ঢাকা ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য হতে চায় ফিলিস্তিন; ফিলিস্তিন প্রতিনিধি দলের প্রধান রিয়াদ মনসুর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত ভারতের শিলচরের সাহিত্য-সংস্কৃতি কর্মীদের সিলেটে সৌজন্য সাক্ষাৎ ছড়াকার সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী ছড়াশিল্পের অনন্য এক দিকপাল: প্রফেসর হারুনুর রশীদ ডাক্তারের পরামর্শে চার মাস কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ বিবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান রেনুর পিতার নামাজে জানাজা আজ দরগা মাসজিদে সিলেটে ডিবি’র জুয়া বিরোধী বিশেষ অভিযানে জুয়া খেলার সামগ্রীসহ ৬ জুয়ারি আটক সিলেটে ডিবি পুলিশের পৃথক দুটি অভিযানে জুয়া খেলার সামগ্রীসহ ২২ জন জুয়ারি গ্রেফতার গাজীপুরের কোনাবাড়িতে ঝুট গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ ইউনিট গাজীপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে মেয়েকে বাবার হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা

মূলত ডলার সংকট নিরসন ও বাজারে ডলারের প্রবাহ বাড়ানোর জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ডলার সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিলো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক

তারেক আহমদ খান
  • আপডেট সময় : ০৯:৫০:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৪ ৫৯ বার পড়া হয়েছে

ডলার সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক তাদের নিজস্ব অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে (বৈদেশিক মুদ্রায় বিদেশ থেকে আমানত সংগ্রহ করে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ বিতরণের জন্য গঠিত আলাদা ইউনিট) কোনো ডলার বা তহবিল স্থানান্তর করতে পারবে না।

ব্যাংক থেকে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে ইতিপূর্বে স্থানান্তর করা তহবিল পর্যায়ক্রমে মূল ব্যাংকে ফিরিয়ে আনতে হবে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে স্থানান্তর করা সমুদয় তহবিল ফিরিয়ে আনতে হবে।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, মূলত ডলার সংকট নিরসন ও বাজারে ডলারের প্রবাহ বাড়ানোর জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোর মূল ব্যাংকিং ইউনিট থেকে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে ডলার স্থানান্তর করা বন্ধ হবে। এতে বাজারে ডলারের প্রবাহ কিছুটা হলেও বাড়বে। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ বিতরণ কার্যক্রম সংকুচিত হবে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের বিদেশি মুদ্রায় ঋণ গ্রহণ সংকুচিত হয়ে পড়বে। সার্বিকভাবে অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, সাময়িকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ পদক্ষেপ নিয়েছে। বাজারে ডলারের প্রবাহ বাড়লে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে বিবেচনা করবে।

অফশোর ব্যাংকিংয়ের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা বিদেশ থেকে বিদেশি মুদ্রায় আমানত সংগ্রহ করবে। সেসব তহবিল তারা বিদেশে অর্থাৎ দেশের ইপিজেড বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ দেবে। অফশোর ব্যাংকিংয়ের নেতিবাচক কোনো প্রভাব মূল ব্যাংকিংয়ে পড়বে না। কিন্তু লাভ হলে তা মূল ব্যাংকের সঙ্গে যোগ হবে। কিন্তু দেশের অফশোর ব্যাংকগুলো বিদেশ থেকে চাহিদা অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রায় আমানত সংগ্রহ করতে পারছিল না। যে কারণে তাদের মূল ব্যাংক থেকে ডলার স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু এখন ডলার সংকটের কারণে মূল ব্যাংক থেকে ডলার স্থানান্তর বন্ধ করতে হয়েছে।

সূত্র জানায়, দেশের অনেক ব্যাংকেরই আলাদা অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট রয়েছে। ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়ে যখন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে তখন মূল ব্যাংক থেকে অফশোর ব্যাংকিংয়ে ডলার স্থানান্তরের সুযোগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই সময়ে ব্যাংকের নগদ মূলধনের ২০ শতাংশ তহবিল অফশোর ব্যাংকিংয়ে স্থানান্তরের সুযোগ দেয়। ২০২০ সালে তহবিল স্থানান্তরের হার আরও বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করে। অর্থাৎ কোনো ব্যাংক তাদের মূল ইউনিট থেকে নগদ মূলধনের ৩০ শতাংশ তহবিল অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে স্থানান্তর করতে পেরেছে। এসব তহবিল বৈদেশিক মুদ্রা বা স্থানীয় মুদ্রায় স্থানান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় মুদ্রায় স্থানান্তর করা তহবিল দিয়ে অফশোর ইউনিট আবার বৈদেশিক মুদ্রা কিনেছে। সেগুলো ঋণ হিসাবে বিতরণ করবে। অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে চাপ বেড়েছে। ওই সময়ে সরকারের সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগের নীতিমালাও করে। এর আলোকে একটি প্রকল্পে রিজার্ভ থেকে অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে।

বর্তমানে ডলার সংকট প্রকট আকার ধারণ করার কারণে তহবিল স্থানান্তর বন্ধ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাচ্ছে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট স্থানীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভর না করে তারা স্বনির্ভর হোক। তারা স্বনির্ভর হলে বিদেশ থেকে ডলার সংগ্রহ বেশি করবে। তখন বাজারে ডলারের প্রবাহ বাড়বে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর অর্জিত ডলারের ওপর চাপ কমবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মূলত ডলার সংকট নিরসন ও বাজারে ডলারের প্রবাহ বাড়ানোর জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ডলার সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিলো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেট সময় : ০৯:৫০:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৪

ডলার সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক তাদের নিজস্ব অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে (বৈদেশিক মুদ্রায় বিদেশ থেকে আমানত সংগ্রহ করে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ বিতরণের জন্য গঠিত আলাদা ইউনিট) কোনো ডলার বা তহবিল স্থানান্তর করতে পারবে না।

ব্যাংক থেকে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে ইতিপূর্বে স্থানান্তর করা তহবিল পর্যায়ক্রমে মূল ব্যাংকে ফিরিয়ে আনতে হবে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে স্থানান্তর করা সমুদয় তহবিল ফিরিয়ে আনতে হবে।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, মূলত ডলার সংকট নিরসন ও বাজারে ডলারের প্রবাহ বাড়ানোর জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোর মূল ব্যাংকিং ইউনিট থেকে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে ডলার স্থানান্তর করা বন্ধ হবে। এতে বাজারে ডলারের প্রবাহ কিছুটা হলেও বাড়বে। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ বিতরণ কার্যক্রম সংকুচিত হবে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের বিদেশি মুদ্রায় ঋণ গ্রহণ সংকুচিত হয়ে পড়বে। সার্বিকভাবে অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, সাময়িকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ পদক্ষেপ নিয়েছে। বাজারে ডলারের প্রবাহ বাড়লে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে বিবেচনা করবে।

অফশোর ব্যাংকিংয়ের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা বিদেশ থেকে বিদেশি মুদ্রায় আমানত সংগ্রহ করবে। সেসব তহবিল তারা বিদেশে অর্থাৎ দেশের ইপিজেড বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ দেবে। অফশোর ব্যাংকিংয়ের নেতিবাচক কোনো প্রভাব মূল ব্যাংকিংয়ে পড়বে না। কিন্তু লাভ হলে তা মূল ব্যাংকের সঙ্গে যোগ হবে। কিন্তু দেশের অফশোর ব্যাংকগুলো বিদেশ থেকে চাহিদা অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রায় আমানত সংগ্রহ করতে পারছিল না। যে কারণে তাদের মূল ব্যাংক থেকে ডলার স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু এখন ডলার সংকটের কারণে মূল ব্যাংক থেকে ডলার স্থানান্তর বন্ধ করতে হয়েছে।

সূত্র জানায়, দেশের অনেক ব্যাংকেরই আলাদা অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট রয়েছে। ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়ে যখন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে তখন মূল ব্যাংক থেকে অফশোর ব্যাংকিংয়ে ডলার স্থানান্তরের সুযোগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই সময়ে ব্যাংকের নগদ মূলধনের ২০ শতাংশ তহবিল অফশোর ব্যাংকিংয়ে স্থানান্তরের সুযোগ দেয়। ২০২০ সালে তহবিল স্থানান্তরের হার আরও বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করে। অর্থাৎ কোনো ব্যাংক তাদের মূল ইউনিট থেকে নগদ মূলধনের ৩০ শতাংশ তহবিল অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে স্থানান্তর করতে পেরেছে। এসব তহবিল বৈদেশিক মুদ্রা বা স্থানীয় মুদ্রায় স্থানান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় মুদ্রায় স্থানান্তর করা তহবিল দিয়ে অফশোর ইউনিট আবার বৈদেশিক মুদ্রা কিনেছে। সেগুলো ঋণ হিসাবে বিতরণ করবে। অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে চাপ বেড়েছে। ওই সময়ে সরকারের সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগের নীতিমালাও করে। এর আলোকে একটি প্রকল্পে রিজার্ভ থেকে অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে।

বর্তমানে ডলার সংকট প্রকট আকার ধারণ করার কারণে তহবিল স্থানান্তর বন্ধ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাচ্ছে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট স্থানীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভর না করে তারা স্বনির্ভর হোক। তারা স্বনির্ভর হলে বিদেশ থেকে ডলার সংগ্রহ বেশি করবে। তখন বাজারে ডলারের প্রবাহ বাড়বে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর অর্জিত ডলারের ওপর চাপ কমবে।