No icon

বন্যা পীড়িত এলাকায় ম্লান ঈদের আনন্দ

 

তাসলিমুল হাসান সিয়াম, রংপুর ব্যুরো চীফঃ    

উত্তরের সবকটি নদীর পানি কমে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পানিবন্দী পরিবারগুলোর মধ্যে অনেকেই বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছেন। এখনও বাড়িতে হাটু পানি থাকায় এসব বানভাসি বাড়ি ফিরতে পারছেন না। উচু বাঁধ ও স্কুল কলেজসহ আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা বন্যার্তরা পানি কমলেও এখন বাড়ি ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

তাছাড়া রয়েছে অর্থনৈতিক সংকট। হাতে কাজ না থাকায় কিভাবে তাদের বাড়িঘর মেরামত করবেন তা তারা জানেন না। পরপর ৩ দফা দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় তারা নাজেহাল হয়ে পড়েছেন। আসন্ন কোরবানীর ঈদকে ঘিরে তাদের কোন প্রস্তুতিও নেই। সন্তান সন্তুতি ও পরিবার পরিজন নিয়ে তারা বিপাকে রয়েছেন।

এ অবস্থায় কোরবানীর ঈদের আনন্দ মলিন হয়ে গেছে। উত্তরের প্রায় জেলার প্রায় ৮ লক্ষাধিক বানভাসী এখন কষ্টে কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে হতদরিদ্র পরিবারগুলো ছেলে-মেয়েদের নতুন জামা-কাপড়তো দূরের কথা এক টুকরো মাংস মুখে তুলে দেয়ার কথাও ভাবতে পারছে না।

ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদীর পাড়ে বাস করা আকলিমা খাতুন জানান, হামার এবার ঈদ নাই বা। ৫টা মাইয়া নিয়া খুব কষ্টে আছি। স্বামী অনেক আগে মইরা গেছে। নদীর পাড়ত বাড়ি। বাড়িত পানি উঠচে কিন্তু ম্যালাদিন থাকায় ঘর খসি খসি পড়চে। এলা ট্যাকা নাই পইসা নাই ক্যামন করি ভাল করি। কি খাই ছাওয়ালগুলোক কি খোয়াই। এবার ঈদ উচা বাধত করমো। পানি না কমলে কোন ভরসা নাই।

তিস্তা পাড়ের  মরিয়ম বেওয়া জানান, ত্রাণ দেয়ার কথা শুনি পানিত সাঁতার কাটি আসনু বা। মেম্বার চেয়ারম্যান তো মোর নাম দেয় নাই। মুই কিচ্ছু পাও নাই বা। হামারগুলোর কি ঈদ আছে? গরিব মাইনসের ফির কিসের ঈদ।

এদিকে  বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারের পক্ষ   থেকে ত্রাণ ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।তাই এখনো অনেক বন্যাপিড়ীত এলাকার মানুষেরা সরকারি কোন সহায়তা পায়নি।

Comment As:

Comment (0)