ঢাকা ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ট্রিপল মার্ডার: সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সরব ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বিএনপি নেতা নুরুল মোমিন চৌধুরী খোকন চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাচ্ছেন সিলেট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেল অপ্সরা আলতাফ চৌধুরী রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দকে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ও এটিএম তুরাব বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড প্রদান নারীদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় মাসুদুর রহমান সুমন দানবাক্সে লাখো টাকার দান, স্বচ্ছতায় নতুন দৃষ্টান্ত ২০ কোটি টাকার টেন্ডার থেকে গোপনীয় পরীক্ষা কার্যক্রম—সিলেট শিক্ষা বোর্ডে একের পর এক অভিযোগ, তদন্তের দাবি ! সিলেটে চিকিৎসকের কিশোর ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার শতাব্দী রায়ের বাড়িতে বিদ্রোহীদের বৈঠক, পশ্চিমবঙ্গে তৃনমূলে ভাঙনের ইঙ্গিত ! 

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শিশুসন্তানকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলেন চাঁদপুরের রিমা

চাঁদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০১:৫৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৪ ২৫৪ বার পড়া হয়েছে

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার কাজিরগাঁও রেলপথে চট্টগ্রামগামী সাগরিকা ট্রেনের নিচে শিশুসন্তানকে নিয়ে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক মা।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে আত্মহত্যার খবর পান স্বজনেরা।

নিহতরা হলেন উপজেলার স্বর্ণা গ্রামের হাওলাদার বাড়ির মাসুদুজ্জামান হাওলাদারের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার রিমা (২৪) ও তার ১৬ মাস বয়সী ছেলে।

চাঁদপুর রেলওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ মাসুদ আলম বলেন, ‘বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মারা যান মা ও তার শিশুসন্তান। এ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল রিপোর্ট করার পর ময়নাতদন্তের জন্য দুজনের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

জানা গেছে, গত ২৮ মার্চ হাজীগঞ্জ থানায় প্রবাসী স্বামী মাসুদুজ্জামান হাওলাদারের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দেয় নিহত ওই গৃহবধূ। অভিযোগে স্বামী প্রবাসে থাকা অবস্থায় তালাক দেওয়ার পরও দেশে এসে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগটির তদন্তে কাজ করেন হাজীগঞ্জ থানা উপপরিদর্শক আবদুর রহমান।

এদিকে স্বজনেরা বলছেন, ‘স্বামী মাসুদুজ্জামান দেশে এসে বিষয়টি সুরাহা না করে প্রবাসে চলে যাওয়ায় আত্মহননের সিদ্ধান্ত নেয় তাহমিনা। সে বিয়ের পর থেকে হাজীগঞ্জ উপজেলার ধড্ডা গ্রামে বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছিল। তাদের চার বছরের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।’

মৃত্যুর আগে ফেসবুকে তাহমিনা লেখেন, ‘আমি তাহমিনা আক্তার রিমা। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। আমার মেয়েটারে সবাই দেখে রাখবেন; ও যেন ভালো থাকে, সুস্থ থাকে। আমার মা-বাবাকে কেউ কোনও দোষারোপ করবেন না। আমার জীবনের সব সিদ্ধান্ত আমি নিজেই নিয়েছি। মা, আব্বু, রিপা জুবায়ের, সুফিয়ান ভাই, মামা-মামি আমার মেয়েটারে দেইখা রাইখেন আপনারা। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শিশুসন্তানকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলেন চাঁদপুরের রিমা

আপডেট সময় : ০১:৫৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৪

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার কাজিরগাঁও রেলপথে চট্টগ্রামগামী সাগরিকা ট্রেনের নিচে শিশুসন্তানকে নিয়ে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক মা।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে আত্মহত্যার খবর পান স্বজনেরা।

নিহতরা হলেন উপজেলার স্বর্ণা গ্রামের হাওলাদার বাড়ির মাসুদুজ্জামান হাওলাদারের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার রিমা (২৪) ও তার ১৬ মাস বয়সী ছেলে।

চাঁদপুর রেলওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ মাসুদ আলম বলেন, ‘বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মারা যান মা ও তার শিশুসন্তান। এ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল রিপোর্ট করার পর ময়নাতদন্তের জন্য দুজনের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

জানা গেছে, গত ২৮ মার্চ হাজীগঞ্জ থানায় প্রবাসী স্বামী মাসুদুজ্জামান হাওলাদারের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দেয় নিহত ওই গৃহবধূ। অভিযোগে স্বামী প্রবাসে থাকা অবস্থায় তালাক দেওয়ার পরও দেশে এসে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগটির তদন্তে কাজ করেন হাজীগঞ্জ থানা উপপরিদর্শক আবদুর রহমান।

এদিকে স্বজনেরা বলছেন, ‘স্বামী মাসুদুজ্জামান দেশে এসে বিষয়টি সুরাহা না করে প্রবাসে চলে যাওয়ায় আত্মহননের সিদ্ধান্ত নেয় তাহমিনা। সে বিয়ের পর থেকে হাজীগঞ্জ উপজেলার ধড্ডা গ্রামে বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছিল। তাদের চার বছরের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।’

মৃত্যুর আগে ফেসবুকে তাহমিনা লেখেন, ‘আমি তাহমিনা আক্তার রিমা। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। আমার মেয়েটারে সবাই দেখে রাখবেন; ও যেন ভালো থাকে, সুস্থ থাকে। আমার মা-বাবাকে কেউ কোনও দোষারোপ করবেন না। আমার জীবনের সব সিদ্ধান্ত আমি নিজেই নিয়েছি। মা, আব্বু, রিপা জুবায়ের, সুফিয়ান ভাই, মামা-মামি আমার মেয়েটারে দেইখা রাইখেন আপনারা। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না।’