No icon

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে রেল দূর্ঘটনা

তাসলিমুল হাসান সিয়াম: 

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে গেছে সবকিছু। বেড়েছে প্রযুক্তিগত উন্নত সুবিধা। তবুও সবচেয়ে নিরাপদ যাত্রা হিসেবে পরিচিত রেলপথেও দূর্ঘটনা থামছে না।

গত ৩০ বছর আগেও যেসব কারণে দূর্ঘটনা ঘটেছে  এতদিন পরও এর পরিবর্তন হয়নি।রেল দূর্ঘটনার অন‍্যতম ডাবল লাইন না থাকা , ঝুঁকিপূর্ণ রেল ক্রসিংগুলোতে লোকবল নিয়োগ না দেয়া , ট্রেন পরিচালকের সঙ্গে যুক্তদের সচেতন হয়ে কাজ না করা। এই তিন কারনেই মুলত বেশিরভাগ ভাগ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে এখন পর্যন্ত সনাতন পদ্ধতিতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করাসহ দীর্ঘদিন রেললাইন মেরামত না করায় দূর্ঘটনার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট ১৪ হাজার পদ শূন্য রয়েছে তাই বর্তমানে কর্মরতদের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে ফলে কোন কাজ তাদের দ্বারা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন  করা সম্ভব হচ্ছে না।

জনবল সংকটের পাশাপাশি আরও বড়  যে সংকট রয়েছে তা হলো আধুনিক যন্ত্রপাতি ও রেলওয়ে ইঞ্জিন সংকট বর্তমানে সারা বাংলাদেশে রেল ইঞ্জিন সংখ্যা মিটার গেজ ও ব্রডগেজ মিলে ২৭৩ টি যা স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে ছিল ৪৮৬ টি ,  ইঞ্জিনের মেয়াদ ২০ বছর হলেও  এর মধ্যে বেশির ভাগ ইঞ্জিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে কোনটির ২০ কোনটির ৪০ বছর আগে । বেশকিছু ইঞ্জিন রয়েছে যেগুলোর বয়স প্রায় ৬০-৭০ ।

এতো বছরের পুরনো হওয়ায় ইঞ্জিনগুলো নষ্ট হলে সেগুলোর পার্টস পাওয়া যায় না তাই জোড়াতালি দিয়ে ঠিক করতে হয়। সুতরাং   চাহিদা ও জনসংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি রেলওয়ে ইঞ্জিন সংখ্যা তাই একটি ইঞ্জিন দিয়ে সপ্তাহে ছয়দিন বিরতিহীন ভাবে চালাতে হয়। এছাড়া ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলার আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস গুলোর চালকদের দীর্ঘ ১০-১৪ ঘন্টা ধরে কোন বিশ্রাম না নিয়ে বিরতিহীন ভাবে  ট্রেন চালাতে হয়। দীর্ঘ সময় ট্রেন চালানোয় তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় তারা সিগন্যাল অমান্য করে যার পরিনামে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থার পরিসংখ্যান বলছে ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নয় বছরে সারা দেশে ছোট বড় সবমিলিয়ে ২৯৭ টি  রেল দূর্ঘটনায় মারা গেছে ২ হাজার ২২২ জন । 

সবশেষে এই মাসের  ১১ নভেম্বর রাত তিনটায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীবাহী দুই ট্রেন তূর্ণা ও পাহাড়িকা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয় ১৬ জন এবং আহত হয় শতাধিক যাত্রী । কিন্তু এই দূর্ঘটনার ক্ষত না শুকাতেই দুই দিন পর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ঢাকা থেকে রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস  ৭৭১ আপ ট্রেনের ৭ টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ইঞ্জিন ও পাওয়ার কারে আগুন ধরে যায় এ দূর্ঘটনায় কেউ নিহত না হলেও চালক সহ ২০ জন যাত্রী আহত হয়।

গত মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,রেল দূর্ঘটনা অত‍্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। এ ব্যাপারে আমাদের রেলে যারা কাজ করেন তাদের সতর্ক করতে হবে। সেই সাথে যারা রেলের চালক তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

Comment As:

Comment (0)