No icon

সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি নতুন নেতৃত্বে কে আসছে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা!     

নিউজ ডেস্কঃ

সারা দেশেই বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কমিটি নিয়ে বেশ সরগরম। ইতিমধ্যে সংগঠনের মূল চালিকা শক্তি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদল তাদের কমিটি নিয়ে বেশ চাঙ্গা।

সারা দেশের নেতা-কর্মীদের মাঝে নতুন কমিটি নিয়ে চাঙ্গা মনোভাব বিরাজ করছে। অতিসম্প্রতি ঘোষিত হলো সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদল আহবায়ক কমিটি। দীর্ঘ ১৯ বৎসর পর কমিটি পাওয়ায় যুবদলের নেতৃবৃন্দ বেশ উৎফুল্ল। প্রায় প্রতিদিনই তারা সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন। এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড, থানা গঠনের ব্যাপারে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করছেন। এদিকে স্বেচ্ছাসেবক দলেরও পুর্নাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। সিলেটের জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক কমিটির আত্মপ্রকাশ প্রক্রিয়াধীন।  

আগামী ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারীতে মূল সংগঠন বিএনপির সম্মেলনকে মাথায় রেখে সংগঠনের প্রতিটি মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটির নেতৃত্ব কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠন করতে নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রায় প্রতিদিনই স্কাইপের মাধ্যমে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে সংগঠন গতিশীল করতে ও সার্বিক ভাবে পুর্নগঠনে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। 

এরই ফলশ্রুতিতে ইতিমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ সিলেট জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে সিলেট জেলা বিএনপির নতুন আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ১৯ বছরের পুরনো মেয়াদোত্তীর্ণ সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের কমিটি ভেঙে নতুন আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। যা নিয়ে পক্ষে, বিপক্ষে অবস্থানের কারণে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম নিয়েছে।

সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত হয় বিগত ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারী। কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে জেলা বিএনপি সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন যথাক্রমে আবুল কাহের শামীম, আলী আহমদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। আর মহানগর বিএনপির সভাপতি, সাধারন সম্পাদক সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন যথাক্রমে নাসিম হোসেন, বদরুজ্জামান সেলিম ও মিফতাহ্ সিদ্দিকী। 

জেলা বিএনপি কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ‘৮০’ দশকের ছাত্রদল নেতা তৎকালীন ছাত্রদল সভাপতি কামরুল হুদা জায়গীরদারকে আহবায়ক করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সাথে জেলা অধীনস্থ সকল ইউনিটের সম্মেলন শেষে আগামী ৩ মাসের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করার জন্য জেলার আহবায়ক কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু বিগত ১ বৎসরের ও বেশি সময় ধরে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক বিদেশে অবস্থানের জন্য অধিকতর দুর্বল মেয়াদোত্তীর্ণ মহানগর বিএনপির কমিটি এখনও বহাল রয়েছে। মহানগর বিএনপির নেতা কর্মীদের সাথে আলোচনায় মহানগর বিএনপি কেন্দ্রীক সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটাতে অতি দ্রুত আহবায়ক কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে কাউন্সিল করে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের পক্ষে তারা মত প্রকাশ করেন।

মহানগর আহবায়ক কমিটি এখন পর্যন্ত গঠন করা না হলেও আগামী নেতৃত্বের জন্য ইতিমধ্যে প্রতিযোগিতায় মাঠে কাজ করছেন অনেক নেতা। গঠনতন্ত্র সংশোধন করে সাংগঠনিক সম্পাদক ১ জনের স্থলে ৩ জন করায় এবার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন হবে। সভাপতি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যারা মাঠে রয়েছেন তাদের মধ্যে গত কাউন্সিলে নির্বাচিত সভাপতি নাসিম হোসেন, দেশে না থাকলেও কাউন্সিলকে সামনে রেখে দেশে এসে প্রার্থী হবেন শুনা যাচ্ছে বিগত সিটি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বহিষ্কার হওয়া ও পরবর্তী বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার হওয়া সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকি, সহ-সভাপতি ফরহাদ চৌধুরী শামিম, সহ-সভাপতি সালেহ আহমদ খসরু, হুমায়ুন কবির শাহীন প্রমূখ। আর সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সহ-সভাপতি জিয়াউল গনি আরেফিন জিল্লুর, যুগ্ম সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, রেজাউল হাসান কয়েছ লোদী প্রমুখ প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার কথা শোনা যাচ্ছে। 

দল এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যিনি আহবায়ক হবেন বা যারা আহবায়ক কমিটিতে সিগনেচার পাওয়ার থাকবে তারা পরবর্তী কমিটি গঠনে স্বচ্ছতার জন্য পার্থী হতে পারবেন না। তাই আহবায়ক কমিটিতে অনেকেই সিগনেচার পাওয়ার নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন না। 

মহানগর বিএনপির আহবায়ক হিসেবে নাম শুনা যাচ্ছে চেয়ারপার্সনে উপদেষ্টা এম এ হক, আরেক উপদেষ্টা ও ফরেন এফেয়ার্স কমিটির সদস্য ড. ইনামুল হক চৌধুরী, সিটি মেয়র ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আরিফুল হক, সাবেক আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ডাঃ শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী। আবার একটি অংশ চাচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে এখানে না এনে স্থানীয় নেতাদের মধ্য থেকে কাউকে আহবায়কের দায়িত্ব প্রদান করতে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে নাম শুনা যাচ্ছে বিগত জাতীয় নির্বাচনে সিলেট ১ আসনের সংসদ সদস্য পার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির বাইরে থাকা বদরুদ্দোজা বদর। এছাড়াও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে নাম আছে বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি এডভোকেট জাহেদ আহমদ। কমিটিতে যুগ্ম আহবায়ক হয়ে আসতে পারেন মাঠে যারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পার্থী রয়েছেন তাদের অনেকেই।

এদিকে জেলার আহবায়ক কমিটি আসার পর থেকে বেশ কাঁদা ছোড়াছড়ি হলেও সবাই আগামী কাউন্সিলকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। নেতাদের বাসায় ভিড় জমছে উপজেলা পর্যায়ে যারা নেতৃত্বে আসতে চাচ্ছেন তাদের। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে জেলার নতুন আহবায়ক কমিটির সাথে উপজেলা ও পৌর নেতৃবৃন্দের বৈঠক অনুষ্টিত হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই উপজেলা ও পৌর কমিটি ভেঙে নতুন আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে। পরবর্তীকে উপজেলা কমিটিতে কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃবৃন্দের প্রত্যোক্ষ ভোটে জেলা বিএনপি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন। 

জেলা বিএনপি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তারা হলেন বিগত কাউন্সিলে নির্বাচিত সভাপতি আবুল কাহের শামীম, সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী,  বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ ক্ষুদ্র ঋৃন বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযুদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির সাবেক জেলা সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান। এ দিকে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয় সম্পাদক এড. সামসুজ্জামান জামান জেলা অথবা মহানগরের যে কোন একটিতে শেষ মুহূর্তে পার্থী হতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে।

সবশেষে এবার দেখার বিষয় আগামী দিনে বিএনপি সিলেট বাসীর জন্য কতটুকু যোগ্যতা সম্পন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্ব উপহার দিতে পারে।

Comment As:

Comment (0)