ঢাকা ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ত্রাণের অভাব হবে না, সাহস নিয়ে দূর্যোগ মোকাবেলা করুন: দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিবুল ইসলাম সিলেটে মুক্তিপণ না পেয়ে ছাদ থেকে ফেলে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ ডাঃ জোবাইদা রহমানের জন্মদিনে সিলেটে বন্যার্তদের মাঝে খাবার বিতরণ সিলেটের বন্যা প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে: মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী পাওয়ার নিউজ বিডি’র উপদেষ্টা যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো: আব্দুল গনি’র ঈদ শুভেচ্ছা বিএনপিতে রদবদল; সিলেট বিভাগে দায়িত্ব পেলেন জি কে গৌছ ও মিফতাহ্ সিদ্দিকী বাবার বিচার চেয়ে ডরিনের পাশে থাকা সাইদুল করিম মিন্টুই এমপি আনার হত্যায় গ্রেফতার ! সিলেটে আর্মড পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার ‘ছাদ থেকে পড়ে’ ভাইরাল সেই শিশু হজযাত্রীর মৃত্যু ! ১ লাখ ১ টাকা কাবিনে শ্রীলঙ্কান তরুণীকে বিয়ে করলেন দুবাই প্রবাসী ফটিকছড়ির মোরশেদ

‘বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের বিশ্বনাগরিক হওয়ার বিকল্প নেই’-অধ্যাপক ড. ফারজানা সিদ্দিকা

উইমেন্স মডেল কলেজে মেডিকেল-বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সপ্রাপ্ত ও এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী সংবর্ধনা

আহমদ নাহিদ
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সদ্য-সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ফারজানা সিদ্দিকা বলেন, মানবীয় দক্ষতা ও মূল্যবোধ অর্জনের একটি প্রক্রিয়া হলো শিক্ষা। শিক্ষা শুধু একাডেমিক সনদ বা চাকরি প্রাপ্তির উপায় নয় বরং শিক্ষার্থীদের জীবন দক্ষতা অর্জনের শ্রেষ্ঠ পথ। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীকে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি জাতীয় ও অন্তর্জাতিক সকল বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বনাগরিক হিসাবে গড়ে উঠতে হবে।

তিনি গতকাল ২২ মে, বুধবার, সিলেটের পূর্ব শাহী ঈদগাস্থ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে উইমেন্স মডেল কলেজ কর্তৃক আয়োজিত মেডিকেল-বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সপ্রাপ্ত WMC’র শিক্ষার্থী ও এসএসসি উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রী সংবর্ধনা এবং ইএসডি ফাউন্ডেশন অপরাজিতা মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপর্যুক্ত কথাগুলো বলেন।

তিনি মেয়েদেরকে সমাজের জন্য ক্ষতিকর কুসংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিতে উৎসাহিত করেন। তিনি ধারকর্জ করে সিলেটে মেয়ের বিয়েতে ফার্নিচার প্রদান, রমজান মাসে ইফতার, জৈষ্ঠ্য মাসে আম-কাঁঠাল প্রথার সমালোচনা করে বলেন, এসবের কারণে অনেক বাবা-মাই ঋণগ্রস্ত হন, বিপদের সম্মুখীন হন। আমাদের মেয়েদেরকে এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে। নিজের সার্টিফিকেটকেই নিজের সম্পদ বানাতে হবে। নিজেকে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও মানবিক মানুষ করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, আমাদের মেয়েদেরকেও এভাবে সচেতন হতে হবে।    

অধ্যাপক ড. ফারজানা সিদ্দিকা আরও বলেন, ইএসডি ফাউন্ডেশন ও উইমেন্স মডেল কলেজ-এর আবাসিক ব্যবস্থা আছে জেনে আমার ২০০১ সালের চাকরিজীবনের প্রথম দিকের স্মৃতিগুলো মনে পড়ল। আসলে মফস্বলের শিক্ষার্থীদের− বিশেষ করে মেয়েদের− নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা ছাড়া নারীশিক্ষা অগ্রগতি রীতিমতো অসম্ভব। এক্ষেত্রে ‘অপরাজিতা’ নামক উইমেন্স মডেল কলেজের ছাত্রীহোস্টেল একটি প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।

 অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক উইমেন্স মডেল কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াদুদ তাপাদার তাঁর বক্তব্যে বলেন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি- এ দুটি বছর শিক্ষাজীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। অভিভাবকগণ যদি এ দু’বছর তাদের সন্তানদের সময় দেন, সঠিক কলেজ নির্বাচন এবং আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা করেন তাহলে দু’বছর পর তাদের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, উচ্চমাধ্যমিকে কাঙ্খিত ফলাফল অর্জনে নিয়মিত ক্লাস করা, পাঠ্যবইয়ের প্রতি আগ্রহী থাকা এবং শিক্ষকের দিকনির্দেশনা মানার কোন বিকল্প নেই। ইএসডি ফাউন্ডেশন অপরাজিতা মেধা-অন্বেষণ প্রতিযোগিতা নামক সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননকে বিকশিত করার চেষ্টা করছি। আপনাদের শুভকামনা ও সহযোগিতা আমাদেরকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়ার পাথেয় হবে বলে আমার বিশ্বাস।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক প্রণব কান্তি দেব বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে নারীদের প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানের কোনো বিকল্প নেই। এটা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য বা চাওয়া নয় বরং দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত জরুরি। নারীর সমৃদ্ধি মানেই আমাদের সামাজিক ও জাতীয় জীবনের উন্নতি। এভাবেই আমরা দেশ ও জাতির সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ বয়ে আনতে পারব। উইমেন্স মডেল কলেজের সহযোগিতায় ইএসডি ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত এই ‘অপরাজিতা’ নামক মেধাবৃত্তির উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এই ব্যতিক্রমী কার্যক্রমের উত্তরোত্তর উৎকর্ষ হোক– এই কামনা করি।

অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাশেদ আহমদ, কিশোরী মোহন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফয়জুল আনওয়ার আলাওর এবং বাংলাদেশ ব্যাংক হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল হাসেম, স্বাগত বক্তব্য রাখেন WMC-স্কুল শাখার কো-অর্ডিনেটর ও সিনিয়র শিক্ষক শিল্পী বিশ্বাস। 

উইমেন্স মডেল কলেজের ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক স্নিগ্ধা চক্রবর্তী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হেলাল হামাম ও বাংলা বিভাগের প্রভাষক তৌফিক রাসেলের সঞ্চালনায় এবং ইএসডি ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান মনসুর আহমদ লস্করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন স্কুল শাখার সহকারী শিক্ষক মামুনুর রশীদ এবং গীতা পাঠ করেন প্রভাষক অনিতোষ দাস।  

দু’পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানটির প্রথম পর্বে আলোচনা সভা এবং মেডিকেল-বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সপ্রাপ্ত WMC এর কৃতী ছাত্রীদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ও সেরা দশ অপরাজিতার পুরস্কার তোলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি অপরাজিতা মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া সকল শিক্ষার্থীর হাতে প্রশংসাপত্র তোলে দেয়া হয়।

সেরা দশ অপরাজিতার মধ্যে প্রথম পুরস্কার হিসাবে ছিলো একটি কম্পিউটার, দ্বিতীয় একটি ট্যাব, তৃতীয় একটি অণুবীক্ষণ যন্ত্র এবং চতুর্থ থেকে দশম পুরস্কার হিসেবে ছিলো আকর্ষণীয় শিক্ষাসামগ্রী ও ক্রেস্ট। 

দ্বিতীয় পর্বে সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত প্রায় পাঁচ শতাধিক এসএসসি উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে সংবর্ধনাস্বরূপ ক্রেস্ট তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, সভাপতি এবং অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে অভিভাবক ও সংবর্ধিত ছাত্রীদের আপ্যায়ন করানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

‘বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের বিশ্বনাগরিক হওয়ার বিকল্প নেই’-অধ্যাপক ড. ফারজানা সিদ্দিকা

উইমেন্স মডেল কলেজে মেডিকেল-বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সপ্রাপ্ত ও এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী সংবর্ধনা

আপডেট সময় : ০৩:৫২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সদ্য-সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ফারজানা সিদ্দিকা বলেন, মানবীয় দক্ষতা ও মূল্যবোধ অর্জনের একটি প্রক্রিয়া হলো শিক্ষা। শিক্ষা শুধু একাডেমিক সনদ বা চাকরি প্রাপ্তির উপায় নয় বরং শিক্ষার্থীদের জীবন দক্ষতা অর্জনের শ্রেষ্ঠ পথ। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীকে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি জাতীয় ও অন্তর্জাতিক সকল বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বনাগরিক হিসাবে গড়ে উঠতে হবে।

তিনি গতকাল ২২ মে, বুধবার, সিলেটের পূর্ব শাহী ঈদগাস্থ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে উইমেন্স মডেল কলেজ কর্তৃক আয়োজিত মেডিকেল-বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সপ্রাপ্ত WMC’র শিক্ষার্থী ও এসএসসি উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রী সংবর্ধনা এবং ইএসডি ফাউন্ডেশন অপরাজিতা মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপর্যুক্ত কথাগুলো বলেন।

তিনি মেয়েদেরকে সমাজের জন্য ক্ষতিকর কুসংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিতে উৎসাহিত করেন। তিনি ধারকর্জ করে সিলেটে মেয়ের বিয়েতে ফার্নিচার প্রদান, রমজান মাসে ইফতার, জৈষ্ঠ্য মাসে আম-কাঁঠাল প্রথার সমালোচনা করে বলেন, এসবের কারণে অনেক বাবা-মাই ঋণগ্রস্ত হন, বিপদের সম্মুখীন হন। আমাদের মেয়েদেরকে এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে। নিজের সার্টিফিকেটকেই নিজের সম্পদ বানাতে হবে। নিজেকে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও মানবিক মানুষ করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, আমাদের মেয়েদেরকেও এভাবে সচেতন হতে হবে।    

অধ্যাপক ড. ফারজানা সিদ্দিকা আরও বলেন, ইএসডি ফাউন্ডেশন ও উইমেন্স মডেল কলেজ-এর আবাসিক ব্যবস্থা আছে জেনে আমার ২০০১ সালের চাকরিজীবনের প্রথম দিকের স্মৃতিগুলো মনে পড়ল। আসলে মফস্বলের শিক্ষার্থীদের− বিশেষ করে মেয়েদের− নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা ছাড়া নারীশিক্ষা অগ্রগতি রীতিমতো অসম্ভব। এক্ষেত্রে ‘অপরাজিতা’ নামক উইমেন্স মডেল কলেজের ছাত্রীহোস্টেল একটি প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।

 অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক উইমেন্স মডেল কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াদুদ তাপাদার তাঁর বক্তব্যে বলেন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি- এ দুটি বছর শিক্ষাজীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। অভিভাবকগণ যদি এ দু’বছর তাদের সন্তানদের সময় দেন, সঠিক কলেজ নির্বাচন এবং আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা করেন তাহলে দু’বছর পর তাদের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, উচ্চমাধ্যমিকে কাঙ্খিত ফলাফল অর্জনে নিয়মিত ক্লাস করা, পাঠ্যবইয়ের প্রতি আগ্রহী থাকা এবং শিক্ষকের দিকনির্দেশনা মানার কোন বিকল্প নেই। ইএসডি ফাউন্ডেশন অপরাজিতা মেধা-অন্বেষণ প্রতিযোগিতা নামক সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননকে বিকশিত করার চেষ্টা করছি। আপনাদের শুভকামনা ও সহযোগিতা আমাদেরকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়ার পাথেয় হবে বলে আমার বিশ্বাস।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক প্রণব কান্তি দেব বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে নারীদের প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানের কোনো বিকল্প নেই। এটা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য বা চাওয়া নয় বরং দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত জরুরি। নারীর সমৃদ্ধি মানেই আমাদের সামাজিক ও জাতীয় জীবনের উন্নতি। এভাবেই আমরা দেশ ও জাতির সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ বয়ে আনতে পারব। উইমেন্স মডেল কলেজের সহযোগিতায় ইএসডি ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত এই ‘অপরাজিতা’ নামক মেধাবৃত্তির উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এই ব্যতিক্রমী কার্যক্রমের উত্তরোত্তর উৎকর্ষ হোক– এই কামনা করি।

অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাশেদ আহমদ, কিশোরী মোহন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফয়জুল আনওয়ার আলাওর এবং বাংলাদেশ ব্যাংক হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল হাসেম, স্বাগত বক্তব্য রাখেন WMC-স্কুল শাখার কো-অর্ডিনেটর ও সিনিয়র শিক্ষক শিল্পী বিশ্বাস। 

উইমেন্স মডেল কলেজের ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক স্নিগ্ধা চক্রবর্তী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হেলাল হামাম ও বাংলা বিভাগের প্রভাষক তৌফিক রাসেলের সঞ্চালনায় এবং ইএসডি ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান মনসুর আহমদ লস্করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন স্কুল শাখার সহকারী শিক্ষক মামুনুর রশীদ এবং গীতা পাঠ করেন প্রভাষক অনিতোষ দাস।  

দু’পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানটির প্রথম পর্বে আলোচনা সভা এবং মেডিকেল-বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সপ্রাপ্ত WMC এর কৃতী ছাত্রীদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ও সেরা দশ অপরাজিতার পুরস্কার তোলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি অপরাজিতা মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া সকল শিক্ষার্থীর হাতে প্রশংসাপত্র তোলে দেয়া হয়।

সেরা দশ অপরাজিতার মধ্যে প্রথম পুরস্কার হিসাবে ছিলো একটি কম্পিউটার, দ্বিতীয় একটি ট্যাব, তৃতীয় একটি অণুবীক্ষণ যন্ত্র এবং চতুর্থ থেকে দশম পুরস্কার হিসেবে ছিলো আকর্ষণীয় শিক্ষাসামগ্রী ও ক্রেস্ট। 

দ্বিতীয় পর্বে সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত প্রায় পাঁচ শতাধিক এসএসসি উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে সংবর্ধনাস্বরূপ ক্রেস্ট তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, সভাপতি এবং অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে অভিভাবক ও সংবর্ধিত ছাত্রীদের আপ্যায়ন করানো হয়।