No icon

মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ : বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি তথৈবচ

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ  

মানুষ হিসেবে স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন জীবনযাপন আমাদের অধিকার আর এটাই হলো মানবাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। 

তিনি বলেন, বিশ্বে প্রতিনিয়ত নানাভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। দেশেও মানবাধিকার পরিস্থিতি তথৈবচ। আমরা চাই ভবিষ্যতে যাতে সব নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা হয়, আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সেদিকে নজর রাখবেন। নির্বাচনের পরপর সংখ্যালঘু ও বিরোধী দলের সদস্যদের ওপর নির্যাতনের মতো খারাপ ঘটনার নজির আমরা দেখতে চাই না। মানবাধিকারের পক্ষে আমরা দাঁড়াই, ব্যক্তিগতভাবে অন্যের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট হই।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচীতে সংহতি প্রকাশ করে এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতির মধ্যে আমরা এবার বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন করছি। দিবসটি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে ১৯৪৮ সালের মানবাধিকারের ঘোষণার কথা। এসব বিষয় যদি সব রাষ্ট্র আমলে নিয়ে তার নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষায় সচেষ্ট হতো, তাতে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটত। আমাদের দেশেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও নানা ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। 

জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা'র সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ সভাপতি এম.এ. জলিল, বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট আবেদ রাজা, বাংলাদেশ উন্নয়ন পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম, রাজনীতিক স্বপন কুমার সাহা, মো. শহীদুননবী ডাবলু, মো. কামাল ভুইয়া, প্রকৌশলী রেজওয়ান আহমেদ, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সাইফুল ইসলাম সেকুল, হামিদা খানম, মো. মঞ্জুরুল ইসলাম কাজল প্রমুখ। 

এম. এ. জলিল বলেন, মানবাধিকারের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী প্রত্যেক মানুষ স্বাধীনভাবে সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এ বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাতিসংঘ এ বছর সমতা, ন্যায় ও মানব মর্যাদার পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, আমাদের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তার ওয়েবসাইটে সংবাদপত্রের হিসাব অনুযায়ী মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করে। তাতে ২০১৭ সালে দেখা যাচ্ছে, হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৪১৩। এর বাইরে আলাদা করে শিশুহত্যা ২৩১।

এ ছাড়া ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ, নারীর প্রতি সহিংসতার মাধ্যমে (সংখ্যাটি যথাক্রমে ৬০৫, ২৯৯, ৫৪০) মানবাধিকার যেমন লঙ্ঘিত হয়েছে, তেমনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শাস্তি, গুম, নিখোঁজ, অপহরণ, শ্রমিক মৃত্যু ও বন্দুকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যাও স্পষ্টভাবে (যথাক্রমে ১৯৮, ১৫৪, ২২, ৫১, ২৩৩, ১৬৫ ও ১৪০) এসেছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব ঘটনা একেকটা শিউরে ওঠার মতো। সংখ্যা যা-ই হোক, আমরা মনে করি, প্রতিটি ঘটনাই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যেভাবে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তা ভয়ঙ্কর। আর এখানে শুধু সংবাদমাধ্যমে যা এসেছে তা-ই দেখানো হয়েছে। এর বাইরেও যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Comment As:

Comment (0)