পুড়ে সবাই মারা যান। মুহূর্তের মধ্যে সংসার শেষ।

নিহতের স্বজনরা জানান, শাহবাজপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আবুল কাশেমের ছেলে সৈয়দ মোবারক হোসেন কাউছার (৪২) দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে ব্যবসা করে আসছেন। মাসখানেক আগে বাড়িতে আসেন। ইতালিতে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ পেয়েছেন (সবুজ কার্ড)। সম্প্রতি সেখানে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। সবার ভিসা হয়ে গেছে। কিন্তু তারা ইতালিতে যাননি। বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ মারা যান মোবারক।

এদিকে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শাহবাজপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারে চলছে শোকের মাতম। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা এসে স্বজনদের সান্ত্বনা দেন।

মা হেলেনা বেগম জানান, মোবারক সবাইকে নিয়ে একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খেতে যান। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী স্বপ্না, দুই মেয়ে সৈয়দা কাশফি ও সৈয়দা নূর এবং একমাত্র ছেলে সৈয়দ আবদুল্লাহ। আগুনে সবাই মারা গেছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিচার দাবি করেছেন স্বজনরা।

স্বপ্নার বড় বোন পলি আক্তার জানান, আগুনে ছোট বোন, বোনের স্বামী ও সন্তানসহ পুরো পরিবার মারা গেছে। মৃত্যুর আগে তারা মোবাইল ফোনে কল করে বাঁচার জন্য চিৎকার করছিল। আমরা তাদের বাঁচাতে পারিনি। এই বলে তিনি কাঁদতে লাগলেন।

শাহবাজপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান রাজীব আহমেদ রাজী বলেন, একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শেষকৃত্যের ব্যবস্থায় তারা পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।

এদিকে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহবাজপুর গ্রামে পৌঁছায়নি। বাদ আসর জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে মোবারক হোসেন কাউছার দ্বিতীয়।

বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে বেইলি রোডের একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগে। এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাহবাজপুরের একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ১২:৫৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মার্চ ২০২৪
Spread the love

রাজধানীর বেইলি রোডের একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের খন্দকার পাড়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারে শোকের মাতম। শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না স্বজন ও স্থানীয়রা।

ইতালি প্রবাসী সৈয়দ মোবারক হোসেন কাউছার বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর মগবাজারে নিজ বাসা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী স্বপ্না আক্তার, দুই মেয়ে সৈয়দা কাশফিয়া ও সৈয়দা নূর এবং একমাত্র ছেলে সৈয়দ আবদুল্লাহ। সেখানে আগুনে পুড়ে সবাই মারা যান। মুহূর্তের মধ্যে সংসার শেষ।

নিহতের স্বজনরা জানান, শাহবাজপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আবুল কাশেমের ছেলে সৈয়দ মোবারক হোসেন কাউছার (৪২) দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে ব্যবসা করে আসছেন। মাসখানেক আগে বাড়িতে আসেন। ইতালিতে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ পেয়েছেন (সবুজ কার্ড)। সম্প্রতি সেখানে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। সবার ভিসা হয়ে গেছে। কিন্তু তারা ইতালিতে যাননি। বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ মারা যান মোবারক।

এদিকে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শাহবাজপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারে চলছে শোকের মাতম। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা এসে স্বজনদের সান্ত্বনা দেন।

মা হেলেনা বেগম জানান, মোবারক সবাইকে নিয়ে একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খেতে যান। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী স্বপ্না, দুই মেয়ে সৈয়দা কাশফি ও সৈয়দা নূর এবং একমাত্র ছেলে সৈয়দ আবদুল্লাহ। আগুনে সবাই মারা গেছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিচার দাবি করেছেন স্বজনরা।

স্বপ্নার বড় বোন পলি আক্তার জানান, আগুনে ছোট বোন, বোনের স্বামী ও সন্তানসহ পুরো পরিবার মারা গেছে। মৃত্যুর আগে তারা মোবাইল ফোনে কল করে বাঁচার জন্য চিৎকার করছিল। আমরা তাদের বাঁচাতে পারিনি। এই বলে তিনি কাঁদতে লাগলেন।

শাহবাজপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান রাজীব আহমেদ রাজী বলেন, একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শেষকৃত্যের ব্যবস্থায় তারা পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।

এদিকে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহবাজপুর গ্রামে পৌঁছায়নি। বাদ আসর জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে মোবারক হোসেন কাউছার দ্বিতীয়।

বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে বেইলি রোডের একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগে। এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।