No icon

টেরীবাজার ' মল24 এর পরিচালক আহমেদ রেজা'র ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ নিয়ে ' অধমের ভাবনা ' 

মোঃ আরফাত হোসেন (আরেফিন)  টেরীবাজার, চট্টগ্রামঃ

বৃহত্তম পাইকারী কাপড়ের বাজার চট্টগ্রামের টেরীবাজার "মল24" এর পরিচালক আহমেদ রেজার ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ নিয়ে অধমের ভাবনা। আজকে যারা মার্কেট খোলা নিয়ে বড় গলায় বলছেন, তাদেরকে বিনয়ের সাথে বলছি, সীমিত আকারে সামাজিক দূরত্ব¡ বজায় রেখে ৫ ঘন্টার জন্য মার্কেট/দোকান খোলা রাখলে করোনা চাষ হয়ে যাবে এমনটি নয়। 

দেশের প্রায় সব গার্মেন্টস চালু রয়েছে, গার্মেন্টস মালিকগণ প্রনোদনাও পাচ্ছে আবার তাদের শ্রমিকগণকে সরকার বিকাশের মাধ্যমে বেতন ভাতাও দিচ্ছে। কত সুন্দর ব্যবস্থা। 

গার্মেন্টস মালিকগণকে দিবেনা কেন! দেশের ভি.আই.পি ও সি.আই.পিগণ গার্মেন্টস ব্যবসার সাথে জড়িত। আমাদেরকে সরকার কেন প্রনোধনা দেবে বা আমাদের কর্মচারীদেকে কেনইবা বিকাশে টাকা পাঠাবে! আমরাতো হাট-বাজারের দোকানী। অথচ আমরাই সরকারকে ভ্যাট, টেক্স প্রদান করে থাকি । 

নারায়নগঞ্জের পাইকারী কাপড়ের বাজার “বাবুর হাট” খোলে দেয়া হয়েছে, তাও আবার বি.কে.এম.ই.এ এর স্বার্থে, যেমন বাবুর হাট খোলা থাকলে তাদের সুতার ব্যবসা চালু থাকবে। 

বিপরীতে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ, বন্ধের মধ্যে আমাদের কর্মচারী ভায়েরা ১ মাস ১৫ দিন কর্মহীন গ্রামে দিন কাটাচ্ছে। তাদেরকে আমাদের নিজ নিজ সাধ্যমত দেখছি। তবুও তা অতি নঘন্য। 

একটি জিনিস আমি লক্ষ্য করেছি, যারা দোকান বা মার্কেট বন্ধের পক্ষে টি.ভি টকশোতে সাপাই গাইছেন, তারা সবাই কোননা কোনভাবে ফিক্টস বেতনধারী, উচ্চ বিত্ত, স্বচ্ছল, অথবা ব্যাংক ডিপোজিট রয়েছে বা তার বেতন মাসের শেষে ব্যাংকে পহেলা বৈশাখের বোনাস ও ঈদ বোনাসসহ যোগ হবে। মার্কেট খোলা রাখলেও আপনার কী! না খোললেও আপনার কী! 

সরকার আপনার বেতন হতে অর্ধেক কেটে অসহায় ও মধ্যবিত্তদের মাঝে বিলিয়ে দিলে দেখতাম আপনার FB এর ষ্টেটাস এর ধরণ কী হত। আশা করী সরকারের সমালোচনায় বুলি ফোটাতেন।

আজকে আমাদের ব্যবসা বন্ধ প্রায় দেড়মাস। সমগ্র বাংলাদেশে কত লক্ষ্য দোকান বা মার্কেট আছে, প্রতিটি দোকান বা মার্কেটের মালিক ও কর্মচারীদের কী অবস্থা, তাদের চুলায় আগুন জ্বলছে কীনা তার খবর কে রাখে। আজকে শ্রমিকদের দুরদিনে সরকারের লেভার কোট, শ্রমিক আইন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন এন.জি.ও গুলো কোথায়?

আমরা এটাও বুঝতেছি করোনার মাঝে দোকান খোলাটা মঙ্গল নয়। আমি বা আমার পরিবার নিরাপদ নয়। কিন্তু কিছু করার নেই। পকেটে টাকা নেই। এভাবে চলতে থাকলে মধ্যবিত্তের ন্যায় রাতের আধারে ত্রানের জন্য বের হতে হবে। 

আমি যখন বলি কাচা বাজার, গ্লোসারী শপ, ঔষুধের দোকান খোলা কেন? তারা বলে বাজার খোলা না রাখলে খাবেন কী? ঔষদের দোকান খোলা না রাখলে ঔষধ না পেয়ে মরে যাবেন যে। আমি বলি বাজার ও ঔষধ কেনার টাকা পাব কোথায়? আমার কাছে যে টাকা নেই।

১০ হতে ১২ দিনের জন্য সীমিত আকারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ৫ ঘন্টার জন্য দোকান খোলা দিলে কতইবা বিক্রী হবে! যা বিক্রী হবে তা দিয়ে দোকান ভাড়া, দোকানের দৈনিক খরচ, কর্মচারী বেতন ও মহাজনের টাকা পরিশোধ করে কত টাকাই বা বাড়ীতে নিয়ে যেতে পারবে, এই চিন্তাই যে মালিক পক্ষ করোনার দোহায় দিয়ে মার্কেট না খোলার পক্ষে সাপাই গাইছেন তাদের কথা ভিন্ন। 

ব্যবসায়ীদের অবস্থা এখন এমন হয়েছে যে, তাদের দৈনিক বাসার বাজার খরচের টাকা নাই। আর তাছাড়া দেশে এখন কোন জিনিস থেমে নেই। দিনের বেলা একবার রাস্তায় বের হন। দেখবেন দিব্বি স্বাভাবিক। দোকান খোললেই করোনার চাষ হয়ে যাবে এমনটি নয় জনাব। 

অর্থনীতির চাকা স্বচল রাখার দায়িত্ব সরকারের। আর তাছাড়া নিজেকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব নিজের। আপনি যদি মার্কেটে নিরাপদবোধ না করেন, আসবেন না। 

সময় ও উপলক্ষ পেলেই  ফেসবুকে সুন্দর সুন্দর স্ট্যাটাস দেয়া যায়, বিনয়ের সাথে বলছি বাস্তবতা নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে সীমিত আকারে উপলদ্ধি করুন। ধন্যবাদ।

Comment As:

Comment (0)