No icon

বাঁশখালীতে তুচ্ছ ঘটনায় ৭০ বছরের বৃদ্ধা সহ ৩ মহিলার মাথা তেতলা করে দিয়েছে নরপশুরা 

 

মুহাম্মদ শাহেদ, বাঁশখালী(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার  শীলকূপ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড তবলী পাড়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নরপশু জাকের গং দের এলোপাতাড়ি কিরিস দিয়ে কুপিয়ে ৭০ বছরের বৃদ্ধা মহিলা,১৪ বছরের ৮ ম শ্রেণির ছাত্রী ও ছাত্রীর মা সহ তিন জন মহিলার মাথা তেতলা করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। 

মঙ্গলবার ২৮ জুলাই ২০২০ আনুমানিক সকাল ১০ ঘটিকার সময় আহতদের বসত ভিটায় এ ঘটনা ঘটে। 

জানা যায় দীর্ঘদিন যাবৎ স্থানীয় সন্ত্রাসী জাকের গং পাশ্ববর্তী মরহু শাকের উল্লাহ এর পরিবারের উপর সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিল।

স্থানীয় জাকের বাহিনীর বিরুদ্ধে কেউ কথা বলে না। তাদের এই সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নিয়ে বাঁশখালী থানায় বিভিন্ন সময়ে মামলাও হয়েছে।

এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারাত্মক ঘটনার সূত্রপাত হয়।  একটা ছোট পিচ্ছি মেয়ে মাষ্টার ওবায়দুল হক দের জমিতে হাঁসের বাচ্ছা ছরাচ্ছিল ওবায়দুল হকের ছোট ভাই আবদুর রহমান জাঁস চরানো মেয়েটিকে বলল তুমি কি করছো? মেয়েটি বলল হাঁস চরাচ্ছি। আবদুর রহমান বলল আমাদের জমিতে হাঁস চরাইওনা। এই কথা বলাতেই ৩য় পক্ষ জাকেরের ছেলে আবদুর রহমান এর সাথে অনার্থক কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে যায়। 

তুচ্ছ বিষয়টাকে কেন্দ্র করে জাকের এর ছেলে সাঈফুল, নুরুরা ভুক্তভোগী আব্দুর রহমানের সাথে একপর্যায়ে ঝগড়া করতে মুখোমুখি হয়ে যায়। পরে নুর মোহাম্মদ সহ তার ২ ভাই এবং তার বাবা সহ ধারলো কিরিস দিয়ে হামলা শুরু করে। মরহুম শাকের উল্লাহ পরিবারের যাকে পেয়েছে তাকে এলোপাতাড়ি কুপাতে থাকে।

উক্ত ঘটনায় রোকেয়া বেগম (৭০) কে ধারালো কিরিস দিয়ে কুপিয়ে মাথা তেতলা করে দেয়, প্রায় ৮ টি সেলাই করা হয়েছে।

সেই সাথে বাঁশখালীর বঙ্গবন্ধু হাইস্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী হাবিবা আক্তার(১৪) এর মাথায়ও গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এবং ছাত্রী হাবিবার মা জান্নাতুন বকেয়াকেও মাথায় রক্তাক্ত জখম করে। বৃদ্ধা মহিলা রোকেয়া বেগম ও  ছাত্রী হাবিবা আক্তার ও তার মা সহ বর্তমানে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়াও উক্ত ঘটনায় হাবিবার বড় ভাই মাষ্টার ওবায়দুল হক ও ছোট ভাই  আব্দুর রহমানসহ আরো অনেকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে জানা যায়। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পিচ্চি একটা মহিলার সাথে আব্দুর রহমান নামক একটি ছেলের সাথে হাঁস নিয়ে কথা হচ্ছিল। এই কথা গুলোকে কেন্দ্র করে নুর মোহাম্মদ (২৮) নামের একটি ছেলে কথা গুলো নিজেকে বলেছে বলে টেনে নেয়। পরে আব্দুর রহমানকে নুর মোহাম্মদ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে এক পর্যায়ে নুর মোহাম্মদ গং মরহুম শাকের উল্লাহর ছেলে আব্দুর রহমানদের পরিবারের উপর নির্মমভাবে হামলা চালায়।  

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা বাঁশখালী থানাকে অবহিত করলে বাঁশখালী থানার এস আই আব্দুল জলিল বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশ থেকে সাইফুল নামের এক যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এই ব্যাপারে ফৌজদারী দন্ডবিধি আইনের ধারা ৩২৩/৩২৬/৩০৭/৫০৬(২) মোতাবেক একটি মামলা রুজু হয়। যার মামলা নং ৪৯(০৭)২০২০ জি আর ২৬৯/২০২০। ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভোক্তভোগীরা জানায়, আমাদের এলাকায় জাকের এবং তার ছেলের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ট। সুস্থ জীবন যাপন করতে পারছিনা। কথায় কথায় হুমকি দিচ্ছে।

প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের এলাকায় জমি দখল থেকে শুরু করে সব কিছুতে তাদের পরিবার ত্রাস চলায়। সেই সাথে আমাদের বাড়ির সীমানা দেয়ার সময় আমাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় টাকা আদায় করে আসছে। টাকা দিতে আপারগ হওয়ায় আমাদের থেকে খালি স্টাম্পে স্বাক্ষরও নিয়েছিল। এমনকি তাদের বাড়ি তল্লাশি করলে আমাদের অনেক খালি স্টাম্প পাবেন। 

উক্ত মামলার আসামীগণ হচ্ছেন বাঁশখালী থানাধীন শীলকূপ ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের জাকের আহমেদ এর পুত্র নূর মোহাম্মদ (২৮)একই থানাধীন মৃত আসহাব মিয়ার পুত্র জাকের  আহমদ (৪৫), সাইফুল (২৬) রেজাউল করিম (২৪)। 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম মজুমদার জানান, ঘটনাটি আমি জেনেছি। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাঁশখালী থানার এসআই আব্দুল জলিলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়েছে।

এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সাইফুল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাদীপক্ষের এজাহার অনুযায়ী বাঁশখালী থানায় একটি মামলা হয়েছে। সেই সাথে বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা করছে।  

Comment As:

Comment (0)