ঢাকা ০৬:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মেলান্দহে ট্রাক ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে সাত বৎসরের এক শিশু নিহত সিলেটে ডিবি পুলিশের অভিযানে জুয়া খেলার সামগ্রীসহ ১০ জন জুয়ারী গ্রেফতার সিলেটে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ১ জন আটক লালাবাজার বিদ্যালয় ও কলেজের ‘রূপকল্প ২০৩০’ প্রণয়নে সুধীজনের মতবিনিময় সিলেটের আখালিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু: স্বজনদের আহাজারি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে সিলেটের দুরুদ মিয়া রনেল সিলেট জেলা ছাত্রলীগ ও সদর উপজেলা ছাত্রলীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সেনাবাহিনীর একটি ইউনিটের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ! সিলেটে ডিবির অভিযানে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত ৯ জন গ্রেফতার সিলেটে আর্মড পুলিশের অভিযানে ২টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ ১জন আটক

ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলার মিথ্যা গল্প সাজিয়েছেন ছোঁয়া- সংবাদ সম্মেলনে ডা. টিটু মিয়া

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:৪০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ১৬২ বার পড়া হয়েছে
Spread the love

২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ তুলে আলোচনায় আসা পরীক্ষার্থী হুমাইরা ইসলাম ছোঁয়ার ডাক্তার হওয়ার জন্য পারিবারিক চাপ ছিল। আর এ কারণেই তিনি ভর্তি পরীক্ষায় ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলার গল্প মঞ্চস্থ করেছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের তদন্ত কমিটি। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষা চলাকালীন ওই ছাত্রীর ওএমআর শিট ছেঁড়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওই ছাত্রীর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। একই সঙ্গে ভর্তির সুযোগ লাভের আশায় ওই ছাত্রী এই মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক গল্প সাজিয়েছেন।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. টিটু মিয়া এ প্রতিবেদন উত্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সকল তথ্য উপাত্ত সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটি জানায়, অভিযোগকারী হুমাইরা ইসলাম ছোঁয়া ও তার বাবা-মায়ের প্রদত্ত সাক্ষ্য বিবরণী পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয় যে, শুরু থেকেই তার উপর পরিবার ও সমাজের ডাক্তার হওয়ার প্রত্যাশার চাপ ছিল। এমনকি এর আগের বছর এই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাশ করেননি। এছাড়া এই বছরও পাশ করেনি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. টিটু মিয়া বলেন, সব সাক্ষ্য পর্যালোচনা ও প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তদন্ত কমিটি নিশ্চিত হয় যে, অভিযোগকারীর সব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও (টেস্ট স্কোর ২৭.২৫) বাবা-মায়ের পরামর্শে মিথ্যা বলে।

তিনি বলেন, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে আরও ভালো রেজাল্ট/স্কোর করে সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির মিথ্যা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন হুমাইরা। কিন্তু বাস্তবে পরীক্ষায় ৫৭টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাবে না নিশ্চিত জেনে তার ব্যর্থতার দায় হল পরিদর্শকের উপর চাপিয়ে দেন। একই সঙ্গে ভর্তির সুযোগ লাভের আশায় এই মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক গল্প সাজিয়েছেন।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আরও বলেন, বর্তমান সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মহোদয়ের সঠিক দিক নির্দেশনায় বিগত বছরসমূহের ধারাবাহিকতায় সবার আন্তরিকতা ও ঐক্লান্তিক প্রচেষ্টায় একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর পরীক্ষা পদ্ধতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াসে তৃতীয় কোনো পক্ষের চক্রান্তে পরিণত হয়েছেন কি না, তা উন্মোচনের সুপারিশ করা হলো।

পরিবারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাবা-মায়ের উচিত তাদের সন্তানদের এ ধরনের প্রেশার না দেওয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর অভিযোগ অনুযায়ী রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র (শেখ কামাল ভবন, অষ্টম তলা) আমাদের তদন্ত কমিটি পরিদর্শন করেছে। তারা শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছে। সবমিলিয়ে আমরা জানতে পেরেছি, পরীক্ষার দিন ওএমআর শিট ছেঁড়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওই ছাত্রীর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার সময় পরীক্ষাকেন্দ্রের একজন পর্যবেক্ষক ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ করেন হুমাইরা ইসলাম ছোঁয়া নামের এক পরীক্ষার্থী। এ অভিযোগ বিষয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি তদন্তকাজ পরিচালনা করে গঠিত কমিটি। 

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক কাজী আফজালুর রহমান কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। কমিটির অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের থোরাসিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আলম ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. কামাল হোসেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলার মিথ্যা গল্প সাজিয়েছেন ছোঁয়া- সংবাদ সম্মেলনে ডা. টিটু মিয়া

আপডেট সময় : ০৮:৪০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
Spread the love

২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ তুলে আলোচনায় আসা পরীক্ষার্থী হুমাইরা ইসলাম ছোঁয়ার ডাক্তার হওয়ার জন্য পারিবারিক চাপ ছিল। আর এ কারণেই তিনি ভর্তি পরীক্ষায় ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলার গল্প মঞ্চস্থ করেছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের তদন্ত কমিটি। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষা চলাকালীন ওই ছাত্রীর ওএমআর শিট ছেঁড়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওই ছাত্রীর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। একই সঙ্গে ভর্তির সুযোগ লাভের আশায় ওই ছাত্রী এই মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক গল্প সাজিয়েছেন।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. টিটু মিয়া এ প্রতিবেদন উত্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সকল তথ্য উপাত্ত সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটি জানায়, অভিযোগকারী হুমাইরা ইসলাম ছোঁয়া ও তার বাবা-মায়ের প্রদত্ত সাক্ষ্য বিবরণী পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয় যে, শুরু থেকেই তার উপর পরিবার ও সমাজের ডাক্তার হওয়ার প্রত্যাশার চাপ ছিল। এমনকি এর আগের বছর এই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাশ করেননি। এছাড়া এই বছরও পাশ করেনি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. টিটু মিয়া বলেন, সব সাক্ষ্য পর্যালোচনা ও প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তদন্ত কমিটি নিশ্চিত হয় যে, অভিযোগকারীর সব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও (টেস্ট স্কোর ২৭.২৫) বাবা-মায়ের পরামর্শে মিথ্যা বলে।

তিনি বলেন, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে আরও ভালো রেজাল্ট/স্কোর করে সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির মিথ্যা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন হুমাইরা। কিন্তু বাস্তবে পরীক্ষায় ৫৭টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাবে না নিশ্চিত জেনে তার ব্যর্থতার দায় হল পরিদর্শকের উপর চাপিয়ে দেন। একই সঙ্গে ভর্তির সুযোগ লাভের আশায় এই মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক গল্প সাজিয়েছেন।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আরও বলেন, বর্তমান সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মহোদয়ের সঠিক দিক নির্দেশনায় বিগত বছরসমূহের ধারাবাহিকতায় সবার আন্তরিকতা ও ঐক্লান্তিক প্রচেষ্টায় একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর পরীক্ষা পদ্ধতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াসে তৃতীয় কোনো পক্ষের চক্রান্তে পরিণত হয়েছেন কি না, তা উন্মোচনের সুপারিশ করা হলো।

পরিবারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাবা-মায়ের উচিত তাদের সন্তানদের এ ধরনের প্রেশার না দেওয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর অভিযোগ অনুযায়ী রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র (শেখ কামাল ভবন, অষ্টম তলা) আমাদের তদন্ত কমিটি পরিদর্শন করেছে। তারা শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছে। সবমিলিয়ে আমরা জানতে পেরেছি, পরীক্ষার দিন ওএমআর শিট ছেঁড়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওই ছাত্রীর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার সময় পরীক্ষাকেন্দ্রের একজন পর্যবেক্ষক ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ করেন হুমাইরা ইসলাম ছোঁয়া নামের এক পরীক্ষার্থী। এ অভিযোগ বিষয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি তদন্তকাজ পরিচালনা করে গঠিত কমিটি। 

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক কাজী আফজালুর রহমান কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। কমিটির অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের থোরাসিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আলম ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. কামাল হোসেন।