ঢাকা ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের সঙ্গে গুগলের চুক্তি, বিরোধিতা করায় ২৮ কর্মী চাকরিচ্যুত !

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৭:২৪:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪ ২৪ বার পড়া হয়েছে
Spread the love

ইসরায়েল সরকারের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন টেক জায়ান্ট গুগলের কিছু সংখ্যক কর্মী। এমনকি স্বাক্ষরিত সেই চুক্তি বাতিলের দাবিলের জন্য বিক্ষোভও করেছিলেন তারা।

আর এই কারণেই গুগল তার ২৮ জন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, ইসরায়েলি সংস্থার সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদ জানানোর কারণে ২৮ জন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে অ্যালফাবেট ইনক-এর গুগল। ইসরায়েলকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ক্লাউড সার্ভিস পরিষেবার জন্য অ্যামাজন-এর সঙ্গে যৌথভাবে ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই চুক্তির বিরোধিতা করে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন গুগলের ওই ২৮ কর্মী। আর এতেই কাল হয়েছে তাদের।

মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহর, সিয়াটেল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সানিভেলে যৌথভাবে ‘নো টেক ফর অ্যাপারথেড অর্গানাইজেশন’ নাম দিয়ে এই বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়। এজন্য গুগল তাদের ২৮ জন কর্মীকে ছাটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।

ওইদিন বিক্ষুব্ধরা প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে এই চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি পালনসহ বিক্ষোভ করেন এবং পুরো বিক্ষোভের সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ওই ঘটনার পর বিক্ষোভে জড়িত ৯ জনকে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ এনে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই ঘটনার পরেই বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত কর্মীদের গুগলের পক্ষ থেকে নোটিশ পাঠানো হয়। এমনকি যারা আন্দোলনের সমর্থক, কিন্তু সরাসরি অবস্থান বিক্ষোভে অংশ নেননি তাদের কাছেও নোটিশ যায় সংস্থার এমপ্লয়ী রিলেশনশ গ্রুপের পক্ষ থেকে। তাদের সকলকেই ছুটিতে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ব্লুমবার্গ দেখেছে এমন একটি ইমেইলে গুগল ভুক্তভোগী ওই কর্মীদের বলেছে, তারা ‘এই বিষয়টি যতটা সম্ভব গোপনীয় রাখছে, শুধুমাত্র জানার প্রয়োজনের ভিত্তিতে তথ্য প্রকাশ করছে’। এরপর গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এই কর্মীরা জানতে পারেন সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে।

গুগলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক অভ্যন্তরীণ বিবৃতিতে কর্মীদের জানানো হয়েছে, আমাদের সংস্থায় এই ধরনের বিক্ষোভের কোনও জায়গা নেই এবং আমরা এই ধরনের ঘটনা কখনওই বরদাস্ত করবো না।

ওই বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, সংস্থা এই বিক্ষোভকে খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং খুব স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে এই ধরনের ঘটনা আবার ঘটলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা ছাঁটাই পর্যন্ত যেতে পারে।

বিক্ষোভকারীদের সম্পর্কে এক বিবৃতিতে গুগল জানিয়েছে, শারীরিকভাবে অন্য কর্মীদের কাজে বাধাদান আমাদের নীতির বিরোধী এবং এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এই কর্মীদের বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা অফিসের অঞ্চল ছেড়ে যেতে রাজি না হওয়ায় অফিসের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের অফিসের বাইরে বের করে দেওয়া হয়। আমরা আপাতত ২৮ জন কর্মীকে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বরখাস্ত করেছি এবং পরবর্তী পর্যায়ে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনে পরবর্তী ব্যবস্থা হিসেবে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে জানিয়েছে গুগল।

বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ছাঁটাই হওয়া এক কর্মী জানিয়েছেন, গুগল কর্মীদের ছাঁটাই করলেও ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলন ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে। যা খুবই উদ্বেগজনক। মঙ্গলবারের অবস্থান কর্মসূচির পর সময় যতো গড়াচ্ছে আরও বাড়ছে। সময় যতো গড়াচ্ছে আন্দোলন ও বিক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে। গুগলের সিদ্ধান্ত ভুল বলে প্রতিয়মান হচ্ছে। কর্মীরা আগে থেকেই আঁচ করেছে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হবে। তারপরও আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপও এখানে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর সমাধান এখনই না করলে যুক্তরাষ্ট্রের আগামী নির্বাচনে এর ব্যাপক প্রভাব পরবে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জন্যও এটা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ।

এদিকে নো টেক ফর অ্যাপারথেড অর্গানাইজেশন-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুগলের কর্মীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানোর অধিকার আছে। গুগলের এই ছাঁটাই আসলে প্রতিহিংসামূলক। এটা কখনওই মেনে নেয়া যায়না। এটা একধরনের মানবাধিকার লংঘনের সামিল।

অবশ্য গুগলে আন্দোলন করে ছাঁটাই এই বারই প্রথম নয়। এর আগেও হয়েছিল। ২০১৮ সালেও এক যৌন হয়রানির ঘটনায় প্রতিবাদ জানানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু কর্মীর ওপর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিল গুগল। সেসময়ও ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছিল গুগলকে।

এখানে উল্লেখ্য করা প্রয়োজন, ‘প্রজেক্ট নিম্বাস’ নামের এই প্রজেক্ট হচ্ছে গুগল ও অ্যামাজনের সঙ্গে ইসরায়েল সরকারের ১.২ বিলিয়ন বা ১২০ কোটি ডলারের বিতর্কিত একটি চুক্তি। যার মাধ্যমে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরকে প্রতিষ্ঠান দুটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্লাউড সেবা প্রযুক্তি সরবরাহ করবে। এরমাধ্যমে ইসরাইল সরকারের সামরিক খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইসরায়েলের সঙ্গে গুগলের চুক্তি, বিরোধিতা করায় ২৮ কর্মী চাকরিচ্যুত !

আপডেট সময় : ০৭:২৪:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪
Spread the love

ইসরায়েল সরকারের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন টেক জায়ান্ট গুগলের কিছু সংখ্যক কর্মী। এমনকি স্বাক্ষরিত সেই চুক্তি বাতিলের দাবিলের জন্য বিক্ষোভও করেছিলেন তারা।

আর এই কারণেই গুগল তার ২৮ জন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, ইসরায়েলি সংস্থার সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদ জানানোর কারণে ২৮ জন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে অ্যালফাবেট ইনক-এর গুগল। ইসরায়েলকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ক্লাউড সার্ভিস পরিষেবার জন্য অ্যামাজন-এর সঙ্গে যৌথভাবে ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই চুক্তির বিরোধিতা করে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন গুগলের ওই ২৮ কর্মী। আর এতেই কাল হয়েছে তাদের।

মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহর, সিয়াটেল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সানিভেলে যৌথভাবে ‘নো টেক ফর অ্যাপারথেড অর্গানাইজেশন’ নাম দিয়ে এই বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়। এজন্য গুগল তাদের ২৮ জন কর্মীকে ছাটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।

ওইদিন বিক্ষুব্ধরা প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে এই চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি পালনসহ বিক্ষোভ করেন এবং পুরো বিক্ষোভের সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ওই ঘটনার পর বিক্ষোভে জড়িত ৯ জনকে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ এনে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই ঘটনার পরেই বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত কর্মীদের গুগলের পক্ষ থেকে নোটিশ পাঠানো হয়। এমনকি যারা আন্দোলনের সমর্থক, কিন্তু সরাসরি অবস্থান বিক্ষোভে অংশ নেননি তাদের কাছেও নোটিশ যায় সংস্থার এমপ্লয়ী রিলেশনশ গ্রুপের পক্ষ থেকে। তাদের সকলকেই ছুটিতে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ব্লুমবার্গ দেখেছে এমন একটি ইমেইলে গুগল ভুক্তভোগী ওই কর্মীদের বলেছে, তারা ‘এই বিষয়টি যতটা সম্ভব গোপনীয় রাখছে, শুধুমাত্র জানার প্রয়োজনের ভিত্তিতে তথ্য প্রকাশ করছে’। এরপর গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এই কর্মীরা জানতে পারেন সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে।

গুগলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক অভ্যন্তরীণ বিবৃতিতে কর্মীদের জানানো হয়েছে, আমাদের সংস্থায় এই ধরনের বিক্ষোভের কোনও জায়গা নেই এবং আমরা এই ধরনের ঘটনা কখনওই বরদাস্ত করবো না।

ওই বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, সংস্থা এই বিক্ষোভকে খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং খুব স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে এই ধরনের ঘটনা আবার ঘটলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা ছাঁটাই পর্যন্ত যেতে পারে।

বিক্ষোভকারীদের সম্পর্কে এক বিবৃতিতে গুগল জানিয়েছে, শারীরিকভাবে অন্য কর্মীদের কাজে বাধাদান আমাদের নীতির বিরোধী এবং এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এই কর্মীদের বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা অফিসের অঞ্চল ছেড়ে যেতে রাজি না হওয়ায় অফিসের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের অফিসের বাইরে বের করে দেওয়া হয়। আমরা আপাতত ২৮ জন কর্মীকে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বরখাস্ত করেছি এবং পরবর্তী পর্যায়ে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনে পরবর্তী ব্যবস্থা হিসেবে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে জানিয়েছে গুগল।

বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ছাঁটাই হওয়া এক কর্মী জানিয়েছেন, গুগল কর্মীদের ছাঁটাই করলেও ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলন ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে। যা খুবই উদ্বেগজনক। মঙ্গলবারের অবস্থান কর্মসূচির পর সময় যতো গড়াচ্ছে আরও বাড়ছে। সময় যতো গড়াচ্ছে আন্দোলন ও বিক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে। গুগলের সিদ্ধান্ত ভুল বলে প্রতিয়মান হচ্ছে। কর্মীরা আগে থেকেই আঁচ করেছে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হবে। তারপরও আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপও এখানে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর সমাধান এখনই না করলে যুক্তরাষ্ট্রের আগামী নির্বাচনে এর ব্যাপক প্রভাব পরবে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জন্যও এটা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ।

এদিকে নো টেক ফর অ্যাপারথেড অর্গানাইজেশন-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুগলের কর্মীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানোর অধিকার আছে। গুগলের এই ছাঁটাই আসলে প্রতিহিংসামূলক। এটা কখনওই মেনে নেয়া যায়না। এটা একধরনের মানবাধিকার লংঘনের সামিল।

অবশ্য গুগলে আন্দোলন করে ছাঁটাই এই বারই প্রথম নয়। এর আগেও হয়েছিল। ২০১৮ সালেও এক যৌন হয়রানির ঘটনায় প্রতিবাদ জানানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু কর্মীর ওপর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিল গুগল। সেসময়ও ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছিল গুগলকে।

এখানে উল্লেখ্য করা প্রয়োজন, ‘প্রজেক্ট নিম্বাস’ নামের এই প্রজেক্ট হচ্ছে গুগল ও অ্যামাজনের সঙ্গে ইসরায়েল সরকারের ১.২ বিলিয়ন বা ১২০ কোটি ডলারের বিতর্কিত একটি চুক্তি। যার মাধ্যমে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরকে প্রতিষ্ঠান দুটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্লাউড সেবা প্রযুক্তি সরবরাহ করবে। এরমাধ্যমে ইসরাইল সরকারের সামরিক খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।