No icon

পেট্রোল পাম্প মালিকদের দাবি মেনে নিচ্ছে সরকার!

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের কিছু দাবি মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে জ্বালানি বিভাগ। দীর্ঘদিন নানা প্রক্রিয়ায় সরকারের কাছে ১৫ দফা দাবি উপস্থাপন করে এলেও কোনো গুরুত্ব পাচ্ছিল না।

এ অবস্থায় ১ ডিসেম্বর থেকে ২৬ জেলায় অনির্দিষ্ট কালের ধর্মঘট ডাক দেয় বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের একাংশ।

পরে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী, জ্বালানি সচিব ও বিপিসির কর্মকর্তারা ৩ ডিসেম্বর ধর্মঘটীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দাবি পূরণের বিষয়ে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পেট্রলপাম্প মালিকদের ১৫ দফার মধ্যে যেগুলো জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্ট এমন কয়েকটি দাবি মেনে নিতে জ্বালানি বিভাগ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  জ্বালানি বিভাগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মালিকদের পক্ষ থেকে দাবি ছিল ৪০ কিলোমিটারের পর পরিবহন মাসুল বৃদ্ধি; পেট্রল বিক্রির ক্ষেত্রে কমিশন বৃদ্ধি; জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে কমিশন যৌক্তিক পরিমাণে বাড়াতে হবে।

জ্বালানি বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা  সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, পেট্রলপাম্প মালিকরা যে ১৫ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে এগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট। জ্বালানি বিভাগের আওতাধীন কিছু দাবি মেনে নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বিদেশ থেকে এলে এগুলো পূরণ করা হবে। অন্যদিকে যেসব দাবির সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয় জড়িত সেগুলো ১৫ ডিসেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিপিসির এক কর্মকর্তা  বলেন, ধর্মঘট ডাকার মতো এমন পরিস্থিতি তৈরির জন্য জ্বালানি বিভাগ দায়ী। বিপিসি থেকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে পেট্রলপাম্পের মালিকদের দাবির বিষয়ে চার মাস আগে জানানো হলেও মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছিল না। এখন চাপের মুখে দাবি মেনে নিচ্ছে। এটা মন্ত্রণালয়ের জন্য সুখকর নয়। এসব সমস্যা গুরুত্বসহকারে অনেক আগেই বৈঠক করে সমাধান করা যেত।

ধর্মঘট পালনকারী অংশের সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম  এই প্রতিবেদককে বলেন, দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অনেক আগেই ধর্মঘটে যেতে চেয়েছি। কিন্তু আমাদের কেন্দ্রীয় নেতা দাবি করা মোহাম্মদ নাজমুল হক নানা ছলচাতুরী করে পেট্রলপাম্প মালিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দাবি আদায়ে আমরা প্রথমে ২৬ জেলায় ধর্মঘট আহ্বান করেছি।

প্রসঙ্গত, দাবি আদায় নিয়ে পেট্রলপাম্প মালিকদের দুই পক্ষের মধ্যে চরম বিরোধ দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষের নেতৃত্বকে মেনে নিতে পারছে না।

Comment As:

Comment (0)